প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

নামের সাথে ট্রাম্প থাকায় বন্ধুদের টিটকারিতে অতিষ্ঠ স্কুলছাত্র জশুয়া

সালেহ্ বিপ্লব : জাতির উদ্দেশ্যে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বার্ষিক ভাষণ আজ, আরো অনেক বিষয়ের মতো এই বিশেষ অনুষ্ঠানটি ঘিরেও তিনি আলোচনার পাশাপাশি সমালোচনার জন্ম দিয়েছেন। শাট ডাউনের অজুহাতে তারিখ পিছিয়েছেন ‘স্টেট অব ইউনিয়ন স্পিচ’-এর, প্রথানুযায়ী যা হওয়ার কথা ছিলো গত মাসে। বিবিসি

যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে প্রেসিডেন্টের বার্ষিক ভাষণের তারিখ বদলানোর ঘটনা এটি দ্বিতীয়। প্রথমবার ঘটেছিলো ১৯৮৬ সালের ২৮ জানুয়ারি, তখন রোনাল্ড রিগ্যান প্রেসিডেন্ট। সেদিন মহাকাশযান চ্যালেঞ্জার উৎক্ষেপন করেছিলো নাসা, আর উৎক্ষেপনের ১ মিনিট ১৩ সেকেন্ডের মাথায় ধ্বংস হয়ে যায় চ্যালেঞ্জার। মহাকাশ অভিযানের ৭ সদস্য নিহত হন, এই দুর্ঘটনাকে জাতীয় বিপর্যয় হিসেবে দেখা হয়েছিলো আর সেটাই ছিলো স্বাভাবিক। রিগ্যান তাৎক্ষণিক ‘স্টেট অব ইউনিয়ন স্পিচ’ স্থগিত করেন।

মার্কিন প্রেসিডেন্টের এই বাৎসরিক বক্তব্যের প্রচলন ঘটে ১৭৯০ সালের ৮ জানুয়ারি। সেই ঐতিহাসিক দিনে নিউ ইয়র্কের ফেডারেল হলে জাতির উদ্দেশ্যে ভাষণ দিয়েছিলেন মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রথম প্রেসিডেন্ট জর্জ ওয়াশিংটন। আর সেটাই ছিলো শুরু। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনীতি এই বক্তৃতার প্রধান বিষয়। রাজনীতির কথা তো আসেই, সেই সাথে বিশ্ব প্রেক্ষাপটে আগামীতে আমেরিকার পথচলার কৌশল কী হবে, তা তুলে ধরেন প্রেসিডেন্ট।
এবার শাট ডাউনের কারণে এমনিতেই বেকায়দায় ট্রাম্প, যদিও বিব্রতকর ঘটনার জন্ম দেয়াকে যুক্তরাষ্ট্রের ৪৫তম প্রেসিডেন্টের নিত্যকার রুটিনই বলা চলে। অর্থনৈতিক বিষয়াদি নিয়ে ঘরেবাইরে টিপ্পনি তাকে কতোটা ছুঁতে পেরেছে তা বলা মুশকিল হলেও এবারকার ‘স্টেট অব ইউনিয়ন স্পিচ’-এ আমন্ত্রিত ভেরি স্পেশাল গেস্টদের একজনকে নিয়ে তাকে বিব্রত হতেই হয়েছে।

এবার ক্যাপিটল হলে ১৩ জনকে বিশেষভাবে আমন্ত্রণ জানিয়েছেন প্রেসিডেন্ট ও ফার্স্ট লেডি, আমন্ত্রিতদের একজন উইলমিংটনের ১১ বছর বয়সী স্কুলছাত্র জশুয়া ট্রাম্প। নামের সাথ ট্রাম্প থাকার কারণে এই শিশুটির স্কুলজীবন অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছে। ট্রাম্পের আত্মীয়স্বজন না হলেও জশুয়াকে তার ট্রাম্প পদবীর কারণে ইডিয়ট ও স্টুপিড বলে খেপায় তার সহপাঠিরা। ছোট্ট শিশুটির মানসিক যন্ত্রণা রীতিমতো বিপদেই ফেলে দিয়েছে তার বাবা-মাকে।

জশুয়ার বাবা মেগান ট্রাম্প ও মা ববি বেট্রো গণমাধ্যমকে জানান, তাদের ছেলের জীবনে ট্রাম্প নামটি উৎপাত হিসেবে দেখা দেয় ২০১৫ সালে, যখন ট্রাম্প নির্বাচনে অংশ নেয়ার কথা ঘোষণা করেন। সহপাঠিরা শিশুটকে এতোই উত্যক্ত করছিলো যে, বাবা-মা তাকে স্কুল থেকে ছাড়িয়ে আনেন। এক বছর বাড়িতে থেকে পড়ালেখা করে জশুয়া, এরপর ভর্তি করা হয় মিডল স্কুলে। পরিবারের পক্ষ থেকে আশা করা হচ্ছিলো, মিডল স্কুলের সহপাঠিরা তাকে উত্যক্ত করবে না। কিন্তু তা ঘটেনি। বয়সে অনেকটা পরিণত হলেও মিডল স্কুলের শিক্ষার্থীরাও জশুয়াকে বিরক্ত ও বিব্রত করতে থাকে এবং এক পর্যায়ে তা ভীতিকর হয়ে ওঠে তার জন্য। ট্রাম্প নামের কারণে এভাবে উত্যক্ত হতে হতে সে জীবনের ওপরই বীতশ্রদ্ধ হয়ে ওঠে নতুন স্কুলে ভর্তি হওয়ার পর।

জশুয়ার মা জানান, ‘ছেলে নিজেকেই ঘৃণা করতে শুরু করে, শুধু এই ট্রাম্প পদবীর কারণে। সে এই নামটাকে ঘৃণা করে। সারাক্ষণ বিমর্ষ হয়ে থাকে এবং এভাবে বেঁচে থাকা তার কাছে নিরর্থক মনে হতে থাকে।’

শুধুমাত্র এই কারণেই সম্ভবত এবারকার ‘স্টেট অব ইউনিয়ন স্পিচ’-এ বিশেষভাবে আমন্ত্রিত ১৩ জনের মধ্যে জশুয়া ট্রাম্পের নামটিও অন্তর্ভূক্ত হয়। নামের কারণে মানসিক অত্যাচারের কবলে পড়া শিশুটির সাথে প্রেসিডেন্ট ও ফার্স্ট লেডি খুব সহানুভূতি নিয়েই কথা বলবেন। আর এতো বড়ো অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হওয়ার সম্মানও তার মানসিকভাবে ধকল সামলাতে সাহায্য করবে বলে আশা করা হচ্ছে। হোয়াইট হাউসের এক কর্মকর্তা জানান, বিশেষ সম্মান দেয়ার জন্য জশুয়া ট্রাম্প কৃতজ্ঞতা জানিয়েছে প্রেসিডেন্ট ও তার পরিবারের প্রতি।

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত