প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

কামরাঙ্গীরচরে গুঁড়িয়ে দেয়া হল ২১১ স্থাপনা

যুগান্তর : দখলদারদের হাত থেকে বুড়িগঙ্গা উদ্ধারে রাজধানীর কামরাঙ্গীরচরের হুজুরপাড়া এলাকায় আরও ২১১টি অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করেছে বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌ-পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআইডব্লিউটিএ)।

মঙ্গলবার কোনো বাধা ছাড়াই একটি ৩তলা ভবনের আংশিক, কয়েকটি দোতলা ও একতলা ভবনসহ ৩৪টি পাকা স্থাপনা উচ্ছেদ করা হয়। বিপুলসংখ্যক পুলিশের উপস্থিতিতে গুঁড়িয়ে দেয়া হয় নদীর জমি দখল করে গড়ে ওঠা স’মিল, প্লাস্টিক ও সিমেন্টের গুদাম এবং ইট-বালুর ব্যবসা।

নদী দখল করে ব্যবসা করায় তিনজনকে ৩৫ হাজার টাকা জরিমানা করেন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট। চট্টগ্রামে কর্ণফুলী নদীর তীরেও দ্বিতীয় দিনের মতো চলে উচ্ছেদ কার্যক্রম। মঙ্গলবারের অভিযানে সেখানে ছোট-বড় ৭০টি অবৈধ স্থাপনা গুঁড়িয়ে দিয়ে ৪ একর জমি দখলমুক্ত করা হয়।

এছাড়া খুলনার ময়ূর নদীসহ সংলগ্ন খালের জায়গা দখল করে গড়ে ওঠা বেশ কিছু পাকা ও আধাপাকা স্থাপনা গুঁড়িয়ে দেয়া হয়েছে। জেলা প্রশাসন ও খুলনা সিটি কর্পোরেশনের উদ্যোগে পূর্বনির্ধারিত এ উচ্ছেদ কার্যক্রম চলে।

ঢাকা নদী বন্দরের অধীনে বুড়িগঙ্গা নদীর তীরে উচ্ছেদ কার্যক্রম পরিদর্শনের সময় ঘটনাস্থলে কথা হয় বিআইডব্লিউটিএর চেয়ারম্যান কমডোর এম মোজাম্মেল হকের সঙ্গে। তিনি বলেন, সদরঘাট থেকে গাবতলী পর্যন্ত ৬০৯টি অবৈধ স্থাপনা চিহ্নিত করা হয়েছে।

সব ভেঙে দেয়া হবে, কাউকে ছাড় দেয়া হবে না। এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, উচ্ছেদ অভিযানে আমরা স্বতঃস্ফূর্ত সাড়া পাচ্ছি। অপর এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, উচ্ছেদ হওয়া জমি যাতে আবারও দখল না হয়ে যায় সেজন্য নদী তীরে ওয়াকওয়ে নির্মাণ করা হবে। নদীর ভেতর ভরাট করা অংশ খনন করা হবে।

বিআইডব্লিউটিএর দুটি এক্সকেভেটর মেশিন দিয়ে হুজুরপাড়া এলাকায় ৩তলা ভবনের অংশবিশেষ ও সংলগ্ন আরেকটি দোতলা ভবনের আংশিক ভেঙে ফেলা হয়। স্থানীয়রা জানান, অভিযানের খবর পেয়ে বাড়ির মালিকরা দু’দিন আগেই আসবাবপত্র ও গ্রিলের জানালা পর্যন্ত খুলে নিয়ে গেছেন।

বাড়ি দুটি সংলগ্ন বেশ কিছু টিনের ঘরও গুঁড়িয়ে দেয়া হয়। জানতে চাইলে বিআইডব্লিউটিএর ঢাকা নদীবন্দর কর্মকর্তা ও যুগ্ম পরিচালক কেএম আরিফ বলেন, নদীর সীমানার ভেতর ভবন দুটির কিছু অংশ পড়েছিল। এ কারণে আংশিক অংশ ভেঙে দিয়েছি। তিনি বলেন, নদীর ভেতরে যেসব স্থাপনা পড়ছে সেগুলো পুরোটাই ভাঙা হচ্ছে। অভিযান চলবে।

ঢাকা নদীবন্দরের কর্মকর্তারা জানান, গত ২৯ জানুয়ারি কেরানীগঞ্জের খোলামুড়া থেকে উচ্ছেদ শুরু হয়েছে। তিন দিন চলার পর বন্ধ ছিল। দ্বিতীয় দফায় এ অভিযান ১৯ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত চলবে। মঙ্গলবার উচ্ছেদ করা ২১১টি স্থাপনার মধ্যে দোতলা ভবন পাঁচটি, একতলা ভবন ২৮টিসহ মোট ৩৪টি পাকা, ২২টি আধা পাকা এবং ১৫৫টি টিন ও টংঘর রয়েছে। বিদ্যুতের তার থাকায় কয়েকটি স্থাপনা উচ্ছেদ করা সম্ভব হয়নি। এগুলো পরে উচ্ছেদ করা হবে। সরেজমিন ঘুরে দেখা গেছে, অভিযানের সময় নদীর জমিতে ব্যবসা করায় কয়েকজনকে হাতেনাতে ধরেন বন্দর কর্মকর্তা একেএম আরিফ। ব্যবসায়ী ওমর ফারুক বলেন, টিনশেড দোকান ৯ হাজার টাকায় ভাড়া নিয়ে ব্যবসা করছিলাম। কেউ আমাকে জানায়নি এটি নদীর জমিতে নির্মিত হয়েছে।

হঠাৎ করেই সকালে শুনলাম উচ্ছেদ অভিযান হবে। তাই সিমেন্টের বস্তা সরাতে এলে আমাকে আটক করে ১৫ হাজার টাকা জরিমানা করা হল। এমন আরেক ব্যবসায়ী আবদুল আজিজকে আটক করেন বন্দর কর্মকর্তা। তিনি জানান, মাসে ২০ হাজার টাকা দোকান ভাড়া নিয়ে দুই বছর ধরে ব্যবসা করছিলাম। দোকান ভাড়ার চুক্তিপত্রও আছে। ১০ হাজার টাকা করে জরিমানা করা হয় লিটন ইসলাম ও আবুল কালামকে।

চট্টগ্রাম : কর্ণফুলী নদীর সদরঘাট থানার লবণপট্টি এলাকায় মঙ্গলবারের অভিযানের নেতৃত্ব দেন উচ্ছেদ কার্যক্রমের সমন্বয়ক তাহমিলুর রহমান ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট তৌহিদুল ইসলাম। তৌহিদুল ইসলাম জানান, অভিযানের দ্বিতীয় দিনে ৩০টি অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করে একটি খাল উদ্ধার করা হয়েছে। আরও ৪০টি স্থাপনা দখলকারীরা নিজেরাই সরিয়ে নিয়েছে। সোমবারের উচ্ছেদের অবশিষ্টাংশও সরানো হয় মঙ্গলবার। প্রথম দিন সোমবার ১ কিলোমিটার এলাকা দখলমুক্ত করা হয়। ৮০টি অবৈধ স্থাপনা সরিয়ে ৪ একর ভূমিও উদ্ধার করা হয়।

খুলনা : অভিযানের শুরুতেই ময়ূর নদীর দুই পাড়ের অবৈধ কাঁচা, সেমিপাকা, পাকা স্থাপনা ক্রেন দিয়ে গুঁড়িয়ে দেয়া হয়েছে। অভিযানের নেতৃত্ব দেন খুলনা জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যজিস্ট্রেট জাকির হোসেন। মঙ্গলবার সকালের অভিযানে ৬টি দোকান, তিনটি ভবন ও সিটি কর্পোরেশনের পার্কের সিঁড়ির বর্ধিতাংশ ভেঙে ফেলা হয়। ময়ূর নদী ও সংলগ্ন ২২টি খালের প্রায় ১৪ হাজার বর্গমিটার জায়গা বেদখল হয়ে আছে বহুদিন আগেই। এর মধ্যে ময়ূর নদীর বেদখল জমির পরিমাপ ১০৭৫ বর্গমিটার। নদীর আয়তন কমেছে চার দশমিক ১৭ শতাংশ।

জাকির হোসেন বলেন, জেলা প্রশাসনের নেতৃত্বে সিটি কর্পোরেশনের সহযোগিতায় ময়ূর নদীসহ মহানগরীর খালের দখলমুক্ত করার কাজ শুরু হবে। নদী ও ২২ খালের স্বাভাবিক গতি প্রবাহ ফিরিয়ে আনা হবে। পরে নদীর তীরে ওয়াকওয়ে নির্মাণ করা হবে। শিগগির মাইকিং করার কাজ শুরু হবে।

সোমবার খুলনার মেয়র তালুকদার আবদুল খালেক ও জেলা প্রশাসক হেলাল হোসেন নদী ও খালের বর্তমান অবস্থা সরেজমিন পরিদর্শন করেন। জেলা প্রশাসন, সিটি কর্পোরেশন, পানি উন্নয়ন বোর্ড, এলজিইডি ও সেটেলমেন্ট অফিস যৌথভাবে দখলমুক্ত করার কাজ বাস্তবায়ন করছে। উচ্ছেদ কার্যক্রম সফল করতে ১১ সদস্যের টেকনিক্যাল কমিটি এবং ২৫ সদস্যের উদ্ধার কমিটি গঠন করা হয়েছে।

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বাধিক পঠিত