প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

আসামিকে বাঁচাতে দুর্নীতি মামলার নথি হাওয়া

সমকাল : পাঁচ বছর ধরে ‘নিখোঁজ’ দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) দায়ের করা মামলার নথি। চট্টগ্রামের আদালত থেকে মামলাটি খাগড়াছড়ির আদালতে পাঠানোর দাবি করা হলেও কোথাও খোঁজ মিলছে না। মামলাটি চট্টগ্রামের আদালতেও নেই, পৌঁছেনি খাগড়াছড়ির জেলা জজ আদালতেও! দুদক কর্মকর্তারা পাঁচ বছর ধরে এ দুটি স্থানে মামলাটির হদিস পেতে বহু চেষ্টা ও তদবির করে ব্যর্থ হয়েছেন। এ কারণে সরকারি অর্থ আত্মসাৎ করা আসামিকে বিচারের মুখোমুখি করা যায়নি এই দীর্ঘ সময়। অভিযোগপত্র (চার্জশিট) দেওয়ার পর বিচার শুরুর জন্য আনুষ্ঠানিক অভিযোগ গঠনও করা যাচ্ছে না।

দুদক খাগড়াছড়ি ও রাঙামাটি অঞ্চলের উপপরিচালক ফজলুল হক বলেন, ‘আমি গত সপ্তাহে দুদক প্রধান কার্যালয়ে বদলি হয়ে চলে গেছি। মাত্র দু’মাস দায়িত্ব পালনকালে মামলার নথির হদিস না পাওয়ার বিষয় আমার নজরে আসেনি।’ এর আগে দায়িত্ব পালন করা রাঙামাটি ও খাগড়াছড়ি অঞ্চলের উপপরিচালক (বর্তমানে পরিচালক) শফিকুল ইসলাম সম্প্রতি বলেন, ‘আমি ওখান থেকে বদলি হয়ে চলে আসার কিছুদিন আগে একটি দুর্নীতি মামলার নথি  দুটি আদালতের কোথাও পাওয়া যাচ্ছে না মর্মে দুদকের কোর্ট কর্মকর্তা তথ্য দেন। এরপর মামলাটি খুঁজতে সংশ্নিষ্টদের নির্দেশ দিয়েছিলাম। কিন্তু আমি ওই কর্মস্থল থেকে বদলি হয়ে চলে যাওয়ার সময়ও মামলাটি খুঁজে পাওয়া যায়নি।’

চট্টগ্রাম বিভাগীয় স্পেশাল জজ আদালতের বেঞ্চ সহকারী মো. মুছা বলেন, মামলাটি ২০১৪ সালে চট্টগ্রাম আদালত থেকে খাগড়াছড়ির সিনিয়র স্পেশাল জজ আদালতে ডাকযোগে পাঠানো হয়েছে। দীর্ঘদিনেও কেন মামলাটি আদালতে পৌঁছেনি তা বোধগম্য নয়। আমাদের এখান থেকে মিসিং (বেহাত) হওয়ার কোনো সুযোগ নেই।

খাগড়াছড়ি আদালতে দায়িত্বপ্রাপ্ত দুদকের জিআরও (এএসআই) নুরুল হক বলেন, ‘চট্টগ্রাম বিভাগীয় স্পেশাল জজ আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী ২০১৩ সালের ১৯ ফেব্রুয়ারি দুর্নীতি মামলাটি চট্টগ্রাম বিভাগীয় আদালত থেকে খাগড়াছড়ি আদালতে পাঠাতে একটি স্মারক নম্বর পড়ে। রহস্যজনক কারণে এর এক বছর পর অর্থাৎ ২০১৪ সালের ২৪ ফেব্রুয়ারি চট্টগ্রাম আদালত নথিটি ডাকযোগে পাঠানো হয়েছে মর্মে দাবি করছেন চট্টগ্রাম বিভাগীয় স্পেশাল জজ আদালতের বেঞ্চ সহকারী। দীর্ঘদিন ধরে আমরা মামলাটি চট্টগ্রাম আদালতেও খুঁজে পাচ্ছি না, খাগড়াছড়ি আদালতেও আসেনি। মামলার নথি না পাওয়ায় বিচারিক প্রক্রিয়া বন্ধ রয়েছে।’

জ্যেষ্ঠ আইনজীবী আবদুল্লাহ আল বেলাল বলেন, মামলার নথি না পেলে আসামিকে কোনোভাবেই আইনের আওতায় আনা সম্ভব নয়। কারণ দালিলিক সাক্ষ্য-প্রমাণই যদি না থাকে, তাহলে কারও বিরুদ্ধে মুখস্থ অভিযোগ আনা যায় না। আসামিকে বাঁচাতেই মামলার নথি কোনো অসৎ চক্র গায়েব করে দিয়েছে।

দুদক সূত্রে জানা গেছে, ২০০২ সালে জাতীয় মহিলা সংস্থা খাগড়ছড়ি শাখায় ভুয়া ঋণ বিতরণ দেখিয়ে ৬৪ হাজার ৫৪২ হাজার টাকা আত্মসাতের অভিযোগ পায় দুদক। প্রাথমিক তদন্ত করে ঘটনার সত্যতা পাওয়ায় ২০০২ সালের ১৯ ফেব্রুয়ারি খাগড়াছড়ি সদর থানায় একটি মামলা দায়ের করে দুদক। মামলায় জাতীয় মহিলা সংস্থা খাগড়াছড়ির সাবেক কো-অর্ডিনেটর ফজলুল হককে আসামি করা হয়। তদন্ত শেষে দুদক ২০১১ সালের ১১ আগস্ট খাগড়াছড়ি জেলা জজ আদালতে চার্জশিট দাখিল করেন। এরপর খাগড়াছড়ি জেলা জজ আদালত থেকে বিচারের জন্য মামলাটি (বিভাগীয় ৩২/১৩) পাঠানো হয় চট্টগ্রাম বিভাগীয় স্পেশাল জজ আদালতে। কিন্তু পরে সরকার জেলা ও দায়রা জজ আদালতকে স্পেশাল জজ আদালতের মর্যাদা দেওয়ায় মামলাটি বিচারের জন্য সেখান থেকে খাগড়াছড়ি জেলা ও দায়রা জজ আদালতে ফেরত পাঠানোর আদেশ দেন বিচারক।

দুদক কর্মকর্তারা জানান, মামলার নথিটি খুঁজতে গিয়ে দুদক কর্মকর্তা দেখেন চট্টগ্রাম থেকে খাগড়াছড়িতে পাঠানোর জন্য স্মারক নম্বর দেওয়ার পর এক বছর কেটে গেছে। তার পরও কেন মামলাটি পাঠানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়নি, তা রহস্যজনক। আদালত-সংশ্নিষ্ট কোনো অসাধু চক্র মামলার নথিটি গায়েব করে দিয়েছে, যাতে আসামিকে আর বিচারের মুখোমুখি হতে না হয়।

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত