প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

বাংলাদেশের পক্ষে আমি একজন ভালো সেলসম্যান হতে চাই : ঢাকায় নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত

স্বপ্না চক্রবর্তী : ঢাকায় নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত আর্ল রবার্ট মিলার বলেছেন, বাংলাদেশের পক্ষে আমি একজন ভালো সেলস ম্যান হতে চাই। বাংলাদেশের সাথে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনৈতিক ও বাণিজ্যিক সম্পর্ক বেশ ভালো। বাংলাদেশে তৈরী পোশাক কারখানাগুলো কাজের পরিবেশ সুনিদিষ্ট উন্নতি হয়েছে। তৈরী পোশাক কারখানাগুলোর শ্রমিকদের নিরাপদ কাজের পরিবেশ সৃষ্টি হয়েছে, ইলেক্ট্রিক সিকিউরিটি নিশ্চিত হয়েছে। শ্রমিকদের অধিকার নিশ্চিত করতে গুরুত্বের সাথে কাজ করছে বাংলাদেশ। তাই মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশের পণ্য রপ্তানির বৃদ্ধির ব্যাপারে আমার সর্বোচ্চ সহায়তা থাকবে।

মঙ্গলবার সচিবালয়ে বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুন্শির সাথে এক মতবিনিময় সভাশেষে সাংবাদিকদের তিনি এসব কথা বলেন। তিনি বলেন, দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্য বৃদ্ধি করলে উভয়ই উপকৃত হবে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশে সিঙ্গেল কান্ট্রি হিসেবে সবচেয়ে বড় তৈরী পোশাকের বাজার। দু’দেশের মধ্যে বাণিজ্য ব্যবধান অনেক। বাংলাদেশে মার্কিন বাণিজ্য বৃদ্ধি করতে কমার্শিয়াল কাউন্সিলয় নিয়োগের প্রক্রিয়া চলছে।

এসময় বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুন্শি বলেছেন, বাংলাদেশ ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে সম্পাদিত টিকফা চুক্তি অর্থবহ করতে বাংলাদেশে মার্কিন বিনিয়োগ বাড়ানো প্রয়োজন। বাংলাদেশ সকল ক্ষেত্রে এগিয়ে যাচ্ছে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশের তৈরী পোশাকের বড় বাজার। গত ২০১৭-২০১৮ অর্থ বছরে বাংলাদেশ মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে প্রায় ৬ বিলিয়ন মার্কিন ডলার মুল্যের পণ্য রপ্তানি করেছে, একই সময়ে বাংলাদেশ আমদানি করেছে প্রায় ১.৭ বিলিয়ন মার্কিন ডলার মূল্যের পণ্য। তাই আমরা টিকফা চুক্তি অর্থবহ করতে মার্কিন বিনিয়োগ বাড়ানোর আহ্বান জানাচ্ছি। তিনি বলেন, ২০২১ সালের মধ্যে বাংলাদেশ ৬০ বিলিয়ন মার্কিন ডলার রপ্তানির লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে। এর মধ্যে ৫০ বিলিয়ন মার্কিন ডলার ধরা হয়েছে তৈরী পোশাক রপ্তানি থেকে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে তৈরী পোশাক রপ্তানি বৃদ্ধির সুযোগ রয়েছে। যে কোন পরিমান তৈরী পোশাক রপ্তানির সামর্থ অর্জন করেছে বাংলাদেশ। বাংলাদেশ মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সহযোগিতা চায়, ঘনিষ্ট ভাবে অর্থনৈতিক ও বাণিজ্য ক্ষেত্রে কাজ করতে চায়।

বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশে বিনিয়োগের পরিবেশ সৃষ্টি হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার উদ্যোগে দেশের বিভিন্ন স্থানে ১০০টি স্পেশাল ইকোনমিক জোন গড়ে তোলা হচ্ছে, এগুলোর কাজ দ্রুত এগিয়ে চলছে। এ গুলোতে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র বিনিয়োগ করলে লাভবান হবে। বাংলাদেশে এনার্জি, পাওয়ার, শিপিং, এলএনজি এবং এয়ারলাইন্স সেক্টরে প্রায় ২ বিলিয়নের বেশি মার্কিন বিনিয়োগ রয়েছে। এ বিনিয়োগের পরিমান অনেক বৃদ্ধির সুযোগ এসেছে। এতে করে উভয় দেশ লাভবান হবে।

টিপু মুন্শি বলেন, বাংলাদেশে শ্রমিকদের কাজের পরিবেশ ও নিরাপত্তায় সুনিদিষ্ট পরিবর্তন এসেছে। এ্যাকর্ড, অ্যালায়েন্স ও ন্যাশনাল ইনেশিয়েটিভ কারখানাগুলো পরিদর্শন করেছে। এখন পর্যন্ত ৯০ ভাগের বেশি কারাখানা পরিদর্শন সম্পন্ন হয়েছে। তৈরী পোশাক কারখানাগুলো সংস্কার করা হয়েছে। বাংলাদেশে নতুন নতুন গ্রীন ফ্যাক্টরি গড়ে উঠেছে। শ্রমিকদের মজুরী সময়োপযোগি করা হয়েছে। সংগত কারনে তৈরী পণ্যের উৎপাদন ব্যয় বেড়েছে। এ সকল পণ্যের উপযুক্ত মূল্য নির্ধারন করা প্রয়োজন। এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ গ্রহনের জন্য মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের নবনিযুক্ত রাষ্ট্রদূতের প্রতি আহবান জানানো হয়েছে বলেও জানান তিনি।

এ সময় আর উপস্থিত ছিলেন বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সচিবের দায়িত্বে অতিরিক্ত সচিব (প্রশাসন) এস এম রেদওয়ান হোসেন, ডব্লিউটিও সেলের মহাপরিচালক মুনীর চৌধুরী এবং রপ্তানি শাখার অতিরিক্ত সচিব শরিফা খান।

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বাধিক পঠিত