প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

রোহিঙ্গা ইস্যু আঞ্চলিক সংকটে রূপ নিতে চলেছে : কানাডার প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ দূত

তরিকুল ইসলাম : বাংলাদেশ সফররত কানাডার প্রধানমন্ত্রী জাস্টিন ট্রুডোর বিশেষ দূত বব রে বলেছেন, রোহিঙ্গা সংকটের বিচিত্র দিক রয়েছে। তা একই সঙ্গে জটিল ঐতিহাসিক, ভৌগলিক ও আদর্শগত দ্বন্দ্বের ফলাফল।রোহিঙ্গা ইস্যু আঞ্চলিক সংকটে রূপ নিতে চলেছে। যার দীর্ঘমেয়াদী প্রভাব এই অঞ্চলের ভবিষ্যৎ রাজনীতি ও অর্থনীতির উপর পড়বে।

মিয়ানমারের পশ্চিমাঞ্চলের প্রাকৃতিক ও খনিজ সম্পদ-সমৃদ্ধ ভূমি দেশটির ক্ষমতার প্রধান অংশীদার সেনাবাহিনী এবং আন্তর্জাতিক স্বার্থগোষ্ঠীর বহুমুখী প্রতিযোগিতা রয়েছে। তাই এ সংকট ভিন্ন মাত্রা পেয়েছে। কর্তৃত্ববাদী শাসন, ধর্মীয় নিধন এবং প্রাকৃতিক সম্পদ এই সংকটের বিভিন্ন প্রবণতা তৈরি করেছে।

মঙ্গলবার রাজধানীর ওয়েস্টিন হোটেল আয়োজিত এক আলোচনা এসব কথা বলেন কানাডার প্রধানমন্ত্রীর মিয়ানমার বিষয়ক বিশেষ দূত। রিডিং ক্লাব ট্রাস্টের সহায়তায় এই অনুষ্ঠানটি আয়োজন করে ঢাকায় কানাডিয়ান হাইকমিশন।

রোহিঙ্গারা মিয়ানমারের নাগরিক তাদের মিয়ানমারেই ফিরে যেতে হবে উল্লেখ করে
বব রে বলেন, আজ হোক কাল হোক তাদের সেখানেই ফিরে যেতে হবে। তবে তাদের নিরাপদ, টেকসই ও স্বেচ্ছায় প্রত্যাবর্তনের সুযোগ নিশ্চিত করতে হবে। এ ইস্যুতে বাংলাদেশের নেওয়া উদ্যোগ এখনো পর্যন্ত‌ স্বল্পমেয়াদী পদক্ষেপের মধ্যেই সীমাবদ্ধ।বর্তমান ভূ-রাজনীতির প্রেক্ষিতে মিয়ানমার সুবিধাজনক অবস্থানে আছে বলে মন্তব্য যোগ করেন।

তিনি বলেন, দুই বৃহৎ প্রতিবেশি ভারত ও চীন রোহিঙ্গা ইস্যুতে মায়ানমারের অবস্থানকে সমর্থন করায় তাঁরা রাজনৈতিকভাবে সুবিধাজনক অবস্থানে রয়েছে। অন্যদিকে, রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিকভাবে দূরবর্তী অবস্থানে থাকায় যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপীয় পরাশক্তিগুলো মিয়ানমারের রিরুদ্ধে কোনো দৃঢ অবস্থান গ্রহণ করতে পারছে না। বাংলাদেশের পক্ষ থেকে মিয়ানমার সরকারের সঙ্গে ব্যাপক ও দীর্ঘমেয়াদী আলোচনার মাধ্যমে এই সংকটের দীর্ঘমেয়াদী সুরাহার পথ খোঁজা প্রয়োজন।

অনুষ্ঠানে প্যানেল আলোচনায় সাবেক নির্বাচন কমিশনার এম. সাখাওয়াত হোসেন বলেন, অতীতে আমরা মিয়ানমারের দিকে বিশেষ নজর দিইনি। রোহিঙ্গাদের প্রত্যাবাসনের জন্য পাঁচ-দশ বছরও লেগে যেতে পারে। যেহেতেু এটি একটি আঞ্চলিক সংকট, ফলে তা নিরসনের ক্ষেত্রে একমাত্র চীনই আমাদের সহায়তা করতে পারে। চীনের সঙ্গে সরাসরি কূটনৈতিক সহায়তায় তা সম্ভব না হলে বন্ধু রাষ্ট্রগুলো
যেমন জাপান, কিংবা আসিয়ানের সদস্য রাষ্ট্রসমূহের কাছে সহযোগিতা নেওয়া যেতে পারে।

মেজর জেনারেল (অব.) এএনএম মুনিরুজ্জামান বলেন, রোহিঙ্গা ইস্যুর এক বছর পার হয়েছে, কিন্তু সমাধানের পথে আমরা বিশেষ এগুতে পারিনি। রোহিঙ্গা শরণার্থী সমস্যা আমাদের জন্য নিরাপত্তা সংকট তৈরি করছে। বিশেষত আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক সন্ত্রাসী সংগঠনগুলো রোহিঙ্গাদের মধ্যে তাদের সদস্য সংগ্রহের চেষ্টা করছে।

রাজা দেবাশীষ রায় বলেন, রোহিঙ্গা ইস্যুতে মায়ানমারের সঙ্গে যোগাযোগের ক্ষেত্রে দুই দেশের সিভিল সমাজের মধ্যকার সংলাপ ও আলোচনা কার্যকরী হতে পারে। প্যানেল আলোচক হিসেবে আরো উপস্থিত হয়েছিলেন সাবেক রাষ্ট্রদূত হুমায়ুন কবির ও পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ার আলম। অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন ইনস্টিটিউট ফর পলিসি অ্যাডভোকেসি অ্যান্ড গভর্ন্যন্স (আইপিএজি)-এর চেয়ারম্যান অধ্যাপক সৈয়দ মুনীর খসরু।

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত