প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

সংসদে বিরোধীদলের আসন নিয়ে ১৪ দলে অস্বস্তি

সমীরণ রায়: সম্প্রতি শেষ হয়েছে একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন। এতে নিরঙ্কুশ জয় পায় ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগের নেতৃত্বাধীন ১৪ দলীয় জোট। কিন্তু বিপত্তী দেখা দিয়েছে অন্য জায়গায়। সদ্য নির্বাচিত এমপিদের সংসদ অধিবেশন শুরু হয়েছে গত ৩০ জানুয়ারি। কিন্তু ক্ষমতাসীন দলের প্রধান রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপির নেতৃত্বাধীন জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট মোট ৮টি আসন পেয়েছে। সেকারণে বিএনপি রাজনৈতিক প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী হলেও সংসদে বিরোধীদলের ভূমিকায় থাকার কোনো সুযোগ নেই। ফলে জাতীয় পার্টির সঙ্গে ১৪ দলের শরিকদের বিরোধী দলের আসনে ভূমিকায় রাখতে চায় আওয়ামী লীগ । এতে করে ১৪ দলের শরিকরা রয়েছে অস্বস্তিতে।

জানা গেছে, জাতীয় সংসদে ১৪ দলের অবস্থান কী, তা নিয়ে অস্বস্তিতে রয়েছে জোটের শরিকরা। ফলে একাদশ সংসদে শরিক দলগুলোর অবস্থান নিয়ে চলছে টানাপোড়েন। তারা সংসদে আনুষ্ঠানিক না অনানুষ্ঠানিকভাবে বিরোধীদল হবে, তাও স্পষ্ট করেনি আওয়ামী লীগ। তাই বিরোধীদলের আসনে বসতে ১৪ দলের শরিকরা বিব্রতকর পরিস্থিতিতে রয়েছে। পাশাপশি ১৪ দল ও সরকারের মধ্যে ঐক্য থাকলেও সংবিধানের ৭০ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী শরিক নেতারা বিরোধীদলের ভূমিকা কতোটুকু পালন করতে পারবেন, তা নিয়েও সন্দেহ দেখা দিয়েছে। এতে দশম জাতীয় সংসদে জাতীয় পার্টির মতো গৃহপালিত বিরোধীদলের ভূমিকায় থাকতে হবে কীনা, তাও পরিষ্কার করেনি আওয়ামী লীগ। অন্যদিকে, আওয়ামী লীগের নৌকা প্রতীকে ১৪ দলের শরিকরা নির্বাচনে অংশগ্রহণ করায় অস্বস্তি আরও বেড়েছে। এমন পরিস্থিতিতে আওয়ামী লীগ ও ১৪ দলের মধ্যে দুরত্ব আরও বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে। এছাড়াও মন্ত্রিসভায় শরিক দলের নেতাদের না রাখাও মনস্তাস্তিক দুরত্বও বাড়ছে আওয়ামী লীগের সঙ্গের।

ক্ষমতাসীন দলের শীর্ষ নেতারা মনে করেন, একাদশ নির্বাচনে আওয়ামী লীগের নিরঙ্কুশ বিজয় হয়েছে। এখন প্রয়োজন কার্যকর সংসদ। তাই সংসদ কার্যকর রাখতে জোটের শরিকরা বিরোধীদলের ভূমিকায় থাকতেই পারে। শুধু বিরোধিতার জন্য নয়, সংসদ প্রাণবন্ত রাখা ও মানুষের অধিকার আদায়েও সোচ্চার থাকবে ১৪ দল। এখানে জোট শরিকদের অস্বস্থিতে ভোগার কী আছে?

১৪ দলের অন্যতম শরিক জাসদের সভাপতি হাসানুল হক ইনু মনে করেন, সংসদের ভেতরে ও বাইরে সরকারের গঠনমূলক সমালোচনা করা যেতেই পারে। তবে বিরোধীদল যেহেতু দুর্বল বলেই ১৪ দলেরর শরিকরা এই ভূমিকা রাখতে চায় সরকার। কারণ শক্তিশালী বিরোধীদল মানেই বিএনপি-জামায়াত হতে হবে, বিষয়টা এমন নয়।

আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের বলেছেন, ১৪ দলের শরিকরা বিরোধী দলে থাকলে জোটের আদর্শে কোনো ব্যত্তয় হবে না।
এ প্রসঙ্গে আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য ও ১৪ দলের মুখপাত্র মোহাম্মাদ নাসিম বলেন, আনুষ্ঠানিকভাবে বিরোধীদল না হলেও সংসদে বিরোধীদলের ভূমিকায় থাকবে ১৪ দলের শরিকরা। সংসদে সরকারি ও বিরোধীদল হতে হবে মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের শক্তি। শরিকরা সংসদ ও বাইরেও সরকারের গঠনমূলক সমালোচনা করবে।

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বাধিক পঠিত