প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

হাউকিউলিসের হদিস পায়নি পুলিশ

নিউজ ডেস্ক: একজন ‘হারকিউলিস’কে খুঁজছে বাংলাদেশ পুলিশ। না, এই হারকিউলিস সেই রোমান হিরো বা দেবতা নয়। বাংলাদেশের এই হারকিউলিস একজন ‘সিরিয়াল কিলার’। গত কয়েকদিনে সে কমপক্ষে তিনজন ধর্ষককে হত্যা করেছে। এমন ঘটনা নিয়ে বিদেশী মিডিয়ায়ও এখন বেশ লেখালেখি হচ্ছে। অনলাইন ব্রেইতবার্ত বাংলাদেশের ওই ‘হারকিউলিস’কে নিয়ে রিপোর্ট প্রকাশ করেছে। এতে বিদেশী বিভিন্ন পত্রিকার উদ্ধৃতি দিয়ে বলা হয়েছে, স্থানীয় কর্তৃপক্ষ ওই হত্যাগুলোর তদন্ত করছে। কিন্তু এখন পর্যন্ত তারা কে এই হারকিউলিস তার কোনো ক্লু পায়নি। সূত্র: যুগান্তর

স্টেটসম্যান পত্রিকার মতে, গত দুই সপ্তাহে একই এলাকায় বাংলাদেশ পুলিশ তিনটি মৃতদেহ উদ্ধার করেছে। এসব লাশের গলায় একটি করে নোট ঝুঁলানো। তার একটিতে লেখা- ‘আমি রাকিব। ভান্ডারিয়ার একটি মাদ্রাসা ছাত্রীকে আমি ধর্ষণ করেছি। একজন ধর্ষকের এটাই হলো পরিণতি। ধর্ষকরা সাবধান হও।- হারকিউলিস’।

স্থানীয় ডেইলি স্টার পত্রিকার খবর, ১৪ই জানুয়ারি ওই মাদ্রাসা ছাত্রী তার নানাবাড়ি থেকে ফেরার পথে গণধর্ষণের শিকার হয়। এ নিয়ে তার পিতা একটি মামলা করেন দু’সন্দেহভাজনের নামে। তারা হলো রাকিব ও সজল। তাদেরকে মৃত অবস্থায় উদ্ধার করা হয়েছে। ‘হারকিউলিস’ তাদেরকে হত্যা করে গলায় ওই নোট ঝুলিয়ে দিয়েছে। ১লা ফেব্রুয়ারি কর্তৃপক্ষ ২০ বছর বয়সী সন্দেহভাজন ওই ধর্ষক রাকিবের মৃতদেহ উদ্ধার করে। স্থানীয় থানার পুলিশ প্রধান এম জহিরুল ইসলাম বলেছেন, রাকিবের মাথায় বুলেটের ক্ষত রয়েছে।

এর কয়েকদিন আগে ২৪ শে জানুয়ারি স্থানীয় আইন প্রয়োগকারীরা দ্বিতীয় সন্দেহভাজন ধর্ষক সজলের মৃতদেহ উদ্ধার করে। তার গলায়ও ওই একই নোট বা চিরকুট ঝুলানো। কর্তৃপক্ষ মনে করছে তাকেও একইভাবে গুলি করে হত্যা করা হয়েছে।
১৭ই জানুয়ারি পুলিশ আরেকজন ধর্ষক রিপনের মৃতদেহ উদ্ধার করে। তার গলায়ও একই রকম চিরকুট ঝুলানো ছিল। ১৭ই জানুয়ারি কর্তৃপক্ষ অজ্ঞাত ১৮ বছর বয়সী একজন কারখানা শ্রমিককে তার বাসায় মৃত অবস্থায় উদ্ধার করে। রিপন ও তার তিন সহযোগীর বিরুদ্ধে তিনি ধর্ষণের মামলা করার কয়েক ঘন্টার মধ্যে এ ঘটনা ঘটে।

গত বছরের শুরুর দিকে স্ট্রেইটস টাইম রিপোর্ট করে যে, ধর্ষণ, বিশেষ করে শিশুদের বিরুদ্ধে যৌন নির্যাতন বেড়ে গেছে বাংলাদেশে। বাংলাদেশ শিশু অধিকার ফোরাম নামের এনজিওকে উদ্ধৃত করে দ্য স্ট্রেইটস টাইম। তাতে বলা হয়, প্রতি মাসে বাংলাদেশে ২৮টি শিশুকে হত্যা করা হয়। ধর্ষিত হয় ৪৯ জন। মনে করা হয়, বিচারে দীর্ঘসূত্র ও দায়মুক্তির যে সংস্কৃতি গড়ে উঠেছে তার কারণে এসব ঘটনা ঘটছে। অপরাধীরা অপরাধ করার সাহস পাচ্ছে।

এর পরে এক রিপোর্টে ওই ফেরাম থেকে বলা হয়, ২০১৭ সালে অপরাধিরা ৩৩৯ জনকে হত্যা করেছে। ধর্ষণ করেছে ৫৯৩ জনকে। আগের বছরে তুলনায় হত্যা বেড়েছে শতকরা ২৮ ভাগ ও ধর্ষণ বেড়েছে শতকরা ৩৩ ভাগ। ২০১৮ সালে পুলিশ নারী ও শিশুদের বিরুদ্ধে নিষ্পেষণের ১৬৫২৩টি ঘটনা রেকর্ড করেছে। এর মধ্যে রয়েছে ধর্ষণ।

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বাধিক পঠিত