প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

দুদক কেন প্রত্যাশা মিটাতে পারে না

আফসান চৌধুরী : দুদকের করা মামলায় নির্দোষ জাহালমকে বেশ কয়েক বছর কাটাতে হলো কারাগারে। তাকে ভুল লোক হিসেবে সনাক্ত করেছিলো দুদক। বিষয়টি শুধু ভয়ঙ্কর, আতঙ্কজনক বা দুঃখজনকই নয়, তার চেয়েও বেশি কিছু। বিষয়টি অস্বাভাবিক একারণেই যে, দেশে দুদক দুর্নীতির বিরুদ্ধে লড়াই করছে। দুর্নীতির বিরুদ্ধে প্রধানমন্ত্রীর ‘জিরো টলারেন্স’ এর ঘোষণা ২০১৮ সালের এক বিষ্ময়কর বিজয়। সেখানে জাহালমের ঘটনা দেশের জাতীয় নীতির সাথে সাংঘর্ষিক।

যদি এই বিষয়টি নিয়ে প্রথম আলো প্রতিবেদন প্রকাশ না করতো এবং আদালত যদি ঐ প্রতিবেদনটি বিবেচনায় না নিত, তাহলে ঐ ব্যক্তিকে এখনও কারাগারেই কাটাতে হতো। তিন বছরে নিজেদের এই বিশাল ভুলকে আমলে নেয়নি দুদক। এ তো গেলো একটি ঘটনা। সবচেয়ে ভয়ঙ্কর বিষয় হলোÑ এখনও এ ধরনের কতগুলো মিথ্যা মামলা রয়েছে এবং এ ধরনের অদক্ষতার কারণে সত্যিকারের দুর্নীতিবাজ কত লোক বহাল তবিয়তে ঘুড়ে বেড়াচ্ছে?

বাংলাদেশে কর্মদক্ষতা ও সামর্থ্যরে বিষয়টি আমরা সবসময়ই উপেক্ষা করে আসছি। এর একটা কারণ হতে পারে আমাদের অর্থনীতি, যেখানে সফলতার চেয়ে উপর মহলের সাথে যোগাযোগ থাকাটা বেশি জরুরি। সে কারণেই বেসরকারি খাতের চেয়ে সরকারি খাতে কর্মরতদের পারফরম্যান্স এতোটা নিম্নমানের। কারণ এ খাতে কোন নিয়ম-নীতির বালাই নেই। এ ধরনের সমাজে দুর্নীতি কোন আকস্মিক বিষয় নয়, বরং এটিই যেন নিয়ম। এর মানে সরকারের শাসন পদ্ধতিতে নাটকীয় পরিবর্তন না হলে দুর্নীতি উল্লেখযোগ্য হারে কমবে না। তবে অযোগ্যতার কারণেও দুর্নীতি টিকে থাকে। প্রায় প্রত্যেকটি নুতন নিযুক্ত কর্মীই বিভিন্নজনকে ঘুষ দিয়ে চাকরিতে ঢোকে। আর ঘুষ দেয়া বা নেয়া এখন চাকরিরই একটা অংশ। তাই দুর্নীতি কমার আশা আসলে কেউই করে না।

পরিস্থিতি যখন এমন, তখন একজন নির্দোষ ব্যক্তিকে দোষী সাব্যস্ত করে অভিযোগ গঠন করার বিষয়টি আসলে উদ্দেশ্যমূলক নয়, বরং এটি অদক্ষতা বা অযোগ্যতারই পরিচয়। এর অর্থ হলো, দুদদকে এমন অনেক কাজ করতে বলা হচ্ছে, যা তার ক্ষমতার বাইরে। বলা যায়, রাষ্ট্রের রাজনৈতিক উদ্দেশ্য ও জনতার প্রত্যাশার চাপে দুদক এখন প্রত্যাশিত কাজটিই করতে পারছে না। এছাড়া এর পক্ষে উচ্চমাত্রার প্রচারণার বিষয়টি না হয় নাই উল্লেখ করলাম। আসলেই দুদক এখন নানা প্রতিকূল পরিস্থিতির শিকার। আসলে আমাদের শাসন ব্যবস্থাটাই এমন, যা দুর্নীতিকে প্রশ্রয় দিচ্ছে। দুদকের তা পরিবর্তনের ক্ষমতাই নাই। ফলে দেখা যাচ্ছ, নির্বাচন কমিশনের মতো দুদকেরও বিশ্বাসযোগ্যতা ও গ্রহণযোগ্যতা ক্ষতিগ্রস্ত হবে ও কমতে থাকবে। এটা আসলে দুদক বা ইসি’র ত্রুটি নয়। ক্ষমতার বাইরে আক্ষরিক অর্থেই কোন কমিশনের পক্ষে কোন কাজ করা সম্ভব নয়।

এতকিছুর পরও আমরা আশা করতে পারি যে, কোন ব্যক্তির দুর্নীতির বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠনের আগে দুদক আরো সতর্ক হবে। দুর্নীতিগ্রস্ত ব্যক্তি ধরা নাই পড়তে পারে। কিন্তু তাই বলে সাংবিধানিক দায়িত্ব পালনের নামে কোন নির্দোষ ব্যক্তিকে শাস্তি দেয়া ও সেখানে ক্ষমতার প্রয়োগ করা ঠিক হবে না।

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বাধিক পঠিত