প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

শেষ ঠিকানার নির্মাণশিল্পী

ডেস্ক রিপোর্ট : ৬০ বছর বয়সী খোকন মিয়া। ৪৬ বছর ধরে তিনি আজিমপুর কবরস্থানে গোরখোদকের কাজ করছেন। তার সঙ্গে যখন দেখা তখন তিনি এক যুবককে সঙ্গে নিয়ে কবর খুঁড়ছেন। যুবকটি পানি ঢেলে মাটি নরম করছেন। আর খোকন মিয়া সেই মাটি দ্রুত কেটে চলেছেন। জানতে চাইলে বলেন, লাশ এখনো আসে নাই। একটু পর আসবে। তাই আগেভাগে কবর রেডি কইরা রাখতাছি। কবর বানানো সাধারণ কাজ নয়। ওস্তাদের কাছে শিখতে হয়। কারণ, এটা ঠিকানা বানানোর কাজ। খোকন মিয়া, দ্বীন ইসলাম ও সাব্বির মানুষের শেষ ঠিকানা মাটির ঘর তৈরির কাজে নিবেদিত শিল্পী। এ কাজ দিয়েই চলে তাদের সংসার। ঠিকাদারের অনুমতি সাপেক্ষে আজিমপুর কবরস্থানে অন্তত ৩৫ জন গোরখোদক কাজ করেন। লাশের আত্মীয়-স্বজনরা খুশি মনে যা দেন তাই তাদের উপার্জন। মাস শেষে প্রত্যেকের ১২-১৫ হাজার টাকা করে আয় হয় বলে জানা গেছে। পুরাতন গোরখোদকদের একজন খোকন মিয়া। তার গ্রামের বাড়ি ব্রাহ্মণবাড়িয়ায়। ছেলেবেলায় বাবা-মাকে হারান তিনি। মুক্তিযুদ্ধের পরপরই অভাবের তাড়নায় কাজের সন্ধানে ঢাকায় আসেন। আজিমপুর কবরস্থানে কাজ করতেন তাঁর এক আত্মীয়। তার মাধ্যমে তিনি সহকারী গোরখোদক হিসেবে কাজ নেন। শুধু খোকন মিয়াই নন, এখানকার প্রায় সবাই আত্মীয়-স্বজন, ঠিকাদার কিংবা পূর্বপরিচিত কারও না কারও হাত ধরেই কবর খনন পেশায় নেমেছেন। এদের কারও কারও কবরস্থানের সামনে ছোট দোকানও আছে। সেখানে লাশ দাফনের প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম বিক্রি করেন তারা। এর মধ্যে রয়েছে গোলাপজল, কর্পূর, চন্দন, কাফনের কাপড়, চা-পাতা, আতর, সাবান, সুরমা ও আগরবাতি ইত্যাদি। গোরখোদক সাব্বির জানান, লাশ দাফনের সময় ওইসব জিনিস ব্যবহার করতে হয় এর দাম এবং কবর খোঁড়া, কখনো কখনো লাশ গোসল দেওয়া এবং দাফন মিলিয়ে মৃত ব্যক্তির পরিবার খুশি হয়ে যা দেন তারা তা-ই নেন। আরও কয়েকজনের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, প্রতিটি কবরস্থানেই বেশ কয়েকজন গোরখোদক কাজ করেন। তাদের নির্দিষ্ট কোনো বেতন-ভাতা নেই। লাশ দাফন করতে মৃতব্যক্তির পরিবার স্বজনের দেওয়া টাকায় গোরখোদকদের পরিবার চলে। সাধারণত ধনী ব্যক্তিরা স্বজনকে দাফন করতে একেকজন গোরখোদককে ৫-৬ হাজার টাকা দিয়ে থাকেন। অন্যদিকে সাধারণরা দেন দুই থেকে সাড়ে তিন হাজার টাকা। নিজের অভিজ্ঞতার কথা বলতে গিয়ে বলেন, প্রথম দিকে কবর খুঁড়তে সামান্য ভয় পেলেও ক্রমেই তা অভ্যাসে পরিণত হয়। কবরস্থানে যেদিন লাশ আসে সেদিন কিছু রোজগার হয়। সবারই রোজগারের ভরসা কোদাল আর খুন্তি। যেদিন লাশ আসে না সেদিন বসে থাকতে হয়। যা টাকা পাই তা দিয়ে পরিবার নিয়ে বাসা ভাড়া, খাবার খরচ ইত্যাদি ব্যয় মেটানো কঠিন হয়ে পড়ে।

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত