প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

এটা সেই বাংলাদেশের স্মৃতি, যে বাংলাদেশে মুক্তিযুদ্ধ শব্দটা পরাজিত করতে চেয়েছিলো শাসকেরা

অঞ্জন রায় : আমি মানুষ হিসেবে গর্ব করার মতো কিছুই অর্জন করতে পারিনি। তবে গর্ব করে বলতে পারি, যে উত্তরাধিকারের গর্ব আমি পেয়েছি-তার কাছাকাছি সম্পদ অনেকের নেই। আমার বাবা প্রসাদ রায় ১৯৫০ সালের ২৪ এপ্রিল যে অমিত সাহস নিয়ে খাপড়া ওয়ার্ড কারা বিদ্রোহে ঘাতকের উদ্যত রাইফেলের সামনে বুক চিতিয়ে দাঁড়িছিলেন, অপরাষ্ট্র পাকিস্তানের বিরুদ্ধে প্রথম তাজা রক্ত দিয়ে ৭ রাউন্ড গুলিবিদ্ধ হয়েছিলেন, সেই উত্তরাধিকারের সম্পদের গর্ব আমাদের পরিবার প্রজন্ম থেকে প্রজন্ম রয়ে যাবে।
তিনি প্রথমে ছিলেন গোপন ব্রিটিশবিরোধী সশস্ত্র বিপ্লবী দলের সদস্য, কিশোরকালে বয়সের কারণে ফাঁসির দড়ি না পেলেও জেলে গেছেন, সেখানেই তার মার্কসবাদের দীক্ষা। ফিরে এসেই আবারো সদ্যজাত পাকিস্তানে গ্রেফতার হয়েছেন। নেতৃত্ব দিয়েছেন পাকিস্তানের বিরুদ্ধের প্রথম সশস্ত্র বিদ্রোহের ১৯৫০ সালে। যেটি চিহ্নিত হয়ে আছে ইতিহাসখ্যাত রাজশাহী খাপরা ওয়ার্ড কারা বিদ্রোহ হিসেবে। মুক্তিযুদ্ধে পালন করেছেন সংগঠকের ভূমিকা, শিকারপুর-করিমপুর মুক্তিযোদ্ধা ক্যাম্পের পরিচালকের দায়িত্ব পালন করেছেন। স্বাধীন দেশে গ্রেফতার হয়েছেন দফায় দফায়। বঙ্গবন্ধু হত্যাকা-ের পর জিয়াউর রহমানের পুরো শাসনকাল তার জেলেই কেটেছে। সব মিলিয়ে জেলেই কাটিয়েছেন ১৯ বছর ৫ মাস। পাকিস্তান অপরাষ্ট্রের জন্মের পর যখন রাজনৈতিক বন্দী হিসেবে বাপী গ্রেফতার হন, তার কয়েকদিন পরেই তার প্রথম সন্তান জন্ম নেয়। জেলে থেকেই তিনি সেই সন্তানের নাম রেখেছিলেন, গৌতম। জন্মের কয়েকমাস পরেই আমার এই ভাইটি মারা যায় শিশু কলেরাতে। বিনা ঔষধে। আমার মা সারা পাবনা শহরে সেদিন অসুস্থ ছেলেটিকে বুকে নিয়ে ছুটেছেন- ২১ টা টাকা জোগাড় করতে পারেননি, একটা ইনজেকশন কেনার। শেষ পর্যন্ত মৃত সন্তানকে তুলে দিয়েছিনের শ্মশানযাত্রীদের কাছে।
চিঠির খামের ছবিটির ইতিহাস আছে : ১৯৭৫-এ বাপীকে আটকের পর সে সামরিক সময়ের সরকার আমাদের অনেক বছর জানতে দেয়নি তিনি বেঁচে আছেন কিনা? থাকলে কোথায় আছেন? মা তখন লোকমুখে খবর পেয়ে বিভিন্ন কারাগারে চিঠি পাঠালে-এভাবেই কাটা দাগ দিয়ে ফেরত আসতো সেই চিঠি। এটা সেই বাংলাদেশের স্মৃতি, যে বাংলাদেশে মুক্তিযুদ্ধ শব্দটা পরাজিত করতে চেয়েছিলো শাসকেরা। ফেসবুক থেকে

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বাধিক পঠিত