প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

পাঠককে ঠকিয়ে আপনি একটি জাতিকে বই পড়ায় আগ্রহী করতে পারবেন না

রেজা ঘটক : এ বছর অমর একুশে বইমেলায় আপনি যদি কাউকে দেখেন কোনো টেলিভিশন চ্যানেলের হয়ে বইমেলা কভার করছেন, আপনি নিশ্চিত থাকতে পারেন, আগামী বছর বা পরের বছর বইমেলায় তিনি লেখক হিসেবে হাজির হবেন। এই যে মানুষের বিচিত্র হাউস (ইচ্ছা), এটা এখন বইমেলায় সংক্রামকের মতো হয়ে গেছে!

লেখালেখির বিষয়টি এখন সাধনা ও চর্চার জায়গা থেকে ধীরে ধীরে মানুষের হাউসের জায়গায় স্থান নিচ্ছে। এই মৌসুমী লেখকদের ভিড়ে বইমেলায় এখন প্রকৃত কবি-লেখকদের ত্রাহি দশা। কারণ মৌসুমি লেখকদের চটকদার বিজ্ঞাপন, মিডিয়ায় আতলামি আর গলাবাজিতে সাধারণ পাঠক বিভ্রান্ত।

আমাদের মিডিয়া আবার এসব মৌসুমি লেখকদের নিয়ে মহাব্যস্ত। রাতারাতি তাদের লেখক বানিয়ে হাজির করে মিডিয়া। আমাদের মিডিয়ার এই দায়িত্বহীনতার কারণেই পাঠক বইমেলা শেষে ধারণা করেন যে আমাদের লেখার মান কতো খারাপ! আমাদের সবকিছুতে একটা হিরিক লাগার মতো ইদানীং লেখক হওয়ার হিরিক চারিদিকে।

এই হিরিক বন্ধের দায়িত্ব নেওয়ার এই দেশে কেউ নেই। মানসম্মত বই চেনানোর জন্য মিডিয়ার যে দায়িত্ব নেওয়ার কথা ছিলো, মিডিয়া সেই দায়িত্ব পালনে পুরোপুরি ব্যর্থ। কারণ বইমেলা কভার করার জন্য পড়াশোনা করা কাউকে দায়িত্ব দিতে পারলে সেই রিপোর্টার হয়তো অনুসন্ধান করে ভালো বইটি খুঁজে, সেটি নিয়ে রিপোর্ট করতে পারতেন।

এখন যেহেতু সবকিছুতেই ফাঁকিবাজি-তেলেসমাতির একটা ব্যাপার। রাতারাতি ঘটায়ে দেবার মতো একটা হিরিক চলছে। তাই মিডিয়া দায়িত্ব পালনে অনেকটাই ব্যর্থ। বইমেলা কভার করার জন্য কোনো পত্রিকা বা কোনো টেলিভিশন চ্যানেলে কোনো বৈচিত্র নেই। অনেকটা ছাগল দিয়ে হালচাষ করার মতো মিডিয়া এখন বইমেলা কভার করছে। যা সত্যি খুবই দুঃখজনক। গোটা বইমেলায় সাড়ে চার থেকে পাঁচ হাজার বই প্রকাশ পাবে। যদি প্রশ্ন করেন, মানসম্মত বই কয়টি আসবে? আর সেই বই চেনার উপায় কী? তাহলে খোদ বাংলা একাডেমি এই প্রশ্নের জবাব দিতে পারবে না। কারণ বাংলা একাডেমিরও বই নিয়ে কোনো নিবিড় চর্চা নেই। এ ক্ষেত্রে আমাদের প্রকাশকদের যেভাবে প্রফেশনাল হওয়ার কথা ছিলো, তারা আর এখন সেই রাস্তায় নেই। তাদের কাছে এখন বইমেলা মানে বাণিজ্যমেলার মতো। ধরো তক্তা মারো পেরেক দশা।

শুধু ফেব্রুয়ারি মাসে বইমেলা কেন্দ্রিক বই প্রকাশের কারণেই প্রকাশকরা এখন আর বইয়ের মান যাচাই-বাছাই করেন না। অথচ সারা বছর বই প্রকাশের বিষয়টি চালু থাকলে প্রকাশকদের সেই সুযোগটি যেমন থাকতো, তেমনি পাঠকও ভালো মানসম্মত বইয়ের সন্ধান পেতো। ফলে বছর ঘুরে কেবল বইমেলা বড় হচ্ছে, কবি-লেখকদের সংখ্যা বাড়ছে, বই প্রকাশের সংখ্যা বাড়ছে। কিন্তু পাঠকের গলায় ঝুলছে প্রতারণার সিল। পাঠক ঠকিয়ে আপনি একটি জাতিকে বই পড়ায় আগ্রহী করতে পারবেন না। কারণ বাংলায় একটা প্রবাদ আছে- নেড়ে দুইবার বেল তলায় যায় না। ফেসবুক থেকে

 

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত