প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

রাষ্ট্র, পরিবার ও সমাজ ব্যবস্থার মাঝেই আত্মহণনের উৎস বিদ্যমান বললেন, ডা. তাজুল ইসলাম

মঈন মোশাররফ : জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইন্সটিটিউটের অধ্যাপক ডা. তাজুল ইসলাম বলেছেন একই মানসিক পরিস্থিতিতে কেউ আত্মহত্যা করে, আবার কেউ করে না । যিনি হতাশায় শূণ্য হয়ে যান। মনে করেন জীবন অর্থহীন । জীবনের কোনো মানে থাকেনা তার কাছে, সে আত্মহত্যা করতে পারে । এটা অনেকটা মানসিক গঠনের ওপরও নির্ভর করে ।

রোবাবার ডয়চে ভেলেকে তিনি আরো বলেন, আমাদের সমাজ, পরিবার ও রাষ্ট্র কাঠামোর মধ্যেই আত্মহত্যার কারণ বিদ্যমান। কে কোন পরিস্থিতে চরম হতাশ হয়ে জীবনকে অর্থহীন মনে করবে তা বলা মুশকিল। চরম শ‚ন্য বোধই এর কারণ। তবেএই যে পারিবারিক কারণ, বা শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের কথা উঠে এল এর বাইরেও সমাজে ও রাষ্ট্রে নানা অসঙ্গতি আছে যা আত্মহত্যার পিছনে কাজ করে । মাদকাসক্তিও আত্মহত্যার কারণ ।

তিনি বলেন, অল্প কিছু দিনের মধ্যে কয়েকটি আত্মা হত্যার ঘটনা ঘটেছে। প্রথম ঘটনা সম্পর্কের টানাপোড়েন অথবা সম্পর্কের প্রতি আস্থাহীনতা, দ্বিতীয় ঘটনা শিক্ষা ব্যবস্থা বা কোনো শিক্ষকের অবহেলা এবং তৃতীয় ঘটনা অপমান সইতে না পারাকে আত্মহত্যার কারণ হিসেবে চিহ্নিত করা যায় । কিন্তু দায় কার তা নির্ণয় করা কঠিন। কারণ এই একই ধরণের পরিস্থিতির মুখোমুখি হয়ে অনেকেইতো আত্মহত্যা করেন না। এরচেয়ে খারাপ পরিস্থিতিতেও অনেকে আত্মহত্যার পথ বেছে নেয় না।

তিনি জানান,বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা’র (হু) তথ্যমতে, বিশ্বে প্রতিবছর ৮ লাখ মানুষ আত্মহত্যা করে । প্রতিদিন এই সংখ্যা দুই হাজারেরও বেশি । প্রতি ৪০ সেকেন্ডে বিশ্বের কোথাও না কোথাও কেউ না কেউ আত্মহত্যা করছে । প্রতি একজনের আত্মহত্যা প্রায় ২৫ জনকে আত্মহত্যা প্রবণতার দিকে নিয়ে যায়। বিশ্বে ১৫-২৯ বয়সীদের মৃত্যুর দ্বিতীয় প্রধান কারণ আত্মহত্যা । বাংলাদেশে প্রতিদিন গড়ে ২৮ জন আত্মহত্যা করে । যাঁরা আত্মহত্যা করেছেন বা চেষ্টা করেছেন, তাঁদের বড় অংশের বয়স ২১ থেকে ৩০ বছরের মধ্যে। বাংলাদেশও আত্মহত্যাপ্রবণ একটি দেশ।

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত