প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

ইসলামের দৃষ্টিতে ওয়াসিলা গ্রহণ

সাইদুর রহমান : অসিলা বলা হয় মাধ্যমকে। হযরত ওমর রা. অনাবৃষ্টি হলে নবী পরিবার তথা আহলে বাইতের সদস্য হযরত আব্বাস রা. এর নাম নিয়ে দোআ করেছিলেন। ফলে তৎক্ষণাত বৃষ্টি নাযিল হয়। এছাড়া বুযুর্গ ব্যক্তিদেরকে তাদের নেক আমল ও গুণাবলীকে ওয়াসিলা বানানো যায়। তবে তা না করে সরাসরি ব্যক্তিবর্গের কাছে আবেদন করা, তাদেরকে বিপদ হতে মুক্তি দানকারী রূপে ধারণা করা শিরক। শিরক সর্বতোভাবেই পরিত্যাজ্য ও হারাম।

এ প্রসঙ্গে আল কোরআনে ঘোষিত হয়েছে, হে নবী, আপনি বলুন, আল্লাহ ছাড়া অন্য যাদেরকে তোমরা প্রভু মনে করে আহ্বান করো (মনোবাসনা পূর্ণ করা, বিপদ হতে মুক্তি দেওয়ার জন্য) আসমান ও জমীনে তারা বিন্দুমাত্র ক্ষমতা ও আধিপত্য রাখে না, আসমান- জমীনে তার কোনো অংশী-শরিক নেই। আর আল্লাহর বিপক্ষে তার কোনো সাহায্যকারী নেই। (সুরা সাবা: আয়াত ৭২)।

এ ক্ষেত্রে ‘হাদিসুল গার’কে প্রমাণ হিসেবে উপস্থাপন করা যায়। এতে আছে, তিন ব্যক্তি ঝড়-বৃষ্টিকবলিত হয়ে পাহাড়ের এক গুহায় আশ্রয় গ্রহণ করে। পাহাড় হতে পতিত এক প্রস্তর খন্ডে গুহার মুখ বন্ধ হয়ে যায়। শেষ পর্যন্ত তারা নিরুপায় হয়ে তাদের নেক আমলের ওছিলায় দোয়া করার ফলে আল্লাহপাক তাদের মুক্তি দান করেন। (সহীহ বুখারী: খন্ড ২, পৃ. ৮৮৩)।

এ হাদিসের দ্বারা প্রতীয়মান হয় যে, মানুষের জন্য মুস্তাহাব হলো বিপদের সময় ও ইস্তিসকা (বৃষ্টির জন্য নামাজ) ইত্যাদির সময়ে নিজের সৎ আমল স্মরণ করে দোয়া করা, আল্লাহর সামনে উক্ত নেক আমলকে ওয়াছিলা হিসেবে পেশ করা। হাদিসে উল্লেখিত ব্যক্তিত্রয় এমনটি করেছে বলেই আল্লাহপাক তাদের দোয়া কবুল করেছেন। স্বয়ং রাসূলুল্লাহ সা. উক্ত ব্যক্তিদের মর্যাদা ও ফজিলত বর্ণনা প্রসঙ্গেই এই ঘটনাটির কথা উল্লেখ করেছেন। (সহীহ মুসলিমের নবভী শরাহ: খন্ড ২, পৃ. ৩৫৩)।

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত