প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

দিল্লির মসনদে মোদি, নাকি নতুন কেউ?

বিভুরঞ্জন সরকার : ভারতের রাজনীতিতে এখন জোরছে বইছে নির্বাচনী হওয়া। এপ্রিল-মে মাসে ভারতের পার্লামেন্ট নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। নির্বাচনে বর্তমান প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির দলই আবার জয়যুক্ত হবে, নরেন্দ্র মোদিই পুনরায় প্রধানমন্ত্রী পদে ফিরে আসবেন, নাকি দিল্লির মসনদে দেখা যাবে নতুন মুখ এসব নিয়ে ভারতজুড়ে চলছে জল্পনা-কল্পনা, রাজনৈতিক হিসাব-নিকাশ। বিজিপি আবার ক্ষমতায় ফিরে আসার ব্যাপারে আশাবাদী। বিজিপির বড় পুঁজি প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। যে যাই বলুক না কেন, সত্য এটাই যে, নরেন্দ্র মোদির চেয়ে জনপ্রিয় নেতা ভারতে আর একজনও নেই। প্রধানমন্ত্রী হিসেবে আর কারো নাম সেভাবে সামনে আসছে না

ভারতে সর্বভারতীয় দল বলতে এখন আছে মূলত দুটি। বিজিপি এবং কংগ্রেস। কংগ্রেস ভারতের সবচেয়ে পুরনো রাজনৈতিক দল। এই দলই ভারতের স্বাধীনতা সংগ্রামে নেতৃত্ব দিয়েছে। স্বাধীন ভারতে সবচেয়ে বেশি সময় কেন্দ্রীয় সরকার পরিচালিত হয়েছে এই দলের নেতৃত্বে। তবে কংগ্রেসের যৌবনকাল গত হয়েছে। বয়োবৃদ্ধ কংগ্রেসের নেতৃত্বে এখন তুলনামূলক তরুণ বয়সী ঐতিহ্যবাহী নেহরু পরিবারের রাহুল গান্ধীর হাতে। কিন্তু রাহুল কয়েক বছর ধরে সলতে পাকিয়েও সন্ধ্যাদীপ জ্বালানোর অবস্থায় পৌঁছতে পারেননি। নরেন্দ্র মোদির বিকল্প হিসেবে রাহুল গান্ধীর নাম সেভাবে আলোচনায় নেই।

গত পাঁচ বছর নরেন্দ্র মোদির একক কর্তৃত্বেই ভারত শাসিত হয়েছে। তিনি কেমন চালালেন, তার কাছে মানুষের যে প্রত্যাশা তার কতোটুকু তিনি ও তার দল পূরণ করতে পারলেন, তার পরীক্ষা হবে আগামী নির্বাচনে। বিজিপি যেমন ক্ষমতা ধরে রাখতে মরিয়া, তেমনি কংগ্রেসসহ বিরোধী দলগুলো মোদি তথা বিজিপিকে ক্ষমতা থেকে হঠানোর জন্য জোট বা মোর্চা গঠনের চেষ্টায় আছে।

বিজিপি এবং কংগ্রেস সর্বভারতীয় দল হলেও সব রাজ্যে সমান শক্তিশালী নয় দল দুটি। রাজ্যভিত্তিক কয়েকটি দল এখন অনেক শক্তিশালী এবং জনপ্রিয়। কোনো কোনো রাজ্যে ক্ষমতায় আছে রাজ্যভিত্তিক বা আঞ্চলিক দল। এই দলগুলো আগামী নির্বাচনে ‘মোদি হঠাও’ স্লোগান দিয়ে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার চেষ্টা করছে। পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এ ক্ষেত্রে উদ্যোগী ভূমিকা নিয়েছেন। তার সঙ্গে আরো বেশ কিছু রাজ্য সরকার ও আঞ্চলিক দল এর মধ্যেই একাত্মতা ঘোষণা করেছে। অবিজিপি সবগুলো দল যদি ঐক্যবদ্ধ হতে পারে, কংগ্রেসও যদি সেই ঐক্যে সামিল হয়, তাহলে দিল্লির মসনদে ক্ষমতার পালাবদল খুব অসম্ভব হবে বলে মনে হয় না।

ইতোমধ্যে নেহরু পরিবারের আরেক সদস্য প্রিয়াঙ্কা গান্ধী সরাসরি কংগ্রেসের রাজনীতিতে সক্রিয়ভাবে অংশ নেয়ার ঘোষণার পর দিল্লির রাজনীতির চালচিত্র কিছুটা হলেও বদলাতে শুরু করেছে। প্রিয়াঙ্কা কংগ্রেসের মরা গাঙে এবারই বান ডাকাতে পারবেন কিনা সেটা বলা না গেলেও এটা বলা যায় যে তিনি রাজনীতিতে এসে নরেন্দ্র মোদির জন্য একটু হলেও দুশ্চিন্তার কারণ হয়েছেন। আগামী নির্বাচনে প্রিয়াঙ্কা ফ্যাক্টর উপেক্ষা করার মতো হবে না। পশ্চিমবঙ্গের মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়, উত্তর প্রদেশের মায়াবতী এবং প্রিয়াঙ্কা গান্ধী এই তিন নারী যদি এক সাথে মোদির বিরুদ্ধে প্রচারণা শুরু করে তাহলে সেটা বিজিপি এবং মোদির জন্য দুশ্চিন্তারই কারণ হবে বলে ভারতীয় রাজনৈতিক বিশ্লেষকরাও মনে করছেন।

ভারতের নির্বাচনের ফলাফল কি হবে তা নিয়ে আগাম মন্তব্য করার সময় এখনো হয়নি। তবে কলকাতার একজন রাজনৈতিক পর্যবেক্ষক মনে করেন, বিরোধীরা নির্বাচনী প্রচারে সাড়া ফেলবে তাতে সন্দেহ নেই। তবে আগামী নির্বাচনেই তারা বিজেপিকে হারাতে পারবে বলে মনে হয় না। এটাও স্পষ্ট যে, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের চোখেও দেখা যাচ্ছে দিল্লির কাজল। সবকিছুর পরও দিল্লির মসনদে হয়তো সহাস্য মুখে নরেন্দ্র মোদিই ফিরবেন। মোদির বিকল্প এখনো তিনি নিজেই।

লেখক : গ্রুপ যুগ্ম সম্পাদক, আমাদের নতুন সময়

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত