প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

হাইপোসপেডিয়াস রোগ থাকলে শিশুকে খৎনা করাবেন না

ডা. জাকির হোসেন

হাইপোসপেডিয়াস শিশুদের একটি জন্মগত রোগ, যাতে মূত্রনালীর বহির্মুখ স্বাভাবিক স্থানে না হয়ে পুরুষাঙ্গের তলদেশে অবস্থান করে। এ সমস্যার সাথে সাথে প্রায় বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই পুরুষাঙ্গ নিচের দিকে বাঁকা হয়ে থাকে, যাকে ইংরেজিতে কর্ডি বলা হয়। তাছাড়া রোটেশনাল ডিফরমেটি, প্রিপিউসিয়াল স্কিন হোডিং, মিয়েটাল স্টেনোসিস-সহ আরো বেশ কিছু সমস্যা এসব শিশুদের পুরুষাঙ্গে বিদ্যমান থাকে। মাতৃগর্ভে মূত্রনালীর অসম্পূর্ণ গঠনের জন্য হাইপোসডেডিয়াস নামক এ রোগ হয়ে থাকে। মাতৃগর্ভে শিশু বেড়ে ওঠার সময় সাধারণত কোনো ভাসকুলার এসল্ট হলে শিশুর পরির্পূণ মূত্রনালী গঠন প্রক্রিয়া বাধাগ্রস্ত হয়ে এই ত্রæটির সৃষ্টি হয়। তবে আজ পর্যন্ত এই জন্মগত রোগ সৃষ্টির প্রকৃত কারণ নির্ণয় করা সম্ভব হয়নি। তবে চিকিৎসা বিজ্ঞানে বেশকিছু কারণকে এ রোগ সৃষ্টির জন্য দায়ী করা হয়। এর মধ্যে জেনেটিক, এন্ডোক্রাইন বা হরমনগত এবং পরিবেশগত কারণসমূহ অন্যতম। এই রোগের সাথে আরো বেশকিছু সমস্যা নিয়ে শিশু জন্মগ্রহণ করে থাকতে পারে। এসব রোগগুলো হলো ইঙ্গুনাল হার্নিয়া, আনডিসেনডেন্ট টেসটিস এবং প্রোস্টেটিক ইউট্রিকেল। তাই স্বাভাবিকভাবেই শিশু ভ‚মিষ্ঠ হওয়ার পর হাইপোসপেডিয়াস রোগ ধরা পড়ার সাথে সাথে তাকে একজন শিশু সার্জারি বিশেষজ্ঞ চিকিৎসককের শরণাপন্ন করা বাঞ্ছনীয়।
চিকিৎসক হাইপোসপেডিয়াস রোগের সাথে সাথে যেসব রোগগুলো খুব বেশি থাকে সেগুলো খুঁজে বের করার জন্য প্রয়োজনীয় পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে দেখবেন এবং সেগুলো ব্যবস্থাপত্রে লিপিবদ্ধ করে রাখবেন। সেসাথে পিতা-মাতাকে এই রোগের শল্যচিকিৎসার ব্যাপারে যথাযথ দিকনির্দেশনা দেবেন এবং মুসলিম শিশু হলে তাকে সুন্নাতে খৎনা করাতে নিষেধ করবেন। এই রোগের শল্যচিকিৎসার উপযুক্ত সময় হলো ৬ মাস বয়স থেকে ১৮ মাস। তবে আমাদের দেশে স্কুলে ভর্তি হওয়ার আগের সময়কে চিকিৎসকরা শল্যচিকিৎসার সময় হিসেবে বেছে নেন। কিছু কিছু শিশুর পুরুষাঙ্গ তাদের বযসের তুলনায় অত্যন্ত ছোট থাকে। সেক্ষেত্রে শল্যচিকিৎসার জন্য তাকে প্রস্তুত করার জন্য হরমন থেরাপির প্রয়োজন হতে পারে। শল্যচিকিৎিসা একটি জটিল প্রক্রিয়া। এ রোগের ক্ষেত্রে কয়েকবার অস্ত্রোপচারের প্রয়োজন হতে পারে। প্রথমবার অস্ত্রোপচার করে সফল না হলে অন্তত কমপক্ষে ছয় মাস বাদে দ্বিতীয় অস্ত্রোপচার করতে হয়। এসব রোগীর চিকিৎসা করার জন্য সঠিক সময় অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। চিকিৎসা না করালে প্র¯্রাব করার সময় তাদের হাঁটুর ওপরের অংশ ভেজে যেতে পারে, বৈবাহিক জীবনে সঙ্গমে মারাত্মক সমস্যার সম্মুখীন হতে পারে। শল্যচিকিৎসার প্রধান কতোগুলো উদ্দেশ্য হলো প্র¯্রাবের গতিপথ সামনের দিকে করা, বাঁকা পুরুষাঙ্গ সোজা করা, গ্রহণযোগ্য সুন্দর পুরুষাঙ্গ গঠন করা এবংবন্ধ্যাত্ব নিরসন করা। লেখক : চিকিৎসক ও কলামিস্ট

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত