প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

‘আমরা’ এবং ‘ওরা’ বলে যে রাজনীতি তৈরি হয়, তার মূলে থাকে সব ধরনের ঘৃণা ও বিদ্বেষ , বললেন ড. মাহবুব উল্লাহ্

নাঈমা জাবীন : অর্থনীতিবিদ ও অধ্যাপক ড. মাহবুব উল্লাহ্ বলেন, ইউরোপীয় ইউনিয়ন গঠিত হয়েছিলো অনেক পরীক্ষা-নিরীক্ষা ও সংগ্রামের মধ্য দিয়ে। আমরা সবাই জানি ইউরোপীয় ইউনিয়ন আছে। তার একটি তারকাখচিত নেভি বøু পতাকাও আছে। রয়েছে একক ইউরোপীয় মুদ্রা ‘ইউরো’। বেশ ক’বছর এ ইউনিয়নের সঙ্গে থাকার পর ব্রিটেনবাসী ইউনিয়ন থেকে বের হয়ে আসার জন্য গণভোটের মাধ্যমে রায় দিলেন। ইউরোপীয় ইউনিয়ন থেকে বের হয়ে আসার পদ্ধতি ও প্রক্রিয়া কী হবে তা নিয়ে দরকষাকষি চললো। ব্রিটেনের থেরেসা মের সরকার এখন ব্রেক্সিট নিয়ে মহাসংকটে আছে। ব্রিটেনের অনেকে আবার নতুন গণভোটের দাবি তুলেছেন। সূত্র : যুগান্তর
কারণ গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ও ‘না’-এর মধ্যে ব্যবধান বড় ছিলো না। এমনকি ব্রিটেনের সব অঞ্চলের ভোটের প্যাটার্নও একরকম ছিলো না। অন্যদিকে ইউরোপের মূল ভ‚খÐে বিভিন্ন দেশের লোকরঞ্জনবাদী রাজনীতির উন্মেষ ঘটেছে। এরা অনেকে ঐতিহ্যবাহী রাজনৈতিক দলগুলোকে নাকানি-চুবানি দিচ্ছে। এ লোকরঞ্জনবাদের চরিত্র মূলত দক্ষিণপন্থি। ফ্যাসিবাদের কাছাকাছি। অর্থাৎ নিজস্ব পরিচয় ও শিকড় সন্ধানের নামে এ রাজনীতির চরিত্র হলো বিভিন্ন জাতিবিদ্বেষী। এ জাতিবিদ্বেষ ও ঘৃণার রাজনীতির মূলে রয়েছে অভিবাসী সমস্যা। এমনিতেই ফ্রান্স ও জার্মানির মতো দেশে ভিন্ন দেশ থেকে আসা প্রচুর সংখ্যক অভিবাসী রয়েছে, যাদের অনেকে নাগরিকত্বও পেয়েছেন।
কিন্তু জীবনযাত্রার দিক থেকে তারা ফ্রান্স ও জার্মানির আদি বাসিন্দাদের থেকে অনেক পিছিয়ে। এরা দরিদ্রও বটে। গত ক’বছরে গৃহযুদ্ধ ও রাজনৈতিক সংঘাতের ফলে অনেকে সিরিয়া ও লিবিয়াসহ আফ্রিকার অনেক দেশ থেকে ইউরোপ অভিমুখে যাত্রা শুরু করেছে। আমরা মিডিয়ায় ভ‚মধ্যসাগরের জলরাশিতে জাহাজডুবিতে এদের অনেকের সলিল সমাধির খবর পাই। তারপরও অনেক অভিবাসী ইউরোপে প্রবেশ করতে সক্ষম হয়েছে। নতুন অভিবাসীদের দেখে ইউরোপের অনেক দেশে জাতিবিদ্বেষী ঘৃণার আগুন জ্বলে উঠেছে। এ সুযোগে ইউরোপের অনেক দেশে নতুন ধরনের এক রাজনীতির সূচনা হয়েছে। এ রাজনীতির ধারক-বাহকরা রাজনৈতিক অঙ্গনের নতুন খেলোয়াড়। এরা খুব সহজে সাধারণ মানুষের সমর্থন অর্জনের জন্য মনসই কথা বলে। এদের বক্তব্যের মূল কথা হলো- নিজস্ব আইডেনটিটি বা পরিচয়কে কোনোক্রমেই কলুষিত করা যাবে না। ভিনদেশি যারা আসছে তাদের ঠেকাতে হবে। ‘আমরা’ এবং ‘ওরা’ বলে যে রাজনীতি তৈরি হয় তার মূলে থাকে সব ধরনের ঘৃণা ও বিদ্বেষ। ইউরোপীয় ইউনিয়ন গঠনের পর সংকীর্ণ জাতীয়তাবাদ পেছনে চলে গিয়েছিলো। গড়ে উঠেছিলো একে অপরকে আলিঙ্গন করে নেয়ার এক আবহ। কিন্তু এখন লোকরঞ্জনবাদী রাজনীতির উত্থানের ফলে ইউরোপের মানুষদের মধ্যে ঘৃণা-বিদ্বেষের দুষ্ট মনোভাব সৃষ্টি হচ্ছে। আগামী মে মাসে ইউরোপিয়ান পার্লামেন্টের নির্বাচনে যদি লোকরঞ্জনবাদীদের প্রাধান্য কিংবা বড় ধরনের শক্তি দেখা যায়, তাহলে ইউরোপীয় ইউনিয়নের ধারণা সংকটের মুখোমুখি হবে।

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত