প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

গুয়াইদোর অনুরোধে ভেনিজুয়েলায় মানবিক সহায়তা পাঠাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র

সালেহ্ বিপ্লব : নিজেকে অন্তর্বর্তীকালীন প্রেসিডেন্ট হিসেবে ঘোষণা করা ভেনিজুয়েলার বিরোধীদলীয় নেতা হুয়ান গুয়াইদোর অনুরোধে দেশটির দুর্দশাগ্রস্ত মানুষের জন্যে সাহায্য পাঠানোর ঘোষণা দিয়েছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র। চলতি সপ্তাহেই খাবার ও ওষুধসহ জরুরি সামগ্রী পাঠানোর প্রস্তুতি চলছে বলে জানিয়েছেন মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ন্যাশনাল সিকিউরিটি এডভাইজর জন বোল্টন। তিনি এক টুইট বার্তায় বলেছেন, ইউএসএআইডি, স্টেট ডিপার্টমেন্ট এবং তাদের সহযোগীরা ভেনিজুয়েলার সংকটাপন্ন মানুষের জন্যে মানবিক সহায়তা পৌঁছানোর কাজ করবে। তবে প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরো কারো সাহায্য নেয়ার প্রস্তাব নাকচ করে দিয়েছেন। বিবিসি

কয়েক বছর ধরেই ভেনিজুয়েলার অর্থনৈতিক অবস্থা খুব খারাপ যাচ্ছে। খাদ্য ও ওষুধসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসের সংকট চলছে, বিক্ষোভে ফুঁসছে সাধারণ মানুষ। লাখো মানুষ আশ্রয় নিয়েছে আশপাশের দেশগুলো। এমন এক পরিস্থিতির মধ্যে গত মাসের শুরুতে নতুন মেয়াদে প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব নেন নিকোলাস মাদুরো। নির্বাচনটিকে প্রশ্নবিদ্ধ বলে অভিহিত করে বিরোধী দল মাদুরোর শাসন মানতে অস্বীকৃতি জানায়। জনতার এই বিক্ষোভের মধ্যে দেশটির ন্যাশনাল এসেম্বলির প্রধান হুয়ান গুয়াইডো নিজেকে অন্তর্বর্তীকালীন প্রেসিডেন্ট হিসেবে ঘোষণা করেন। তার ভাষ্যমতে, মাদুরো প্রেসিডেন্ট পদে থাকার বৈধতা হারানোর কারণে অন্তর্বর্তীকালীন প্রেসিডেন্ট হিসেবে তার দায়িত্বগ্রহণ পুরোপুরি সংবিধানসম্মত।

গুয়াইদো নিজেকে প্রেসিডেন্ট ঘোষণার পর পরই মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ল্যাটিন আমেরিকার বেশ ক’টি দেশসহ ২০টি দেশের সমর্থন লাভ করেন। ইউরোপের বেশ কটি দেশও গুয়াইদোকে প্রেসিডেন্ট হিসেবে মেনে নিয়েছে। ফ্রান্স, ব্রিটেন, জার্মানি ও স্পেনসহ ইউরোপের কয়েকটি দেশ নতুন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের তারিখ ঘোষণার জন্য মাদুরোকে সময় বেঁধে দিয়েছে। আজ এই আলটিমেটামের শেষ দিন, আজকের মধ্যে দাবি না মানলে ইউরোপের ওই প্রভাবশালী দেশগুলো আনুষ্ঠানিকভাবে হুয়ান গুয়াইদোকে ভেনিজুয়েলার প্রেসিডেন্ট হিসেবে স্বীকৃতি দেবে বলে জানিয়ে দিয়েছেন।

তবে নতুন নির্বাচনের প্রস্তাব মানছেন না মাদুরো, তিনি নিজেকে দেশের বৈধ প্রেসিডেন্ট বলে মনে করেন। আর মাদুরোর পক্ষে রয়েছে চীন, রাশিয়া ও তুরস্ক।  এই পরিস্থিতির মধ্যে মাদুরো ও গুয়াইদো, দুই নেতার সমর্থকরাই রাজপথে নেমে এসেছে। রাজধানী কারাকাসের রাজপথে নিজ নিজ নেতার পক্ষে অবস্থান নিয়েছে তারা। জনতা রাজপথে নেমে আসার শুরুর দিতে সুবিধাজনক অবস্থানে ছিলেন মাদুরো, কারণ সেনাবাহিনীর নিরংকুশ সমর্থন তার পক্ষেই ছিলো। এদিকে গুয়াইদো বলছেন, সেনাবাহিনীতে তারও সমর্থন রয়েছে এবং এরই মধ্যে তিনি সেনাবাহিনীর উচ্চ পর্যায়ে কথাবার্তা বলেছেন। আর গুয়াইদোর জন্য আশীর্বাদ হয়ে দেখা দিয়েছেন ভেনিজুয়েলার বিমানবাহিনীর জেনারেল ফ্রান্সিসকো, তিনি গুয়াইদোর পক্ষ নেয়ার জন্য প্রকাশ্যে আহ্বান জানিয়েছেন।

এর মধ্যে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র জোরালোভাবে অবস্থান নিয়েছে গুয়াইদোর পক্ষে এবং প্রয়োজনে সামরিক সাহায্য পাঠানোর কথাও বিবেচনা করা হবে বলে জানিয়েছেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তাই যুক্তরাষ্ট্র যখন মানবিক সহায়তা পাঠানোর কথা বলেছে, একে সামরিক শক্তি প্রেরণের প্রাথমিক পদক্ষেপ হিসেবেই চিহ্নিত করেছেন প্রেসিডেন্ট মাদুরো। তিনি কারো কাছ থেকে সাহায্য নেয়ার প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেছেন। সমর্থকদের উদ্দেশ্যে তিনি বলেছেন, ‘আমরা ভিখারির জাতি নই।’

এদিকে খাদ্য ও ওষুধসহ জরুরি সাহায্য কীভাবে গ্রহণ ও বণ্টন করা হবে, তা নিয়ে ভাবতে হচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র ও গুয়াইদো, দুপক্ষকেই। গুয়াইদো যেহেতু কোন অঞ্চলের নিয়ন্ত্রক নন, তাই সিদ্ধান্ত হয়েছে, প্রতিবেশি দেশগুলোর যেসব অঞ্চলে ভেনিজুয়েলার মানুষ আশ্রয় নিয়েছে, সেসব স্থানে কালেকশন সেন্টার স্থাপন করে সাহায্য গ্রহণ করা হবে। তিনটি স্থান নির্ধারণ করে এসব সাহায্যসামগ্রী ভেনিজুয়েলায় প্রেরণের জন্য একটি আন্তর্জাতিক কোয়ালিশন গঠনের কথা বলেছেন গুয়াইদো। এই কোয়ালিশনের মাধ্যমে দেশটির সেনাবাহিনীকে সাহায্যসামগ্রী গ্রহণে বাধ্য করতে চান গুয়াইদো।

ইউএসএআইডি’র প্রশাসক মার্ক গ্রিন এক টুইট বার্তায় জানিয়েছেন, খাদ্যাভাবে পুষ্টিহীনতায় আক্রান্ত ভেনিজুয়েলার শিশুদের জন্যে তাৎক্ষণিক ব্যবহারযোগ্য খাদ্যসামগ্রী সরবরাহের জন্য তারা প্রস্তুত।

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বাধিক পঠিত