প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

বঙ্গবন্ধু আদর্শের সমাজ গড়ার আহবান ড. কামালের

শিমুল মাহমুদ: ২০২১ সালকে সামনে রেখে ড. কামাল হোসেনের নেতৃত্বে ঐক্য নয়,বঙ্গবন্ধুর আদর্শে স্বপ্নের সমাজ গড়ে তুলার আহবান জানিয়েছেন, জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের আহবায়ক ও গণফোরামের সভাপতি ড. কামাল হোসেন। তিনি বলেন, আজকে কোন বিরোধের কথা বলতে চাই না, আজকে বলতে চাই ঐক্যমতের কথা। সেই ঐক্যমত হলো মানুষের অধিকারের কথা।
রোববার রাজধানীর মতিঝিল গণফোরামের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে ৬৯’র ছাত্র গণ অভুয়ত্থানের অন্যতম নেতা,মুক্তিযুদ্ধের সংগঠক ও গণফোরামের সাবেক সাধারণ সম্পাদক সাইফউদ্দিন আহমেদ মানিকের স্মরণ সভায় তিনি এসব কথা বলেন।

ড. কামাল বলেন, মালিক যেমন অধিকার ভোগ করে, তেমনি তার দায়িত্বও থাকে। রাষ্ট্রের ক্ষমতার মালিক থাকলে ভোগ করবেন। আপনার দায়িত্বও আছে, কর্তব্যও আছে। এবং এই কথাগুলো সংবিধানে লেখা আছে।

৭২ এর সংবিধানে লেখা আছে জনগণকে শোষণ থেকে মুক্ত করা, জনগণ সকল ক্ষমতার মালিক। এটা আপনাদের আমাদের প্রত্যেকটি মুহুর্তে উপলব্ধি করতে হবে।

গণফোরামের নির্বাহী সভাপতি সুব্রত চৌধুরী বলেন,১৭ কোটি মানুষের যে ভোটাধিকার হরণ করে সরকার যে কাদায় আমাদের ফেলে রেখেছে।সেখান থেকে মুক্তি পেতে হলে আমাদের বিষদভাবে চ্যালেঞ্জে যেতে হবে। তাই আমাদের নেতৃত্ব দিতে হবে বিপ্লবের।

তিনি বলেন, আমরা মামলা করে ডাকসু নির্বাচন দিলাম, কিন্তু এখন মনে হচ্ছে এটাও ভুল ছিলো। কারণ কোটা আন্দোলনে যারা নেতৃত্ব দিয়েছে তাদেরকে আবারো পিটানো শুরু হয়ে গেছে। তাদের অপরাধ তারা বলেছে আমরা নির্বাচনে যাবো। তাই ছাত্রলীগ যেখানে পাচ্ছে তাদের মারধর করছে। তাছাড়া প্রতিপক্ষ যারা আছেন তাদের কথা ভিসি সাহেব রাখছেন না।

মোকাব্বির খান বলেন, মুক্তিযুদ্ধের যে চেতনার ঐক্য সেই ঐক্য হবে পরিবর্তনের ঐক্য। আমাদের রাজনীতির গুনগত পরিবর্তন আনতে হবে। তিনি বলেন আমরা গণফোরাম করেছি একটা নীতিতে। এই রাজনীতি রাজচালাকির রাজনীতি নয়। এই রাজনীতি জনগণের ঐক্য, মৌলবোধের এবং জনগণের আখাঙ্খার। আমরা যদি জনগণের কাছে যাই। রাজনীতি বিমুখ মানুষ গুলোকে প্রকৃত রাজনীতির দিকে ফিরিয়ে আনতে পারবো। আজকে সাধারণ মানুষ, যুবসমাজ, ছাত্রসমাজ রাজনীতি বিমুখ হয়েছে এই রাজচালাকির জন্য। তাই আমরা গণফোরাম সাধারণ মানুষের কাছে যাবো আর্দশের রাজনীতি নিয়ে।

ড. কামাল আরো বলেন, সরকারকে দায়িত্ব দেয়া আছে, নাগরিকদেরকেও দায়িত্ব দেয়া আছে। জনগণের কি দায়িত্ব আছে, যারা দেশ শাসন করবে করবে তারা আপনাদের নির্বাচিত প্রতিনিধি হবেন। সরকারের যারা প্রতিনিধিত্ব করবে তাদেরকে আপনারা নির্বাচিত করবেন। অর্থাৎ নির্বাচনকে গুরুত্ব দিতে হবে। নির্বাচনের মধ্য দিয়ে বাছাই করতে হবে আপনাদের প্রতিনিধিকে। তারাই কিন্তু রাষ্ট্রের নাগরিক হিসেবে সঠিক দায়িত্ব পালন করবে। এখানে গলদ থাকে, নির্বাচন নিয়ে বিতর্ক থাকলে সেখানে একটা সমস্যা সৃষ্টি হয় তা আমরা দেখেছি।

তিনি বলেন, আমাদের স্বাধীনতার ৮৪ বছর অতিক্রম হয়েছে। আগামী ২ বছর পর স্বাধীনতার ৫০ বছর হবে। এখন থেকে দুই বছরের মধ্যে আমাদের সবাইকে সতর্কভাবে, সচেতনভাবে দায়িত্ব পালন করতে হবে। এখন যে সরকারই এখানে দায়িত্ব ভোগ করবে তারা যেন সংবিধানের ভিত্তিতেই দায়িত্ব নিক। এবং সংবিধানে যে দায়িত্ব আছে তারা যেন তা পালন করে। সেখানে কি কি আছে, যে দেশে কার্যকর গণতন্ত্র থাকবে, নাম ওয়াস্তে গণতন্ত্র না। সবাই সংবিধান মেনে দায়িত্ব পালন করুক।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন গণফোরামের নির্বাহী সভাপতি সুব্রত চৌধুরী, মফিজুর ইসলাম খান কামাল, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আহম শফিক উল্লাহ, প্রেসিডিয়াম সদস্য মোকাব্বির হোসেন খান, জগলুল হায়দার আফ্রিক, গণফোরামের নেতা মেজর জেনারেল(অব.) আমসা আমিন, দফতর সম্পাদক আইয়ুব খান ফারুক প্রমুখ।

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বাধিক পঠিত