প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

বছরজুড়ে গাছে গাছে ঝুলছে আম বাম্পার ফলনে স্বাবলম্বী চাষী

খোকন আহম্মেদ হীরা, বরিশাল: বছরের বারো মাসই প্রত্যেকটি গাছে চারবার আমের ফলন হচ্ছে। ফলে পুরো বছর জুড়েই গাছে গাছে ঝুলছে বাড়াই এগারো জাতের আম। বাম্পার ফলন হওয়ায় এবং মৌসুমের বাহিরে বাজারে অধিক দামে আম বিক্রি করতে পারায় গত কয়েক বছরে স্বাবলম্বী হয়েছেন জেলার উজিরপুর উপজেলার হারতা ইউনিয়নের ৪০জন চাষী। যেকারণে ওই এলাকার অন্যান্য সৌখিন চাষীরা আম চাষের ওপর ঝুঁকে পরেছেন।

সূত্রমতে, অল্পসময়ে ভাল ফলন ও সু-স্বাদু মিষ্টি জাতের আম বর্তমানে বাজারে বিক্রি হচ্ছে প্রতি কেজি ৪৮০ থেকে ৫০০ টাকা দরে। অসময়ে আমের টাটকা স্বাদ নিতে হারতা এলাকায় ভিড় জমাচ্ছে বিভিন্ন শৌখিন ক্রেতারা। চড়া দামে আম বিক্রি হওয়ায় ওইসব এলাকার আম চাষীদের মুখে হাসির ঝিলিক ফুটে উঠেছে। সূত্রে আরও জানা গেছে, এখানকার আম বরিশাল শহর ও ঢাকায় বিক্রি হচ্ছে। উপজেলা কৃষি বিভাগের একজন সহকারী অফিসার নিয়মিতভাবে আম চাষাবাদে চাষীদের সর্বাত্মক সহায়তা করছেন। চলতি শীত মৌসুমেও প্রচুর পরিমান আমের উৎপাদন হয়েছে। ওই আম বিক্রি করে বেশ লাভবান হয়েছেন আম চাষীরা।

সরেজমিনে দেখা গেছে, ওই ইউনিয়নের বিস্তীর্ণ এলাকাজুড়ে আম বাগানগুলোতে কাঁচা পাকা আম আর আম। চোখ বুলালেই যেকোন মানুষ মনে করবেন এখন যেন আমের ভরা মৌসুম। শীত মৌসুমে গাছ ভরা আম দেখার জন্য উৎসুক মানুষ ভীড় জমাচ্ছেন হারতা ইউনিয়নের কালবিলা, কুচিয়ারপাড় ও জামবাড়ি গ্রামে।

জানা গেছে, কালবিলা গ্রামের ধীরেন চন্দ্র বিশ্বাস আট বছর আগে পিরোজপুর জেলার স্বরূপকাঠীর কুড়িয়ানা এলাকার এক চাষীর কাছ থেকে ১৪/১৫টি আমের চারা ক্রয় করে এনে তার বাড়ির আঙ্গিনায় পরীক্ষামুলকভাবে চাষাবাদ শুরু করেন। ওই বছরই প্রচুর পরিমান আমের ফলন হয়।

এরপর থেকে প্রতিবছর একটি গাছে বছরে চার বার আমের ফলন হয়। ফলশ্রুতিতে তার দেখাদেখি প্রতিবেশী রমনী মল্লিক, নিরাঞ্জন ও কুচিয়ারপাড় গ্রামের বিধান বিশ্বাসসহ প্রায় ২০/২৫ জন চাষী ওই জাতের আম গাছের চারা রোপন করেন। এরপর থেকে ওই ইউনিয়নে ধীরে ধীরে বৃদ্ধি পায় বাড়াই এগারো জাতের আম চাষ। বর্তমানে ওই এলাকার ৪০জন চাষী আম চাষ করছেন। প্রত্যেকের বাগানে ৪০ থেকে ৫০টি করে আম গাছ রয়েছে। চলতি শীত মৌসুমে হারতার বিভিন্ন এলাকার আম বাগান থেকে কয়েক লাখ টাকার আম বিক্রি করেছেন চাষীরা।

আম চাষী বিধান বিশ্বাস জানান, অসময়ে ফলন হওয়া আমের প্রচুর চাহিদা থাকায় তারা প্রতি কেজি আম ৫০০টাকা দামে পাইকারী বিক্রি করছেন। সর্বশেষ গত ২০ জানুয়ারি তিনি তার বাগানের ৭৫ কেজি কাঁচা আম বিক্রি করেছেন ৩৬ হাজার টাকায়। তিনি আরও জানান, দিনে দিনে হারতার বিভিন্ন এলাকায় বাড়াই এগারো জাতের আম চাষ বৃদ্ধি পাচ্ছে। বছরে চারবার মুকুল ধরে গাছগুলোতে। অল্পসময়ের মধ্যে বড় বড় আকারের মিষ্টি সুস্বাদু আমগুলি খাওয়ার উপযোগী হয়।

উপজেলা সহকারী কৃষি কর্মকর্তা নিখিল পাড় জানান, হারতা ইউনিয়নের বেশ কয়েকটি গ্রামে ৪০ জন চাষী তাদের নিজস্ব বাগানে বাড়াই এগারো জাতের আম চাষ করছেন। উপজেলার সর্বত্র ব্যাপকভাবে আম চাষ করা হলে দেশের সর্বত্র বছরজুড়ে এখানকার আম সরবরাহ করা সম্ভব হবে।

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত