প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

সিলেটে খোলা আকাশের নিচে চলছে স্কুলের পাঠদান

সাত্তার আজাদ, সিলেট: সিলেটের ফেঞ্চুগঞ্জে অবহেলিত চা-শ্রমিক সন্তানদের স্কুলটিও যেন অবহেলার শিকার। টিনশেডের দুই কক্ষের স্কুলগৃহে পাঠদান হয় পঞ্চমশ্রেণি পর্যন্ত। দুই কক্ষে পাঁচ ক্লাসের শিক্ষার্থীর সংকুলান হয়না বলে পাঠ চলে খোলা আকাশের নিচে। খাবার পানির নলকূপ নেই, টয়লেট নেই। বিদ্যুৎ ব্যবস্থাও নেই।

সিলেটের ফেঞ্চুগঞ্জ উপজেলায় সুবিধা বঞ্চিত মোমিন ছড়া প্রাথমিক বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠিত হয় ১৯৯৬ সালে। সেই থেকে আজ পর্যন্ত এই স্কুলে লাগেনি আধুনিকতার ছোঁয়া। বাগানের জমিতে নির্মিত হয়েছিল স্কুলটি। কিন্তু বাগান কর্তৃপক্ষ এখনো জমিটুকু স্কুলের নামে বরাদ্দ দেয়নি। স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতা বিজন দেব নাথ জানান, বিদ্যালয়ের নতুন একটি কক্ষসহ বিদ্যালয়টি এমপিওভুক্ত ও অন্যান্য সুবিধার জন্য সিলেট-৩ আসনের স্থানীয় সংসদ সদস্য মাহমুদ উস সামাদ চৌধুরী কয়েছ একটি ডিও লেটার প্রদান করেন। কিন্তু তারপরও স্কুলের অবকাঠামো উন্নয়ন ও স্কুলের নামে জমি বরাদ্দের উদ্যোগ নেয়নি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।

নানা সমস্যায় স্কুলের উন্নয়ন কার্যক্রম থেমে থাকলেও থেমে নেই শিক্ষার্থীদের পাঠদান। জায়গা সংকটে শিক্ষার্থীরা বিদ্যালয়ের সামনে খোলা আকাশের নিচে বসে পড়াশোনা করতে দেখা যায়। ফলে চোখের আড়ালে উপেক্ষিত থেকে যাচ্ছে সুবিধা বঞ্চিত চা শ্রমিক সন্তানদের আলোকিত করার শিক্ষা ব্যবস্থা।

ঘিলাছড়া ইউনিয়ন চেয়ারম্যান হাজী লেইস চৌধুরী বিদ্যালয়ের বেহাল দশা স্বীকার করে বলেন, মোমিন ছড়া প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভূমিটুকু এখনো বিদ্যালয়ের নামে দেয় নি বাগান মালিক পক্ষ। স্কুল ঘরের উন্নয়নে এ ব্যাপারে এমপি সাহেবের নির্দেশনা নিব। কোন ফান্ড পেলে বিদ্যালয়ের টিউবওয়েল, টয়লেটের ব্যবস্থা করে দিবেন বলে জানান তিনি।

চা-শ্রমিকদের দাবি তাদের সন্তানদের জন্য নির্মিত স্কুলের ভূমি সংক্রান্ত জটিলতা নিরসনে ও স্কুলটিতে শিক্ষার্থীদের পাঠগ্রহণের যোগ্য করে তুলতে সরকারের সংশ্লিষ্টদের পদক্ষেপ গ্রহণ জরুরি।

সর্বাধিক পঠিত