প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

সময়ের প্রয়োজনেই অশ্লীল দৃশ্যে কাজ করেছি: পলি

মহিব আল হাসান: অশ্লীল যুগের ঢাকাই ছবির চিত্রনায়িকা পলি। তাকে অশ্লীল নায়িকা হিসেবেই গণ্য করা হয়। ঢাকাই ছবিতে অভিষেকের পর থেকে প্রায় ১১২টির অধিক ছবি করেছেন। সবগুলো ছবিতেই চোখে পড়ার মতো অশ্লীলতা ছিলো। অভিনয় করেছেন ঢাকাই ছবির জনপ্রিয় নায়কদের সাথে। যার মধ্যে ছিলেন মান্না, শাকিব খান, আমিন খান, রুবেল, অমিত হাসান, আলেক জান্ডার বো, মেহেদীসহ অনেকে। জনপ্রিয় নায়কদের সাথে জুটি বেঁধে কাজ করার পরও তার গায়ে অশ্লীলতার ছাপ লেগে যায়। যার গন্ডি থেকে বের হতে পারেননি তিনি। একের পর এক ছবিতে আবেদনের ঝলকানিতে দর্শকদের দৃষ্টি পর্দায় রেখেছিলেন এই নায়িকা।

ক্যারিয়ারের বেশকিছু সময় তিনি ঢাকাই ছবিতে আলো ছড়িয়েছিলেন অশ্লীলতার মাধ্যমে। তবে হঠাৎ করেই ঢাকাই সিনেমা থেকে খানিকটা দূরে চলে যান এই নায়িকা। তবে চলচ্চিত্রের বিভিন্ন অনুষ্ঠানে দেখা মেলে তার। বর্তমানে ব্যক্তিগত জীবন নিয়েই ব্যস্ত আছেন তিনি। সম্প্রতি হয়ে যাওয়া শিল্পী সমিতির বনভোজনে তার দেখা মেলে। সেখানেই কথা বলেন আমাদের সময় ডট কমের সাথে।

বর্তমানে নিজের ব্যবসা ও সংসার নিয়ে বেশ ব্যস্ত আছেন। বুটিক হাউজের পাশাপাশি চার সন্তানের দেখাশুনায় ব্যস্ত থাকার কারণে চলচ্চিত্রে সময় দিতে পারেন না। দীর্ঘদিন চলচ্চিত্র থেকে অনেকটায় দূরে। সবশেষ ২০১৪ সালে চিত্রনায়ক রুবেলের সাথে জুটি বেঁধে ‘এক নম্বর আসামি’ শিরোনামের একটি ছবি মুক্তি পায়। এরপর নিজেই একটি ছবি প্রযোজনার কথা বলেছিলেন।

এ বিষয়ে পলি হতাশ হয়ে বলেন, ইচ্ছা ছিলো সিনেমা প্রযোজনা করব। কিন্তু বর্তমান সিনেমার অবস্থা দেখে পিছুপা হয়েছি। কারণ যা ইনভেস্ট করবো তা ফেরত পাবো না। তাই যে টাকা খরচ হবে একটি ছবি নির্মাণ করতে সে টাকা দিয়ে অন্য কাজ করবো।

সিনেমাতে অভিনয় করার বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি জানান, এখন আমাদের আর আগের মতো কাজের পরিবেশ নেই। দেশের প্রেক্ষাগৃহগুলো অনেক কমে গেছে। চাইলেও আমাদের কাজের জায়গাগুলো পাওয়া যাবে না। এই সময়ে দর্শকের রুচির পরিবর্তন হয়েছে। পাশাপাশি সিনেমা নির্মাণ অনেক কম আর সিনেমা যে কয়টি নির্মাণ হচ্ছে সে সিনেমাগুলোতে প্রযোজক নিজেরায় নায়ক-নায়িকা ঠিক করে দেন। তাই কাজের জায়টা নেই বললেই চলে।

অনেকেই আপনাকে অশ্লীল ছবির নায়িকা হিসেবে চিনেন বিষয়টি আপনি কিভাবে দেখছেন? এ বিষয়ে পলি বলেন, ‘যখন অশ্লীল ছবি দেশে চলছে তখন সেটা সিনেমার প্রয়োজনে নির্মাতা-প্রযোজক নির্মাণ করতেন। বলতে গেলে অশ্লীল ছবি সময়ের প্রয়োজনে করতে হয়েছে। সেসময় অশ্লীল ছবি দিয়েই চলচ্চিত্র বেঁচে ছিলো! এখন সময়ের পরিবর্তনে সবকিছু পরিবর্তন হয়েছে। বদলে গেছে অনেক কিছুই। কে কি বললো তা নিয়ে আমার কিছু বলার বা ভাবার সময় নেই।’

পলির ঢাকাই ছবিতে অভিষেক হয় মোহাম্মদ হোসেন পরিচালিত ফায়ার ছবির মাধ্যমে ২০০২ সালে। এ ছবিতে তার বিপরীতে অভিনয় করেন সেসময়কার জনপ্রিয় প্রয়াত চিত্রনায়ক মান্না। এই ছবিটি সেসময় অশ্লীলতার চাদরের গ্রাসে ঢাকা পরলে ছবির কিছু দৃশ্য ও ডাবিংয়ে অংশ নেননি নায়ক মান্না। পরবর্তীতে এই ছবিটির নায়িকার অশ্লীল দৃশ্য কেটে প্রেক্ষাগৃহে প্রদর্শন করা হয়।

প্রথম চলচ্চিত্র “ফায়ার” এ অভিনয়ের মধ্য দিয়েই বিতর্কের সূচনা হয় পলির। চলচ্চিত্রটির চিত্রধারণ করা হয়েছিলো ব্যাংককে। সেখানে পলি নগ্ন হয়ে নেচেছিলেন, যদিও হলে প্রদর্শনের সময় সেই অংশটূকু দেখানো হয়নি। এরপর একের পর এক চলচ্চিত্রে নগ্ন বা অর্ধনগ্ন হয়ে অভিনয় করতে থাকেন পলি। সারাদেশব্যাপী তিনি বিতর্কিত হতে থাকেন। বাংলাদেশের প্রসাশন যখন চলচ্চিত্রে অশ্লীলতার বিরুদ্ধে কঠোর হতে শুরু করে, তখন পলির অভিনয়ের জনপ্রিয়তা হারিয়ে যেতে থাকে। তিনি মূলধারার চলচ্চিত্র থেকে দূরে সরে যান।

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত