প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

সামাজিক লজ্জার ভয়ে অনেকেই হয়তো কঠিন সিদ্ধান্তে যেতে চায় না

সাবিনা শারমিন: খুব সম্ভবত আমি যখন ক্লাস নাইনে পড়ি, তখন শিল্পী দম্পতি সুচরিতা আর জসীমের ডিভোর্স হয়। ডিভোর্সের পর সুচরিতা জসীম সম্পর্কে পত্রিকায় একটি মন্তব্য করেছিলেন। খুব ছোট থাকলেও কথাটি ব্যতিক্রম বলে খুব মনে আছে। তিনি বলেছিলেন। ‘ব্যক্তিসত্তার ভিন্নতার জন্য আমরা সংসার করতে পারলাম না। তাই যার যার সম্মান অটুট রেখে আমরা একে অপরকে ছেড়ে গেলাম। তবে জসীম খুব ভালো মানুষ’।

আমাদের সংস্কৃতিতে বিয়ে বিষয়টি স্বামী-স্ত্রীর ব্যক্তিগত আবেগ, রাগ অনুরাগ, প্রেমের বিষয়গুলো যতোটা না গুরুত্ব বহন করে, তার চেয়ে আরো অনেক বেশী গুরুত্ব বহন করে সামাজিক দায়বদ্ধতার বিষয়গুলো। এখানে ঘটা করে লাখ লাখ টাকা খরচ করে সামাজিক বিয়ের আয়োজন করা হয়। সামর্থ থাকুক বা না থাকুক, ধার দেনা করে হলেও হাজার হাজার মানুষকে দাওয়াত দিয়ে খাওয়ানো চাই। যার ফলে বিয়ের অনুষ্ঠানে অন্যান্য অনেক কিছুর সাথেই পাত্র-পাত্রীকে সামাজিক চাপের একটি বোঝা মাথায় দিয়ে দেয়া হয়। তাই বিয়ের পর বাস্তব জীবনে পারস্পারিক চাহিদা ও বোঝাপড়া না হলেও অনেকেই সংসারে মাটি কামড়ে পরে থাকে। আমাদের দাদী, নানী, খালারাও তেমনিই উপদেশ দেন। একবার বিয়ে করলে মাটি কামড়েই পড়ে থাকতে হয়। এটিই আমাদের সংস্কৃতি। এটিই আমাদের মূল্যবোধ। যদিও এর ভালো-মন্দ উভয়ই রয়েছে।

একটি পরিবারে নিজেদের মধ্যে একান্তই কিছু বিষয় থাকে। যা দূর থেকে অনেকেই হয়তো বুঝতে পারেনা। তাই হুটহাট করে মন্তব্য করাও ভীষণ কঠিন। তাই, সামাজিকতার লজ্জার ভয়ে অনেকেই হয়তো কঠিন সিদ্ধান্তে যেতে চায় না। এর ফলে ব্যক্তিগত ক্ষোভ অবদমিত হতে হতে আত্মহত্যায় রুপ নেয়। কথাগুলো বলছিলাম ডাক্তার আকাশের আত্মহত্যার বিষয়কে কেন্দ্র করে। ডাক্তারি পেশাটি এমন একটি পেশা, যেখানে মেধা আর অক্লান্ত পরিশ্রম ছাড়া লক্ষ্যে পৌঁছানো সম্ভব নয়। ছেলেবেলায় অনেকেইতো বলে ‘বড় হয়ে আমি ডাক্তার হয়ে মানুষের সেবা করতে চাই।’ তবে তিনি ব্যক্তিগত জীবনে অসুখী হয়েও পেশাজীবনে মানুষের সেবা করে হয়তো ভিন্ন মাত্রার সুখ পেতে পারতেন।

কিছুদিন আগে ডাক্তার লিটুর আকস্মিক মৃত্যুতে হাজার হাজার মানুষ কাঁদলো। কারণ তিনি নিবেদিত প্রাণ ডাক্তার ছিলেন। ছিলেন গরীবের বন্ধু। ডাক্তার আকাশ কি সাধারণ মানুষের সেবায় নিজের জীবনটি উৎসর্গ করতে পারতেন না? সেটি কি কম সুখের হতো? মানুষের জীবনের এই কষ্টার্জিত অর্জন কি এতোই তুচ্ছ? যদিও ব্যক্তিগত আবেগের বিষয়ে না বুঝে অন্যের জীবন নিয়ে মন্তব্য করা উচিৎ নয়। তারপরেও দুঃখ হয় পরিবারটির জন্য। বাবা-মায়ের জন্য। তাই বাস্তব জীবনে পারস্পারিক বোঝাপড়া না হলে সন্মানের সাথে ছেড়ে যাওয়া উভয়ের জন্যেই উত্তম। আমি মনে করি, আত্মহত্যায় নিজের সাথে সাথে বাবা -মাকেও হত্যা করা হয়। যার অধিকার কোন সন্তানের নেই।

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বাধিক পঠিত