প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

দেনমোহর নির্ধারণে অসুস্থ প্রতিযোগিতা নিয়ে চট্টগ্রামে

হ্যাপি আক্তার : মুসলিমদের জীবনে এক গুরুত্বপূর্ণ সম্পর্কের নাম বিয়ে। আর এ বিয়ের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ একটি শর্ত হচ্ছে-দেনমোহর। যাকে দেখা হয় স্বামীর পক্ষ থেকে স্ত্রীর অর্থনৈতিক নিরাপত্তা হিসেবে। মুসলিম আইন অনুসারে যা পাত্রপক্ষের সামর্থ অনুযায়ী নির্ধারণের কথা। কিন্তু, এ নিয়ে রীতিমত অসুস্থ প্রতিযোগিতা চলছে চট্টগ্রামে। যা বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই নির্ধারিত হচ্ছে সামর্থের কথা চিন্তা না করেই। ফলে বাড়ছে পারিবারিক অশান্তি, ভাঙছে সংসার। ঘটছে নানা অপ্রীতিকর ঘটনা। দেনমোহর নিয়ে এই অস্বাভাবিকতাকে সামাজিক ব্যাধি হিসেবে দেখছেন বিশ্লেষকরা।

চট্টগ্রামের দুটি পারিবারিক আদালতে যে প্রায় ৫ হাজার মামলা বিচারাধীন, তারমধ্যে ২ হাজারই দেনমোহর সংক্রান্ত। এরবাইরে জেলার ৭টি চৌকি আদালতেও বছরে মামলা দায়ের হয় প্রায় ১৪’শ। যার সংখ্যা প্রতিবছরই বাড়ছে।
ইসলামী চিন্তাবিদদের মতে, কুরআন-হাদীস অনুযায়ী দেনমোহর নির্ধারণে প্রাধান্য পেতে হবে পাত্রের আর্থিক সামর্থ। যা শুরুতেই আদায়যোগ্য হওয়ার কথা।

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের আরবি বিভাগের অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ গিয়াস উদ্দিন তালুকদার বলেছেন, এই মহরটি নির্ধারিত হতে হবে পারস্পরিক সমঝোতা এবং বরের সামর্থের ওপর। এ বিষয়ে আল কুরআনে আল্লাহ্ পাক বলেছেন, তোমরা স্বতস্ফূর্তভাবে এই নির্ধারিত মহর আদায় কর। তার মানে চাপ সৃষ্টি করে দেনমহর আদায় করা যাবে না।

তবে বাস্তবতা এখন ভিন্ন। চট্টগ্রামের বেশিরভাগ বিয়েতে মানা হচ্ছে না দেনমোহর নিয়ে প্রচলিত অনুশাসন। সামাজিক মর্যাদা দেখাতে গিয়ে, দেনমোহর নির্ধারণ কখনো কখনো চলে যায় বাড়াবাড়ির পর্যায়ে। এমনকি তা ৫০ লাখ থেকে কোটি টাকা পর্যন্ত ধরা হচ্ছে। যদিও তার বেশিরভাগই অনাদায়ী রয়ে যায়। ফলে এ নিয়ে প্রায় সময় ঘটছে নানা অপ্রীতিকর ঘটনা।
সমাজকর্মী জেসমিন সুলতানা পারু বলেছেন, দেনমহন এখন সমাজে দেখানোর বিষয় হয়েগেছে। দেখানোর জন্য যে কয়েক লাখ টাকা দেন মহর দেয়া হয়, বিষয়টি অত্যন্ত লজ্জাজনক ব্যাপার। বিত্তবানদের এই যে দেনমোহরের প্রতিযোগীতার ভিড়ে আমাদের গরীব ঘরের ছেলেরা বিয়ে করতে সাহস পায় না।

অভিযোগ, দেনমোহর অস্বাভাবিক হলেও নির্লিপ্ত থাকেন নিকাহ রেজিস্ট্রার। কারণ তাতে তাদের ফি বেড়ে যায়। যদিও তা স্বীকার করেননি সংশ্লিষ্টরা। চট্টগ্রাম মুসলিম নিকাহ রেজিস্ট্রার কল্যাণ সমিতির সভাপতি মুহাম্মদ ইউসুফ আলী চৌধুরী বলেছেন, মেয়ের পক্ষ থেকে দেনমহরের বিষয়ে বেশি দেওয়ার কথা হলে কমানোর জন্য উৎসাহ দেই।

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বাধিক পঠিত