প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

আত্মহত্যা করলেই সেই মানুষ নির্দোষ, এমন ভাবার কোনো যুক্তি নেই

তসলিমা নাসরিন

আত্মহত্যা করলেই সে মানুষ নির্দোষ এমন ভাবার কোনো যুক্তি নেই। মাথায় অসুখ, সে কারণে অনেকে আত্মহত্যা করে। রাগে, জিদে, হিংসায় ও ঘৃণায় হিতাহিত জ্ঞান হারিয়েও কেউ কেউ আত্মহত্যা করে। কাউকে খুন করে, অত্যাচার নির্যাতন করে, পালানোর পথ না পেয়ে শাস্তির ভয়ে বা গøানিতেও অনেকে করে আত্মহত্যা। বাংলাদেশে এক ডাক্তার ছেলে আত্মহত্যা করেছে। কারণ তার ডাক্তার বউটি অন্য ছেলেদের সঙ্গে প্রেম করতো, শুতো। এতে বড্ড রাগ হয়েছে ছেলের, তাই আত্মহত্যা করেছে। আত্মহত্যা করার মানেই সে তার বউকে খুব ভালোবাসতো, তা প্রমাণ করে না। বউ তাকে ছেড়ে চলে যাবে, ডিভোর্স দেবে- বউয়ের এতো বড় স্পর্ধা তার সহ্য হয়নি। আত্মঅহমিকা অনেক সময় এতো অতিকায় হয়ে ওঠে, এতে চিড় ধরলে মানুষ আত্মহননের পথ বেছে নিতে দ্বিধা করে না। ডাক্তার ছেলেটির হাত হয়তো নিশপিশ করছিলো বউকে আর বউয়ের প্রেমিকদের খুন করতে, কিন্তু দেশশুদ্ধ লোক জানবে সে খুনি, দেশশুদ্ধ লোক দেখবে তার ফাঁসি হচ্ছে বা তাকে জেলের ভাত খেতে হচ্ছে যাবজ্জীবন। এই ব্যাপারটি তার ভালো লাগেনি। খুন করতে না পারার এই অক্ষমতাও মানুষকে আত্মহত্যা করতে প্ররোচনা দেয়। যাকে আমি আমার অধীন রাখতে চেয়েছি, আমার চেয়ে ক্ষুদ্র, আমার চেয়ে তুচ্ছ, আমার চেয়ে মূর্খ না হয়ে যদি সে আমার হাতের মুঠো থেকে বেরিয়ে আমাকেই টেক্কা দেয় বা আমাকে অবজ্ঞা করে, তাহলে এ জীবন রাখার কোনও মানে নেই। ঈর্ষা ভয়ঙ্কর হয়ে উঠলে কী করে মানুষ? হয় হত্যা, নয় আত্মহত্যা। কেউ একজন আত্মহত্যা করেছে, সুতরাং সে খুব সৎ ছিলো, সরল ছিলো, মহান ছিলো, মহামানব ছিলোÑ এই ধারণাটি মস্ত ভুল ধারণা। কুখ্যাত খুনি হিটলার আত্মহত্যা করেছিলো। বহু খুনি, সন্ত্রাসী, আপরাধীই আত্মহত্যা করেছে। বিশ্বাস না হয় ইতিহাস ঘেঁটে দেখুন। আজকাল তো ইতিহাস কেউ ঘাঁটে না। সহজ উপায় বলে দিই, গুগল সার্চ করুন, ‘মার্ডারার্স হু কমিটেড সুইসাইড’, অথবা ‘ক্রিমিনালস হু কমিটেড সুইসাইড’। দেখুন লিস্ট কতো লম্বা। ফেসবুক থেকে

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত