প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

দুর্নীতিবাজ কর্মকর্তাকে পদোন্নতির পাঁয়তারা

যুগান্তর : সাড়ে ৮ কোটি টাকার আর্থিক অনিয়মের অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ার পরও পদ্মা অয়েল কোম্পানির এক কর্মকর্তাকে দ্বিতীয় দফা পদোন্নতির প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। এ ঘটনায় সাধারণ কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মধ্যে চরম অসন্তোষ বিরাজ করছে। তাদের মতে, ‘দুর্নীতির অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় যেখানে শাস্তি হওয়ার কথা সেখানে ওই কর্মকর্তাকে পদোন্নতি দিয়ে উল্টো পুরস্কৃত করা হচ্ছে। আর এ ঘটনা দুর্নীতিকে উসকে দেয়ারই নামান্তর।’

‘দুর্নীতিবাজ’ এ কর্মকর্তার নাম মোসাদ্দেক হোসেন। কোম্পানির ম্যানেজার (অ্যাগ্রো কেমিক্যাল প্ল্যান্ট) থাকা অবস্থায় ৮ কোটি ৫৭ লাখ টাকার আর্থিক অনিয়মের অভিযোগ উঠে এ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে। তদন্তে অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ার পর তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে বলা হলেও ব্যবস্থা নেয়া হয়নি। সূত্র জানায়, শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেয়ার পরিবর্তে ওই কর্মকর্তাকে ২০০৫ সালে ম্যানেজার থেকে এজিএম (সহকারী মহা-ব্যবস্থাপক) করা হয়।

বর্তমানে জিএম (মহা-ব্যবস্থাপক) হিসেবে পদোন্নতি পেতে বোর্ডে আবেদনের পর তদবির-লবিং শুরু করেছেন ওই কর্মকর্তা। এরই মধ্যে পদ্মার বোর্ড সভা থেকে ওই কর্মকর্তার আবেদনের বিষয়টি পর্যালোচনা করার জন্য পদোন্নতি কমিটিকে বলা হয়েছে।

জানতে চাইলে পদ্মা অয়েল কোম্পানি লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মাসুদুর রহমান বলেন, ‘কেউ পদোন্নতির জন্য আবেদন করলেই পদোন্নতি দেয়া যায় না। আইনের ব্যত্যয় ঘটিয়ে কোনো কর্মকর্তাকে পদোন্নতি দেয়ার সুযোগও নেই। যাকে পদোন্নতি দেয়া হবে তার অতীত রেকর্ড ও কর্মকাণ্ড বিবেচনা করেই সিদ্ধান্ত নেয়া হবে। এজিএম মোসাদ্দেক হোসেনের পদোন্নতির বিষয়টিও পর্যালোচনা করে দেখতে সংশ্লিষ্ট কমিটিকে নির্দেশনা দিয়েছে কোম্পানির বোর্ড সভা। এরপরই আমার কাছে আসবে। এমডি হিসেবে আমি অবশ্যই বিষয়টি দেখব। আইনের ব্যত্যয় ঘটিয়ে কোনো কিছু করার সুযোগ নেই।’ সূত্র জানায়, মোসাদ্দেক হোসেন ১৯৯৩ থেকে ৯৯ সাল পর্যন্ত কোম্পানির অ্যাগ্রো কেমিক্যাল প্ল্যান্টে ব্যবস্থাপকের দায়িত্ব পালনকালে কৃষিকাজে ব্যবহারের জন্য বিপুল পরিমাণ ওষুধ ফুরাডান (ধানের জন্য ব্যবহৃত দানাদার ওষুধ) এবং মেরাডান (ধানের জন্য ব্যবহৃত তরল ওষুধ) ‘হাওয়া’ হয়ে যায়। অভিযোগ ওঠার পর ২০০০ সালে তা তদন্তের জন্য কোম্পানির তৎকালীন ব্যবস্থাপক ফার্টিলাইজার ডেভেলপমেন্ট মাহমুদ উল আলমকে আহ্বায়ক ও অ্যাকাউন্টস এক্সিকিউটিভ মহিউদ্দিন আহমেদকে সদস্য করে তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়।

ওই কমিটি তদন্ত শেষে ৪ সেপ্টেম্বর ২০০০ সালে রিপোর্ট দাখিল করে। রিপোর্টে কোম্পানির ৮ কোটি ৫৭ লাখ টাকা আর্থিক ক্ষতির জন্য প্ল্যান্ট ম্যানেজার প্রকৌশলী মোসাদ্দেক হোসেনকে দায়ী করে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ার সুপারিশ করা হয়। কিন্তু দেখা গেছে, ওই কমিটি রিপোর্ট দেয়ার পরও তার বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেয়া হয়নি। বরং ২০০৫ সালে ওই কর্মকর্তা ব্যবস্থাপক (ম্যানেজার) থেকে সহকারী মহাব্যবস্থাপক (এজিএম) এবং ২০১২ সালে উপ-মহাব্যবস্থাপক (ডিজিএম) পদে পদোন্নতি লাভ করেন। সর্বশেষ গত বছরের ১০ এপ্রিল মহাব্যবস্থাপক পদে পদোন্নতি পেতে আবেদন করেন তিনি।

পদ্মা অয়েলের সাধারণ কর্মকর্তা-কর্মচারীরা বলছেন, ‘আশ্চর্য হলেও সত্য যে, একজন কর্মকর্তার বিরুদ্ধে কোম্পানির সাড়ে ৮ কোটি টাকার ক্ষতির প্রমাণ পাওয়ার পরও ওই কর্মকর্তা দিব্যি পদোন্নতি পেয়ে যাচ্ছেন- এতে একদিকে কোম্পানির সৎ কর্মকর্তারা নিরুৎসাহিত ও হতাশ হচ্ছেন; অন্যদিকে অসৎ কর্মকর্তারা উৎসাহিত হচ্ছেন- যা কোনোভাবেই কাম্য নয়।

সর্বাধিক পঠিত