প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

সংসদে যান, তারেককে ছাড়ুন, বিএনপিকে কূটনীতিকদের পরামর্শ

সালেহ্ বিপ্লব : সংসদে যান, তারেক রহমানকে নেতৃত্ব থেকে সরিয়ে দিন, জামায়াতকে ছাড়ুন- বিএনপি নেতাদের প্রতি এমনই আহ্বান জানিয়েছেন বিদেশি কূটনীতিকরা। এই তিন পরামর্শসহ মোট ৫টি পরামর্শের কথা জানা গেছে দলীয় এবং কূটনৈতিক সূত্রে। অন্য দুটি পরামর্শ হচ্ছে, গণতান্ত্রিক রীতিনীতি ধরে রাখা এবং ধর্মনিরপেক্ষতার চর্চা করা। আর এ খবর দিয়েছে ওপেন সোর্সেস অনলাইন ম্যাগাজিন ‘আমাদের রাজনীতি’।
প্রতিবেদনে বলা হয়, বিএনপির সংসদ বর্জন আর শপথ না নেয়ার সঙ্গে একমত নন বিদেশি কূটনীতিকরা। তারা বিএনপি নেতাদের সংসদে যাওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন। যে কজন সংসদ সদস্য আছেন তাদেরকে নিয়েই সংসদে কথা বলার আহ্বান জানিয়েছেন।
উল্লেখ্য, বিএনপি একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর পরই যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, ইইউসহ বিভিন্ন দেশ ও কূটনীতিক মহলের কাছে অভিযোগ করে, নির্বাচনে অনিয়ম ও ভোট কারচুপি হয়েছে। তাই দলের নির্বাচিত এমপিরা সংসদে শপথ নেবে না বলেও আনুষ্ঠনিক ঘোষণা দিয়েছে বিএনপি। এক মাসের বেশি সময় দলটি এমন অনড় অবস্থানে থাকলেও অধিকাংশ দূতাবাসই বিএনপির এ অবস্থানের প্রতি সমর্থন জানায়নি বলে খবর পাওয়া গেছে। বরং তারা বলেছে যে, বিএনপির উচিৎ সংসদে গিয়ে বিরোধী দল হিসেবে তাদের যৌক্তিক ভূমিকা পালন করা ।

শনিবার বিএনপির একটি উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধি দল ইউরোপীয় ইউনিয়নের প্রতিনিধিদলের সঙ্গে বৈঠক করে। ইইউ প্রতিনিধিরা বিএনপির সংসদে যাওয়ার পক্ষে মত দিয়েছেন। বিএনপির দায়িত্বশীল সূত্রের বরাত দিয়ে ওপেন সোর্সেস অনলাইনটি জানায়, নির্বাচনে কারচুপির প্রকৃত চিত্র তুলে ধরতে বিএনপির দু’জন শীর্ষস্থানীয় নেতা ঢাকাস্থ ভারতীয় হাইকমিশনে কূটনীতিকদের সঙ্গে কথা বলেন। বৈঠকে উপস্থিত কূটনীতিকরা বিএনপিকে সংসদে যাওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন।
জানা গেছে, শুধু ভারত নয়, যুক্তরাষ্ট্রও চাইছে, বিএনপি যেনো সংসদে যায়। দু’দেশই অভিন্ন অবস্থানে থেকে বিএনপিকে পাঁচটি পরামর্শ দিয়েছে।
প্রথমত , যুক্তরাষ্ট্র এবং ভারত বিএনপিকে বলেছে যে, যত ক্ষুদ্র রাজনৈতিক দলই হোক না কেনো, সংসদে গিয়ে কথা বলতে হবে। যদি তাদের কথা বলতে না দেয়া হয়, কিংবা তাদের বক্তব্য না শোনা হয়, সেই বিষয়গুলো আন্তর্জাতিক মহল দেখবে। সেটাই গণতান্ত্রিক রীতি।

দ্বিতীয় পরামর্শ হচ্ছে, ২০ দলীয় জোট বিলুপ্ত করা। কূটনীতিকরা মনে করছেন, জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট গঠনের পর থেকে ২০ দলীয় জোটের কোনো কার্যক্রম নেই। আর ২০ দলে যেহেতু জামায়াতসহ ইসলামপন্থী মৌলবাদী রাজনৈতিক দলগুলো রয়েছে তাই এই জোট বিলোপ করে জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের দিকে মনোনিবেশ করার জন্যই পরামর্শ দেয়া হয়েছে বিএনপিকে।

তৃতীয় পরামর্শটি নিঃসন্দেহে বিএনপিকে ভাবিয়ে তোলার মতো। ভারত ও যুক্তরাষ্ট্রের পাশাপাশি ইউরোপীয় ইউনিয়নও মনে করে, আপাতত তারেক রহমানের বিএনপির নেতৃত্বে থাকা বাস্তবসম্মত নয়। তাদের বক্তব্য হচ্ছে যে, যেহেতু তিনি দেশের বাইরে এবং একাধিক মামলায় দণ্ডিত, সেজন্যে তার নেতৃত্বে থাকা উচিৎ নয়। যে কারণে বেগম খালেদা জিয়া বিএনপির চেয়ারপারসন নেই, সেই একই কারণে তারেক জিয়ারও বিএনপির নেতৃত্বে থাকা উচিৎ নয়। বরং সবার কাছে গ্রহণযোগ্য একজন ক্লিন ইমেজধারীর নেতৃত্বে বিএনপির রাজনীতি এগিয়ে নেয়ার প্রস্তাব করা হয়েছে।
চতুর্থত, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র পরামর্শ দিয়েছে যে, কোনো অবস্থাতেই বিএনপি যেনো গণতান্ত্রিক রাজনীতির পথ থেকে বিচ্যুত না হয়। সহিংসতা, সন্ত্রাসবাদ বা অন্য কোনো পন্থায় আন্দোলনের মাধ্যমে সরকারকে হটিয়ে দেওয়ার কৌশল যেনো বিএনপি গ্রহণ না করে। বরং গণতান্ত্রিক রাজনীতির ধারায় বিএনপি যেনো ধাপে ধাপে অগ্রসর হয় সে পরামর্শই দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র।
পঞ্চম পরামর্শটি দেয়া হয়েছে ভারতের পক্ষ থেকে। আর তা হলো, সেক্যুলার রাজনীতির চর্চা করা। বিএনপি যেন তার রাজনীতিতে সকল ধর্মের সহাবস্থান এবং ধর্মনিরপেক্ষ বাংলাদেশ গড়ার ক্ষেত্রে তার নীতি এবং কৌশল প্রনয়ণ করে- কূটনীতিকদের মাধ্যমে সে আহ্বান জানিয়েছে ভারত।

বিএনপি যদিও এখনো বলছে যে, কোনো অবস্থাতেই তাদের নির্বাচিত সংসদ সদস্যরা শপথ নেবেন না এবং সংসদে যাওয়ার প্রশ্নই আসে না। এই পরিস্থিতিতে ভারত, যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের এই পরামর্শগুলোর মাধ্যমে কার্যত সংসদে যাওয়ার জন্য বিএনপির ওপর চাপ বাড়লো। আন্তর্জাতিক চাপের মুখে বিএনপি সংসদে না যাওয়ার সিদ্ধান্ত থেকে সরে আসতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে। পাঁচ পরামর্শের অন্য তিনটি গ্রহণ করার ক্ষেত্রে তেমন সমস্যা না থাকলেও তারেক রহমানকে নেতৃত্ব থেকে সরিয়ে দেয়ার প্রস্তাবটি মেনে নেয়া বিএনপির জন্য খুব একটা সহজ হবে বলে আপাতত মনে হচ্ছে না।

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বাধিক পঠিত