প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

মোফাজ্জল করিম বললেন, টেকনাফ এলাকায় ইয়াবা ব্যবসা রীতিমতো একটি মর্যাদার প্রতীক হিসেবেই পরিগণিত হয়ে আসছে

নাঈমা জাবীন : সাবেক সচিব ও কবি মোফাজ্জল করিম বলেছেন, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ইয়াবা ব্যবসায়ীদের একটি তালিকা বানিয়েছে। ৭৩ জনের সেই তালিকায় টেকনাফের সাবেক সংসদ সদস্য আব্দুর রহমান বদি, তার ভাই, ভাগিনা, স্বজনসহ ২৬ জনের নাম আছে। বদি দীর্ঘদিন হাজতবাসের পর সম্প্রতি বেরিয়ে এসেছেন। একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে এই জাতীয় পর্যায়ে আলোচিত নেতা, আফসোস, তার দল থেকে মনোনয়ন পাননি। তবে তার মতো একজন কাবিল নেতাকে তো আর একেবারে শূন্যহাতে ফিরিয়ে দেয়া যায় না, মনোনয়ন পেয়েছেন ও নির্বাচিত হয়েছেন তার সুযোগ্য পতœী। সূত্র : কালের কণ্ঠ

তিনি আরও বলেন, না, না, ইয়াবা তালিকায় ভদ্রমহিলার নাম নেই। পত্রিকার রিপোর্ট থেকে আরও জানা গেলো, একজন সাবেক সংসদ সদস্য (যিনি আবার কোনো একটি কলেজের অধ্যাপক (!), নাম মোহাম্মদ আলী) ও তার দুই পুত্র এবং টেকনাফ উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ও তার ছেলের নামও আছে তালিকায়। এমনি এলাকার আরও কিছু গণ্যমান্য ব্যক্তি ও তাদের পরিবার-পরিজনের নামও তালিকার শোভাবর্ধণ করছে। এ থেকে প্রতীয়মান হয়, ওই এলাকায় ইয়াবা ব্যবসা শুধু একটি জনপ্রিয় ব্যবসাই নয়, এটি রীতিমতো একটি মর্যাদার প্রতীক বা ‘স্ট্যাটাস সিম্বল’ হিসেবেই পরিগণিত হয়ে আসছে। আর যেসব রুই-কাতলার নাম গণমাধ্যমের বদৌলতে প্রসিদ্ধি লাভ করেছে, তাদের মধ্যে একমাত্র সাবেক সংসদ সদস্য বদিরই বোধহয় রাষ্ট্রীয় মেহমান হয়ে কিছুদিন হাজতখানায় মেহমানদারি উপভোগ করার সৌভাগ্য হয়েছে। পত্র-পত্রিকা মারফত আরও জানা গেলো, বদি সাহেব ওই শাহী মেহমানখানা থেকে জামিনে বের হয়ে এলাকায় ফিরে গিয়ে নাকি তার কওমের লোকজনকে ইয়াবার প্রতিষ্ঠিত ব্যবসা-বাণিজ্য ছেড়ে, তওবা-তাহিদ করে, সুবোধ বালক সেজে আইনের রক্ষকদের কাছে আত্মসমর্পণ করতে বলছেন। তার এই মহতী উদ্যোগের কারণেই হোক, আর বন্দুকযুদ্ধে অকালে ‘শহীদ’ হয়ে গণমাধ্যমে নাম-ধাম ছাপা হওয়ার দুশ্চিন্তা থেকেই হোক, শোনা যায়, কক্সবাজার-টেকনাফ-উখিয়া অঞ্চলের ইয়াবা সম্প্রদায় রাতারাতি বড়লোক হওয়ার খোয়াব দেখা থেকে ধীরে ধীরে সরে যাচ্ছে। শুনে দলমত নির্বিশেষে সবাই আনন্দিত হবেন সন্দেহ নেই। তবে নাটের গুরুরা হয়তো বলবেন, ইয়াবা ব্যবসার মতো একটি প্রভূত সম্ভাবনাময় অর্থকরী ব্যবসা, একটি উদীয়মান শিল্প, হঠাৎই মুখ থুবড়ে পড়ে গেলে এলাকা তথা দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়ন বাধাগ্রস্ত হতে পারে কিনা সরকারের তা ভেবে দেখা দরকার। সেইসঙ্গে এমন একটি গুরুত্বপূর্ণ ব্যবসায়/শিল্পে পৃষ্ঠপোষকতা না দিলে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে দেশের ভাবমূর্তি যেমন বিনষ্ট হওয়ার আশঙ্কা আছে, তেমনি এই সেক্টরে বিদেশি বিনিয়োগও আসবে না। বিনা পুঁজিতে কোনো রকম ‘টেকনিক্যাল নো-হাও’ ও পূর্ব অভিজ্ঞতা ছাড়াই ওই এলাকার শত শত তরুণের কর্মসংস্থান করতেন যেসব মাদক স¤্রাট-স¤্রাজ্ঞী বলে পরিচিত উদ্যোগী পুরুষ ও মহিলা, যারা হয়তো অদূর ভবিষ্যতে মিয়ানমার থেকে জান নিয়ে ভেগে আসা লাখ লাখ রোহিঙ্গাকে এই ব্যবসাতে নিয়োগ করতে পারতেন, এমনকি মিয়ানমারের সঙ্গে যৌথ উদ্যোগে বাংলাদেশের আনাচে-কানাচে ভুরি ভুরি ইয়াবা শিল্প স্থাপন করে শিল্পাঙ্গনে এক নতুন দিগন্তের সূচনা করতে পারতেন, তারা শুধু দীর্ঘশ্বাস ফেলে নিশ্চয়ই বলবেন, ‘সত্যি, এদেশে গুণীর কদর নেই, কিস্সু হবে না এই দেশের!’

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বাধিক পঠিত