প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পখাতের লাইট ইঞ্জিনিয়ারিং শিল্পের গুরুত্ব দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে

যশোর প্রতিনিধি: যশোর জেলা যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক পৌর মেয়র জহিরুল ইসলাম চাকলাদার রেন্টু বলেছেন, লাইট ইঞ্জিনিয়ারিং শিল্পকে বাচিয়ে রাখতে হবে। এক সময়কার যুদ্ধ বিধ্বস্ত দেশ জাপান এই শিল্পে বিষ্ময়কর সাফল্য অর্জন করেছে। যা অনুস্বরন করে পরবর্তীতে এশিয়া ইউরোপ ও আমেরিকার অনেক ছোট রাষ্ট্র সফলতা পেয়েছে। বাংলাদেশে ও বিভিন্ন পর্যায়ে ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পখাতের আওতাধীন লাইট ইঞ্জিনিয়ারিং শিল্পের গুরুত্ব দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে। বর্তমান বিশ্ব পরিবর্তনশীল ও তীব্র প্রতিযোগিতাপূর্ন। মুক্তবাজার অর্থনীতির এই বিশ্ব ব্যবস্থায় দেশের শিল্প সমুহের আন্তর্জাতিক বাজারে প্রতিযোগিতার অন্যতম চ্যালেঞ্জ প্রযুক্তি নির্ভর শিল্পায়ন ও উৎপাদন সেভাবে বৃদ্ধি করা। উৎপাদন বৃদ্ধির সাথে অতোপ্রতো ভাবে জড়িয়ে আছে স্বাস্থ্যকর কর্ম পরিবেশ ও কর্মস্থানের নিরাপত্তা সর্বস্তরে শ্রমবান্ধব পরিবেশ গড়ে তোলার লক্ষ্যে বাংলাদেশ শ্রম আইন ২০০৬ শ্রম বিধি মালা ২০০০ প্রনীত হয়েছে। সরকার ২০১০ সারৈ ৩৮ টি সেক্টরকে ঝুকিপূর্ন সেক্টর হিসেবে চিহ্নিত করেছে। এসব সেক্টরের মদ্যে ইঞ্জিনিয়ারিং ওয়ার্কসপ একটি ঝুকিপূর্ন সেক্টর হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে। লাইট ইঞ্জিনিয়ারিং শিল্প পন্যের ব্যবসা সম্প্রসারণ চ্যালেঞ্জ ও প্রতিক রের উপায় শীর্ষক আজকের সেমিনারে স্বাস্থ্য কর্ম পরিবেশ এবং কর্মস্থানের নিরাপত্তা একটি উল্লেখ বলে মনে করি। এই চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় শ্রম আইন বাস্তবায়নের মাধ্যমে কারখানা গুলোর স্বাস্থ্যকর কর্ম পরিবেশ এবং কর্মস্থানের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা সম্ভব।

তিনি বলেন, আজকের শিশু আগামি দিনের ভবিষ্যত। শিশু শ্রম নিরসনে বর্তমান সরকার অত্যন্ত তৎপর। ২০২১ সালের মধ্যে সকল ঝুকি পূর্ন সেক্টর হতে এবং ২০২৫ সালের মধ্যে সকল সেক্টর হতে শিশু শ্রম নিরসনের পরিকল্পনা গ্রহন করেছে।
প্রধান অতিথি বলেন, এই শিল্পের মাধ্যমে প্রায় ১৫ থেকে ২০ হাজার মানুষের কর্মসংস্থান হচ্ছে। আমাদের দেশে যেসব শিল্প কলকারখানা গার্মেন্টস আছে সবই কিন্তু গতানুগতিক। হয়তো এসব ইউরোপ এশিয়ায় আছে তারই আর একটি আমেদের এখানে হচ্ছে। কিন্তু এই লাইট ইজ্ঞিনিয়ারিং সেক্টর সৃষ্টিশীল। আপনারা এমন একটি পাটর্স তৈরি করছেন যেটা আপনাদের মেধা দিয়েই তৈরি হয়েছে। আগে ছাদ ধালাই করতে গেলে হাতুড়ি দিয়ে খোয়া ভাংতে হতো। কিন্তু আপনারা মেধা খাটিয়ে খোয়া ভাঙ্গা মেশিন তৈরির পর এখন আর হাতে খোয়া ভাঙ্গা লাগে না। হাতে খোয়া ভাঙ্গার প্রচলন উঠে গেছে। এখন মেশিনে খোয়া ভাঙ্গা হয়। ছাদ ঢালাই করতে হলে আগে মাথায় করে পাঁচতলায় খোয়া উঠাতে হতো। এখন আপনাদের সৃষ্টি করা ছোট ছোট ক্রেনের মতো মেশিন দিয়ে খোয়া উপরে চলে যাচ্ছে।

সোমবার সকালে শহরের মনিহার কমিউনিটি সেন্টারে আয়োজিত লাইট ইঞ্জিানয়ারিং শিল্প পন্যের ব্যবসা সম্প্রসারনের চ্যালেঞ্জ ও প্রতিকারের উপায় শীর্ষক সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তৃতায় তিনি এসব কথা বলেন।

প্রধান অতিথি দেশের উন্নয়ন ও অগ্রগতির কথা উল্লেখ করে বলেন, বর্তমানে দেশ যে ভাবে এগিয়ে যাচ্ছে সেই তুলনায় লাইট ইঞ্জিনিয়ারিং শিল্প এগোচ্ছে না। তাই লাইট ইঞ্জিনিয়ারিং শিল্পের নেতৃবৃন্দকে ঠিক করতে হবে তারা কি চান। তাদের কোন সমস্যা সমাধান হলে লাইট ইঞ্জিনিয়ারিং শিল্পের দ্রুত প্রসার ঘটবে। আর এ বিষয় গুলি চিহ্নিত করে সরকারের উচ্চ পর্যায়ে তুলে ধরে দ্রুত এর সমাধান করতে হবে।
বাংলাদেশ ইঞ্জিনিয়ারিং শিল্প মালিক সমিতির জেলা শাখার সভাপতি আশরাফুল ইসলাম বাবুর সভাপতিত্বে সেমিনারে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ ইঞ্জিনিয়ারিং শিল্প মালিক সমিতির কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি আব্দুর রাজ্জাক, কল-কারখানা ও প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন অধিদপ্তর যশোরের উপ-মহা পরিদর্শক সৌমেন বড়ুয়া, নাসিবের যশোরে জেলা সভাপতি সাকির আলী, দৈনিক সংবাদ যশোরের বিশেষ প্রতিনিধি রুকুনউদ্দৌলাহ।

স্বাগত বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ ইঞ্জিনিয়ারিং শিল্প মালিক সমিতির যশোর জেলার সাধারণ সম্পাদক হারুন অর রশিদ। সেমিনারে মূল প্রবন্ধ পাঠ করেন ইউসেপ বাংলাদেশের চীপ প্রোগ্রাম অফিসার হাবিবুর রহমান।

অন্যান্যের মধ্যে বক্তৃতা করেন বাংলাদেশ ইঞ্জিনিয়ারিং শিল্প মালিক সমিতির কনসালটেন্ট মাসুম তালুকদার, সংগঠনের সাবেক সভাপতি কাজি কাদের, সাবেক সভাপতি আবু তালেব বাচ্চ প্রমুখ। বাংলাদেশ ইঞ্জিনিয়ারিং শিল্প মালিক সমিতি (বাইশিমাস) ও বানিজ্য মন্ত্রালয়ের আওতাধীন লাইট ইঞ্জিনিয়ারিং প্রোডাক্ট বিজনেস প্রমোশন কাউন্সিলের যৌথ উদ্যেগে এই সেমিনারের আয়োজন করা হয়।

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত