প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

বাংলাদেশে প্রতি বছর এক লাখ ২২ হাজার ৪০০ মানুষের মৃত্যু হচ্ছে বায়ুদূষণের কারণে

মুহাম্মদ নাঈম : বাংলাদেশে প্রতি বছরে এক লাখ ২২ হাজার ৪০০ মানুষের মৃত্যু হচ্ছে বায়ুদূষণে। এবং শিশুমৃত্যুতে পাকিস্তানের পরই বাংলাদেশের স্থান। এ জন্য দায়ী পার্টিকুলেট মেটার (পিএম) ২.৫। এই পিএম ২.৫ শ্বাসের মাধ্যমে শরীরের অত্যাবশ্যক অঙ্গ যেমন- হার্ট, ব্রেইন, ফুসফুসে গিয়ে প্রবেশ করে হার্ট অ্যাটার্ক, ব্রেইন স্ট্রোক ও ক্যান্সারসহ শ্বাস-প্রশ্বাসে বিঘ্ন ঘটায়।

পার্টিকুলেট মেটার ২.৫ ছড়িয়ে পড়ে গাড়ি ও কলকারখানার ধোঁয়া, ইটভাটা, কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎ কারখানা, কৃষিভিত্তিক কাজ, নির্মাণকাজ এবং রাস্তায় ছড়িয়ে থাকা ধুলা থেকে। যন্ত্র থেকে ছড়িয়ে পড়া ধুলা ও ধোঁয়া থেকে ক্ষুদ্র কণাগুলো বাতাসে ছড়িয়ে পড়ছে। বায়ুদূষণে বিশ্বে শীর্ষে রয়েছে চীন, দ্বিতীয় অবস্থানে ভারত। এরপর পর্যায়ক্রমে ইউরোপীয় ইউনিয়নের দেশগুলো, রাশিয়া এবং পাকিস্তানের পরই বাংলাদেশের অবস্থান।

যুক্তরাষ্ট্রের গবেষণা সংস্থা ইফেক্টস ইনস্টিটিউট এবং ইনস্টিটিউট ফর হেলথ মেট্রিক অ্যান্ড ইভালুয়েশনের যৌথ উদ্যোগে পরিচালিত জরিপে বলা হয়েছে। ‘বায়ুতে ক্ষতিকর উপাদানের মধ্যে মানবদেহের জন্য সবচেয়ে মারাত্মক উপাদান পিএম ২.৫ অন্যতম।’গবেষণা প্রতিবেদন অনুসারে বিশ্বে যেসব কারণে সবচেয়ে বেশি মৃত্যু হয় বায়ুদূষণ তার অন্যতম কারণ।
কেবল ২০১৫ সালে বিশ্বে ৪২ লাখ মানুষ মারা যায় বায়ুদূষণে। এসব ঘটনা সবচেয়ে বেশি ঘটছে চীন ও ভারতে। ২০১৫ সালে চীনে ১১ লাখ আট হাজার ১০০ জন মারা যায়। ইউরোপীয় ইউনিয়নের দেশগুলোতে একই বছরে মারা গেছে এক লাখ ৫৭ হাজার ৫০০, পাকিস্তানে এক লাখ ৩৫ হাজার ও যুক্তরাষ্ট্রে ৮৮ হাজার মানুষ।

পরিবেশ অধিদফতরের মনজুরুল হান্নান খান বলেন, সাধারণত শুষ্ক মওসুমে ইটভাটা চালু থাকায় এবং ব্যাপকভাবে উন্নয়নকাজ চলমান থাকায় ঢাকা শহরে দূষণের মাত্রা বেশি থাকে। বর্ষা এলে এ মাত্রা কমে যায়। বায়ুদূষণের ব্যাপারে সচেতনতা সৃষ্টি করতে পারলে দূষণ অনেকটাই কমে যাবে। এ জন্য ব্যাপক প্রচারণার প্রয়োজন আছে। পরিবেশবাদীরা ইটভাটাগুলো আধুনিকায়নের কথা বলছেন অনেক আগে থেকে। প্রচলিত পদ্ধতিতে ইট তৈরি না করে উন্নত পদ্ধতি ব্যবহার করা উচিত ছিল। কিছু কোম্পানি পরিবেশসম্মত ইট উৎপাদনও করছে বাংলাদেশে।

পাবলিক হেলথ বাংলাদেশের সাবেক চেয়ারম্যান ও বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার সাবেক আঞ্চলিক উপদেষ্টা অধ্যাপক মোজাহেরুল হক জানান, ঢাকায় বিভিন্নভাবে বায়ুদূষণ হয়ে থাকে। নির্মাণকাজের ধুলা, গাড়ি থেকে নির্গত ধোয়া, ময়লা-আবর্জনা থেকে উদগত জীবাণু থেকে বায়ুদূষণ হয়ে থাকে। ধুলা ও ধোয়া থেকে যে পার্টিকুলেট বস্তু বাতাসে ভেসে বেড়াচ্ছে তা থেকে রেসপিরেটরি ইনফেকশন (শ্বাসযন্ত্রে সংক্রমণ) হয়ে থাকে। এসব থেকে ফুসফুসে ক্যান্সার ও ব্রেইন ক্যান্সার হয়ে থাকে বলে বিভিন্ন গবেষণা রয়েছে। এছাড়া রাজধানী বস্তি এলাকায় চুলার ধোয়া থেকেও বস্তিবাসীদের বিভিন্ন রোগ হচ্ছে। এসব থেকে কমিউনিকেবল অথবা নন-কমিউনিকেবল উভয় রোগ হয়ে থাকে। রাজধানীর বস্তিবাসীর মধ্যে শ্বাস-প্রশ্বাসে বিভিন্ন ইনফেকশন বেশি।

জাতীয় ক্যান্সার ইনস্টিটিউট ও হাসপাতালে এপিডেমিওলজির (মহামারী রোগ) বিভাগীয় প্রধান ডা. হাবিবুল্লাহ তালুকদার রাসকিন বলেন, কার্বন-ডাই অক্সাইড ও ধোয়া ক্যান্সারের ঝুঁকি বাড়ায়। ধুলা ও ধোয়ার কারণে প্রথমে ফুসফুস আক্রান্ত হতে পারে। চিকিৎসা না হলে অথবা ধুলা ও ধোঁয়ার পরিবেশ থেকে দূরে থাকতে না পারলে প্রথমে শ্বাসকষ্ট অথবা হাঁপানি হতে পারে। এ রোগগুলো দীর্ঘ সময় চলতে থাকলে এক সময় ক্যান্সারও হতে পারে।

সর্বাধিক পঠিত