প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

আকাশের সঙ্গে আর সংসার না করার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন মিতু

নিউজ ডেস্ক: স্ত্রীকে দায়ী করে আত্মহত্যা করা চট্টগ্রামের তরুণ চিকিৎসক মোস্তফা মোরশেদ আকাশের সঙ্গে সংসার করবেন না বলে একাধিকবার সিদ্ধান্ত নিলেও নিজ পরিবারের চাপে তানজিলা হক চৌধুরী মিতু ডিভোর্সের পদক্ষেপ নিতে পারেননি। একাধিকবার স্বামীর সঙ্গে কলহের পর বাড়ি থেকে পারিবারিক চাপেই তাকে আপস করতে হয়েছে বলে জানিয়েছেন তিনি।

প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে পুলিশকে এসব কথা বলেছেন আকাশের স্ত্রী মিতু। তিনি আরও জানান, গত বৃহস্পতিবার স্বামীর সঙ্গে ঝগড়াঝাটি করে ভোরবেলা বাবার বাড়িতে চলে যান বলেও জানান তিনি। ওইসময়ও তার মনোভাব ছিল, ওই সংসারে আর ফিরে যাবেন না তিনি। এরই মধ্যে আকাশের আত্মহত্যার খবর পান এবং পরিবারের পরামর্শে গ্রেফতার এড়াতে আত্মগোপনে চলে যান মিতু।

আত্মগোপনে গেলেও গ্রেফতার এড়াতে পারেননি তিনি। বৃহস্পতিবার রাতে নগরীর নন্দনকানন এলাকায় খালাতো ভাইয়ের বাসা থেকে মিতুকে গ্রেফতার করে সিএমপির কাউন্টার টেরোরিজম ইউনিট। তার স্বীকারোক্তি অনুযায়ী আমানত শাহ (র.) মাজার এলাকা থেকে তার ব্যবহৃত মোবাইল ফোনটি উদ্ধার করে পুলিশ। এর আগে আকাশের ব্যবহৃত মোবাইল ফোনটি জব্দ করে পুলিশ।

মহানগর পুলিশের অতিরিক্ত উপ-কমিশনার (উত্তর) মিজানুর রহমান জানান, আকাশের স্ত্রী তানজিলা হক চৌধুরী মিতুকে জিজ্ঞাসাবাদে আত্মহত্যার আগে ফেসবুক স্ট্যটাসে উল্লেখ করা কিছু অভিযোগ স্বীকার করেছেন এবং কিছু অভিযাগ বানোয়াট বলে প্রত্যাখানও করেছেন।

তিনি জানান, আত্মহত্যার ঘটনার কয়েক ঘণ্টা আগে ওই দম্পতির মধ্যে হাতাহাতিও হয়েছিল। রাগারাগি করে খুব ভোর বেলা বাসা থেকে বেরিয়ে যান বল মিতু পুলিশকে জানিয়েছে।

এদিকে আত্মহত্যাকারী চিকিৎসক আকাশের মা জমিরা খানম বাদী হয়ে শুক্রবার বিকালে মিতুসহ ৬ জনের বিরুদ্ধে আত্মহত্যায় প্ররোচনার অভিযোগে চান্দগাঁও থানায় মামলা করেছেন। মামলায় তানজিলা হক চৌধুরী মিতু, তার বাবা আনিসুল হক চৌধুরী, মা শামীম শেলী, বোন সানজিলা হক চৌধুরী, বন্ধু মাহবুবুল হক ও যুক্তরাষ্ট্রপ্রবাসী ভারতীয় নাগরিক প্যাটেলকে আসামি করা হয়েছে।

সাত বছরের প্রেমের সূত্র ধরে তিন বছর আগে ২০১৬ সালে পারিবারিকভাবে মিতুর সঙ্গে আকাশের বিয়ে হয়। বিয়ের পর মিতু বেশি সময় কাটিয়েছেন মা-বাবার সঙ্গে আমেরিকায়। মাঝেমধ্যে মিতু স্বামীর কাছে আসতেন। দেশে আসার পরও মিতু স্বামীর বাসায় নয়, বেশির ভাগ সময় থাকতেন তার বাবার চান্দগাঁও এলাকার বাসায়। মিতুও পেশায় একজন ডাক্তার। ২০১৪ সালে কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ থেকে এমবিবিএস পাস করেন।

মোস্তফা মোরশেদের আকাশের স্বজনরা জানান, বিয়ের পর মিতুকে নিয়ে সুখে ছিল না আকাশ। বিয়ের আগে মিতু দীর্ঘ সময় মা-বাবার সঙ্গে আমেরিকায় ছিল। সে ওই দেশের কালচার মেনে চলার চেষ্টা করত। বিয়ের পর একাধিক বয়ফ্রেন্ডের সঙ্গে অবাধ মেলামেশা পছন্দ ছিল না আকাশের। তাদের বিয়ের কাবিননামা ছিল ৩৫ লাখ টাকা। মিতুকে ডিভোর্স দিলে আইন অনুযায়ী দিতে হতো কাবিনের সব টাকা। মিতুর বেপরোয়া স্বভাব চরিত্র এবং চালচলন পছন্দ না হলেও আকাশ বাধ্য হয়ে মুখ বুঝে মেনে নিয়েছিল।’

আকাশের পারিবারিক সূত্র জানায়, গত ১৪ জানুয়ারি আমেরিকা থেকে দেশে ফিরে মিতু। ঘটনার দিন মিতু আকাশের সঙ্গে বাসায় ছিল। মিতুর পরকীয়ার বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আকাশের সঙ্গে বুধবার রাতে ঝগড়া হয়। ঝগড়ার একপর্যায়ে বৃহস্পতিবার ভোরে দিকে মিতু রাগ করে বাসা থেকে বের হয়ে যায়। এরপর ফেসবুকে দুটি স্ট্যাটাস দিয়ে নিজ শরীরে ইনজেকশন পুশ করে আত্মহত্যা করে আকাশ। নতুন সময়

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত