প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

এসএসসি পরীক্ষা গুরুত্বপূর্ণ তবে জীবনের চেয়ে বড় নয়

প্রভাষ আমিন : ১. আজ শুরু হচ্ছে মাধ্যমিক স্কুল সার্টিফিকেট-এসএসসি এবং সমমানের পরীক্ষা। বাংলাদেশের শিক্ষা ব্যবস্থায় স্কুল পর্যায়ের চ‚ড়ান্ত পরীক্ষা এটি। আগে এই পরীক্ষাটি পরিচিত ছিলো ‘ম্যাট্রিকুলেশন’ নামে। এখনো গ্রামে এসএসসি পরীক্ষাকে ম্যাট্রিক পরীক্ষা বলে। একসময় ম্যাট্রিক পাস মানে বিশাল বিদ্যার জাহাজ মনে করা হতো। আমাদের সময় এসএসসি পরীক্ষাই ছিলো প্রথম পাবলিক পরীক্ষা।

কী যে ভয়, আতঙ্ক, টেনশন ছিলো; এখনও মনে হলে তলপেটে মোচড় দেয়। কিন্তু এখনকার ছেলেমেয়েরা অনেক স্মার্ট। পিইসি ও জেএসসি পরীক্ষা তাদের ভয় কাটিয়ে দিয়েছে। এবার ২১ লাখ ৩৫ হাজার ৩৩৩ জন এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষায় বসছে। তারমধ্যে একজন আছে আমাদের ঘরেও। যতোই প্রসূনকে বলি, বেটা টেনশন করিস না। সে হাসে, উল্টো আমাকে সান্ত¡না দেয়, বাবা টেনশন করবো কেন?

প্রশ্নপত্র ফাঁস বাংলাদেশে মহামারী আকার ধারণ করেছিলো। বছরখানেক হয় সরকারের নানা উদ্যোগ ও কঠোর ব্যবস্থায় সেটা থেমেছে। আশা করি এবারের এসএসসি পরীক্ষা প্রশ্নপত্র ফাঁস হবে না। আর হলেও সরকার অস্বীকার না করে, তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেবে। নির্বাচনে হয়নি, পরীক্ষায় যেন লেভেল প্লেয়িং থাকে। ২১ লাখ ৩৫ হাজার ৩৩৩ জন পরীক্ষার্থীই আমার সন্তানের মতো। সবার জন্য শুভ কামনা, ভালোবাসা। একটাই পরামর্শ, যতোটুকু প্রস্তুতি নিয়েছো, সেটা ঠান্ডা মাথায় খাতায় লিখে আসবে। মনে রাখবে, পিইসি-জেএসসির মতো নয় এসএসসি। এই পরীক্ষার ফল তোমাদের একাডেমিক ক্যারিয়ার, ভর্তি ইত্যাদি কাজে লাগবে। তবে তারচেয়েও বড় কথা, জীবন অনেক বড়। এসএসসি পরীক্ষায় জিপিএ-৫ পাওয়া না পাওয়াই জীবনের সাফল্যের মানদণ্ড নয়। এসএসসি বড় পরীক্ষা, তবে জীবনের চেয়ে বড় নয়। অভিভাবকদেরও অনুরোধ করছি, সন্তানের পড়াশোনার খেয়াল রাখবেন, ভালো করার চেষ্টা করবেন। কিন্তু সন্তানের ওপর অন্যায় চাপ দেবেন না।

২. মাহবুব তালুকদার নির্বাচন কমিশনের বিবেকের মতো। কমিশনের অন্য তিন সদস্যের মতের সাথে তার প্রায়ই মেলে না। আর সেই ভিন্নমতের কথা তিনি সাহসের সাথে বলে ফেলেন। এই যেমন গত বৃহস্পতিবার এক অনুষ্ঠানে সিইসিসহ অন্য কমিশনারদের উপস্থিতিতেই তিনি ৩০ ডিসেম্বরের নির্বাচন নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। মাহবুব তালুকদার বলেছেন, ‘নির্বাচনে গ্রহণযোগ্যতা ও বিশ্বাসযোগ্যতা অবশ্যই দৃশ্যমান হতে হবে। নির্বাচন কমিশন দাবি করলেই যে নির্বাচন সুষ্ঠু হয়ে যাবে, এমন কোনো কথা নেই। জনতার চোখ বলে একটা কথা আছে’। ৩০ ডিসেম্বরের নির্বাচনের তথ্য-উপাত্ত পড়ার অভিজ্ঞতা তুলে ধরে তিনি বলেন, ‘আমি এখন পর্যন্ত যেসব কাগজপত্র দেখেছি, তাতে রিটার্নিং কর্মকর্তা থেকে শুরু করে পর্যবেক্ষক পর্যন্ত সবার প্রতিবেদনে দুটি শব্দ অতিমাত্রায় ব্যবহৃত হয়েছে। একটি শব্দ হচ্ছে সন্তোষজনক এবং অন্য শব্দটি হচ্ছে স্বাভাবিক। তার মানে কি আমাদের নির্বাচন খুবই সন্তোষজনক হয়েছে? এই ক্ষেত্রে পাবলিক পারসেপশন কী, তা নিজেদের কাছেই জিজ্ঞেস করতে হবে।’ মাহবুব তালুকদার ঠিক বলেছেন, একাদশ সংসদ নির্বাচন কাগজে কলমে যতোই অবাধ, সুষ্ঠু, অংশগ্রহণমূলক, শান্তিপূর্ণ, স্বাভাবিক, সন্তোষজনক হোক; পাবলিক পারসেপশন কিন্তু ভিন্ন। জনতার চোখে কিন্তু নির্বাচন বিশ্বাসযোগ্য হয়নি।

৩. পাবলিক পারসেপশন বা জনতার চোখ দিয়ে তো আর নির্বাচনের ফলাফল নির্ধারিত হয় না। ৩০ ডিসেম্বরের নির্বাচনের অবিশ্বাস্য ফলাফলে টানা তৃতীয় মেয়াদে সরকার গঠন করে আওয়ামী লীগ এখন দারুণ আত্মবিশ্বাসী। বিএনপি ও ঐক্যফ্রণ্ট ৩০ ডিসেম্বরের রাতে ফলাফল প্রত্যাখ্যান করেছে। তারা আগের রাতে ভোট দেয়া, এজেন্টদের ঢুকতে না দেয়া, বের করে দেয়ার অভিযোগ এনে নির্বাচনকে ভোট ডাকাতি ও প্রহসনের নির্বাচন হিসেবে অভিহিত করে পুনর্নির্বাচন দাবি করেছে। কিন্তু বিএনপি ও ঐক্যফ্রন্ট দাবি করলেই সরকার সেটা মানবে কেন? পুনর্নির্বাচন দাবি করেই যেন বিএনপি ও ঐক্যফ্রন্টের দায়িত্ব শেষ। দাবি আদায় করার মতো পরিস্থিতি তারা সৃষ্টি করতে পারেনি, না আদালতে না রাজপথে। নির্বাচনের পর একমাসেরও বেশি হয়েছে। এখনও বিএনপি ও ঐক্যফ্রন্ট কোনো আদালতেই যায়নি। একমাস পর তারা পুনর্নির্বাচনের দাবিতে কর্মসূচি ঘোষণা করেছে-৬ ফেব্রæয়ারি মানববন্ধন ও ২৪ ফেব্রæয়ারি গণশুনানি। ৬ ফেব্রæয়ারি একটি জাতীয় সংলাপ করার কথা ছিলো। সেটিও হয়নি। পাবলিক পারসেপশন যাই হোক, এই কর্মসূচি দিয়ে কি বিএনপি ও ঐক্যফ্রন্ট দাবি আদায় করতে পারবে?

লেখক : হেড অব নিউজ, এটিএন নিউজ

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত