প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

আবারো ফাতেমা জোহুরা রাণীকে সংসদে দেখতে চান ময়মনসিংহবাসী

আব্দুল্লাহ আল আমীন,ময়মনসিংহ : বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের দুঃসময়ের কান্ডারী ফাতেমা জোহুরা রাণী। ময়মনসিংহ জেলা আওয়ামীলীগ ও এর সহযোগী গুলোর তৃণমূলের চীর পরিচিত নেত্রী তিনি। ময়মনসিংহ সদরের বিরোধী দলের সাংসদ হবার কারণে ময়মনসিংহ সদর হতে তার নামটি উঠে আসছে জোরসরে। ৭০’দশকের তুখোর ছাত্রনেত্রী ফাতেমা জোহুরা রাণী পুনরায় সংরক্ষিত আসনে এমপি করার জন্য এলাকাবাসীর পক্ষ থেকে দাবী উঠেছে। আওয়ামী লীগের নিবেদিত কর্মী, পরোপকারী ও এলাকায় সুপরিচিত ফাতেমা জোহুরা রাণী সংরক্ষিত আসনে পুনরায় এমপি নির্বাচিত করা হলে ময়মনসিংহের অনেক উন্নয়ন হবে বলে আশাবাদী স্থানীয়রা।

ময়মনসিংহ শহরের নওমহল এলাকার বাসিন্দা ময়মনসিংহ শহর আওয়ামীলীগের প্রয়াত সভাপতি মরহুম ইঞ্জিঃ মোঃ আমিনুল ইসলাম তারা’র সহধর্মীর্নি ফাতেমা জোহুরা রাণী ১০ জাতীয় সংসদে সংরক্ষিত নারী আসনে এমপি নির্বাচিত হয়। জাতীর পিতা বঙ্গবন্ধুর আর্দশ্যে অনুপ্রানিত হয়ে রাজনীতিতে নামেন ফাতেমা জোহুরা রাণী। তিনি ছিলেন ৭০’দশকের তুখোর ছাত্রনেত্রী। মুমিনুন্নিসা মহিলা সরকারি কলেজের ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক, ১৯৯৪ সালে ময়মনসিংহ পৌরসভা প্রথম মহিলা কমিশনারদের একজন তারপর সরাসরি ভোটে আবারও ১৯৯৭। ১৯৯৭ সালে ময়মনসিংহ জেলা মহিলা আওয়ামীলীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক হন। ২০০২ সালে ময়মনসিংহ জেলা মহিলা আওয়ামীলীগের ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক হন। ২০০৪ সালে কাউন্সিলের মাধ্যমে জেলা মহিলা আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হন। জোট সরকারের আমলে গ্রেফতার হওয়া নেতাকর্মীদের বাসায় বাসায় গিয়ে খোজ খবর রাখতেন ও নারীদের নিয়ে অগ্ররণী ভূমিকা রাখেন এবং দলকে শক্তিশালী করতে তার উদ্যোগে প্রথম উপজেলা ও ইউনিয়ন পর্যায় মহিলা আওয়ামীলীগের কমিটি গঠন হয়। ওয়ান ইলিভেনের জরুরী অবস্থা সময় জননেত্রী শেখ হাসিনা গ্রেপ্তার তার মুক্তির জন্য গণ স্বাক্ষর সংগ্রহ করাতে গিয়ে হয়রানির শিকার হন তিনি। এছাড়াও তিনি একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দলীয় প্রার্থীর ও মহাজোট প্রার্থীর পক্ষে নির্বাচনী মাঠে কাজ করেছেন এবং আওয়ামী লীগের সভাপতি বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনার প্রতি অগাধ আস্থা রেখে দলের জন্য তিনি নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছেন। মূলত আওয়ামীলীগের সকল লড়াই সংগ্রামে তিনি ছিলেন রাজপথে। ফাতেমা জোহুরা রাণী ২০১৪ সালে ১০ম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সংরক্ষিত আসনে এমপি নির্বাচিত হওয়ার পরে তার দায়িত্ব পরে ময়মনসিংহ জেলার। ফলে তিনি সরকারের উন্নয়ন কর্মকান্ড নিয়ে উঠান বৈঠক সহ বিভিন্ন কর্মসূচিতে সক্রিয় ভূমিকা রাখেন।

মূলত (ময়মনসিংহ-৪) সদর আসনে এমপি বিরোধী দল নেত্রী রওশন এরশাদ রাস্ট্রীয় বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ কাজে ময়মনসিংহে অনুপস্থিত থাকতো। ফলে অনেক প্রয়োজনীয় কাজ সংসদ সদস্যের উপস্থিতি ও স্বাক্ষর প্রয়োজন হতো, যা নারী সংসদ সদস্য ফাতেমা জোহুরা রাণী সবসময় এলাকায় থাকার কারণে বিষয়গুলো নিয়ে জটিলতা কম হয়েছে। সংরক্ষিত আসনের ক্ষমতা সীমিত থাকার পরও তিনি তার ঐকান্তিক প্রচেষ্টায় .ময়মনসিংহে সদর, ত্রিশাল ও ঈশ্বরগঞ্জ উপজেলায় ২০টির মত বিদ্যালয়ে নতুন ভবন তৈরি ৪৫ টি বিদ্যালয় স্থাপন। ময়মনসিংহ সদর ও ত্রিশালে ৬ টি শেখ রাসেল আাইটি স্থাপন। জেলায় ২০০ টির ও বেশি মসজিদ ও মন্দিরের অবকাঠামো উন্নয়ন। ৬০০ বেশি স্থানে সোলার স্থাপন। জেলায় ৬৫ কিঃমি পাকা রাস্তা, কাচা ১০২ কিঃমি রাস্তা নির্মাানের উদ্যোগ। নারীদের আত্ম কর্মসংস্থান সৃষ্টি জন্য সেলাই মেশিন বিতরণসহ এছাড়াও যুদ্ধাঅপরাধের অভিযোগে গ্রেফতার হওয়া (ময়মনসিংহ-৭) ত্রিশালের এম.পি এম এ হান্নান এর অনুপস্থিতে ২০১৫ থেকে ২০১৮ পর্যন্ত ত্রিশালে অনেক গুরুত্বপূর্ণ কাজের দায়িত্বে পালন করেন তিনি। পারিবারিকভাবে রয়েছে ফাতেমা জোহুরা রাণীর রাজনৈতিক শক্ত পরিচিতি। তার স্বামী মরহুম ইঞ্জিঃ মুহাম্মাদ আমিনুল ইসলাম তারা ছিলেন ১৯৬৮ সালে বৃহত্তর ময়মনসিংহ ছাত্রলীগের সাবেক সহ-সম্পাদক, ময়মনসিংহ জেলা ছাত্রলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক, ময়মনসিংহ পলিটিক্যাল কলেজের সাবেক ভি.পি ও জি.এস ছিলেন। ময়মনসিংহ পৌরসভা কমিশনারও ছিলেন। বঙ্গবন্ধু গ্রেফতার এর পর ১৯৭৫ সালে আড়াই বছর, এরশাদ সরকারের সময় ৮ মাস, জোট সরকারের আমলে ২ মাস কারাবরণ করেন। ময়মনসিংহ জেলা আওয়ামীলীগের সিনিয়র যুগ্ম সাধারন সম্পাদক থেকে পদত্যাগ করে কাউন্সিলের মাধ্যমে ২০০২ সালে ময়মনসিংহ শহর আওয়ামীলীগের সভাপতি হন। ২০১০ সালে দলীয় তৃণমূল ভোটিং-এ পাশ করে ময়মনসিংহ পৌরসভা মেয়র প্রার্থী হন কিন্তু কেন্দ্রীয় সিদ্ধান্তের পরিবর্তন হলে তিনি প্রত্যাহার করেন।২০১৬ সালে ময়মনসিংহ মহানগর আওয়ামীলীগের সভাপতি প্রার্থী ছিলেন,তৃণমূল নেতাকর্মী ও সমর্থক এবং কেন্দ্রীয় হাই কমান্ডে কাছেও জনপ্রিয় ছিলেন তিনি। কিন্তু কমিটি ঘোষণার পূর্বে তিনি মৃত্যু বরণ করেন।

ফাতেমা জোহুরা রাণী বলেন, দল ও এলাকার সাধারণ মানুষের জন্য সব সময় নিজেকে নিয়োজিত রেখে কাজ করে যাচ্ছি। সংরক্ষিত আসনে কাকে এমপি নির্বাচিত করবেন, সেটা আমাদের দলের নেত্রী বুঝবেন। আবারো এমপি হলেও এলাকার উন্নয়ন ও জনসেবায় কাজ করব এবং না হলেও করব ইনশাল¬াহ। ‘নারী হয়েও জনমানুষের জন্য কাজ করা যায় তা প্রমাণ করতেই আমি রাজনীতিতে এসেছি। জাতির বঙ্গবন্ধুর আদর্শে অনুপ্রারিণত আমাকে আওয়ামী লীগের রাজনীতি ব্যাপক উৎসাহ জোগায়। জননেত্রী শেখ হাসিনার স্বপ্নযাত্রায় শামিল হয়ে নারীর অধিকারসহ সকল স্তরের জনগণের কল্যাণের জন্যই আমার পথচলা। সে লক্ষ্যকে আরো প্রসারিত করতে আমি পুনরায় সংরক্ষিত নারী আসনে মনোনয়ন প্রত্যাশী। আশা করি নেত্রী আমাকে মূল্যায়ন করবেন। ফাতেমা জোহুরা রাণী সংরক্ষিত নারী সংসদ সদস্য নির্বাচিত হলে জনমানুষের সামগ্রিক উন্নয়ন হবে বলে আশা ব্যক্ত করে স্থানীয়রা বলছেন, ফাতেমা জোহুরা রাণী রাজনৈতিক জীবনের বলিষ্ঠ ভূমিকার পাশাপাশি, মানুষের জন্য কাজ করারও ব্যাপক অভিজ্ঞতা রয়েছে। পুনোরায় সাংসদ নির্বাচিত হলে তিনি সেই অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগিয়ে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর স্বপ্নযাত্রায় অবদান রাখতে সক্ষম হবেন।

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত