প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

আমার সোনার বাংলা, আমি তোমায় ভালোবাসি

দ্বীপন সৈয়দ : প্রায় ৩০ বছর হলো নিউইয়র্কে থাকার। এ দেশে আসার প্রথম দিকে প্রায়ই বাংলাদেশ কনস্যুলেটে যেতে হতো। মনে পড়ে প্রতিবারের ভোগান্তির অভিজ্ঞতা ছিলো বিভিন্ন রকমের। এই বিড়ম্বনা থেকে রেহাই পেতে ২/৩ বারের পর নিজে না গিয়ে অন্য কাউকে পাঠাতে শুরু করেছিলাম। এবারের অভিজ্ঞতা সম্পূর্ণ ভিন্ন। ছোট করে এ বিষয়ে একটু না লিখলেই নয়।

অফিসের কাজে পুরো হপ্তা কনস্যুলেটের আশপাশের একটা ভবনে যাতায়াত করতে হচ্ছে। গিন্নির মার্কিন পাসপোর্ট ইদানীং নবায়ন করায় ‘নো ভিসা রিকোয়ার্ড’ ছাপ্পড় লাগানোটা করণীয় হয়েছিলো। পূর্ব অভিজ্ঞতার কারণে কনস্যুলেটে যাবো যাবো করেও যাবার সাহস হচ্ছিলো না। শেষমেশ একদিন ঢুঁ মেরেই ফেললাম। অফিসটায় ঢুকেই কেমন একটা অন্য রকম ভাইব পেলাম। সমস্ত কিছু পরিপাটি সুশৃঙ্খল। প্রথমে সিকিউরিটি চেক, তারপর রেজিস্ট্রেশন কাউন্টারে আইডি দেখিয়ে নাম নিবন্ধন, এরপর অনুসন্ধান জানালায় অথবা ইলেকট্রনিক টোকেন নিয়ে মনিটরে সিরিয়ালের অপেক্ষা করা। রেজিস্ট্রেশন কাউন্টারের অফিসার আমার আগে একজনের নিবন্ধন করছিলেন, আমি একটু দূরে অপেক্ষা করছিলাম। এমন সময় হঠাৎ করে কোত্থেকে এক হোমড়াচোমড়া ভাবের দেশি ভাই এসে আমাকে পাশ কাটিয়ে সেবা দাবি করে বসলেন। কিন্তু কাউন্টারের অফিসার অত্যন্ত ভদ্র ও বিনয়ীভাবে আমাকে দেখিয়ে বললেন, ‘ভাই আপনার আগে তিনি আছেন, তাকে সাহায্য করেই আপনাকে ডাকবো, আপনি শুধু লাইনে গিয়ে দাঁড়ান’। শুধু পজিটিভ অ্যাটিচুড এবং কথার ধরনেই হোমড়াচোমড়া ভাই মাথা নিচু করে পেছনে গিয়ে দাঁড়ালেন। রেজিস্ট্রেশন শেষে অনুসন্ধান জানালায় দাঁড়াবার আগেই আরেকজন অফিসার নো ভিসার প্রক্রিয়াটা বুঝিয়ে পরিষ্কারভাবে লেখা ইনস্ট্রাকশনের কাগজটা দিলেন। দুই মিনিটের মধ্যে আমার সেদিনের কাজ হয়ে গেলো।

দ্বিতীয়দিন গেলাম কাগজপত্র রেডি করে জমা দিতে। অফিসে সাড়ে নয়টায় খোলার কথা। আমি ন’টার সময়ই পৌঁছে গেছি। জানুয়ারির সকাল। বাইরে প্রচ- ঠা-া। মিনিট পাঁচেক পর একজন অফিসার কোনো কারণে বেরিয়ে আমাকে দেখলেন। খুবই সহানুভূতিশীলভাবে বললেন ‘ভাই অফিস সাড়ে নয়টায়  খুলবে, আপনি না হয় কোথাও গিয়ে চা কফি খেয়ে আসেন’। তাই করলাম। সাড়ে নয়টার কাছাকাছি সময়ে আরো কিছু লোকজন জড়ো হলো। সবাই সদর দরজার সামনে লাইন ধরে দাঁড়ালাম। কাঁটায় কাঁটায় সাড়ে নয়টায় দরজা খুলে দিনের যথারীতি দিনের কার্যক্রম আরম্ভ হলো। সিকিউরিটি পেরিয়ে, টোকেন নিয়ে, সময়মতো কাউন্টারে ডাক পেয়ে অতি সুচারুভাবে দশ মিনিটের মধ্যে আমার সমস্ত কাজ শেষ করে বেরিয়ে এলাম।

সত্যি কথা বলতে কী, এ আমার এক চরম সুখকর অভিজ্ঞতা। ২০/২৫ বছরে এই উন্নতি স্বপ্নের মতো। প্রবাসে বসে যারা দেশের উন্নতি নিয়ে চরম হতাশ, তাদের জন্য এটি হতে পারে এক দীপ্তিমান আশার আলো।

সন্দেহ নেই, এই উন্নয়নের পেছনে রয়েছে কিছু আলোকিত মানুষের অক্লান্ত পরিশ্রম, যথোপযুক্ত পরিকল্পনা ও সঠিক ব্যবস্থাপনা। তাদের সবাইকে জানাই আন্তরিক সাধুবাদ। হ্যাট্স অফ টু অল অফ ইউ! ফেসবুক থেকে

 

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত