প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

শেখার কোনো শেষ নাই, শেখার চেষ্ট বৃথা তাই

মাহবুব আহসান শিমুল : একটু নড়েচড়ে বসুন….! মারাঠি এই ভদ্রলোকের নাম, ‘শ্রীকান্ত জিচকার’।

ইনিই হলেন ভারতবর্ষের সবচেয়ে অধিক শিক্ষিত ব্যক্তি। যাকে হয়তো আপনি, আমি চিনিনা। পয়সা বা ক্ষমতার দাপট তো জীবনে অনেক দেখলেন। কিন্তু বিদ্যার এমন গরম দেখেছেন না শুনেছেন কখনও? সবটা শুনলে মাথা ঝিমঝিম করবে, হাত পাও অবশ হয়ে যেতে পারে বৈকি। এক জীবনে এত পড়াশোনা কোনো রক্ত মাংসের মানুষ করতে পারে, না পড়লে বিশ্বাস হবে না। তাও আবার সেই ভদ্রলোক যদি ভারতীয় হন! পড়াশোনার কেরিয়ারটা একবার হাল্কা করে চোখ বুলিয়ে নিন শুধু, তাহলেই মালুম পড়বে ভদ্রলোক কি কা-টাই না করেছেন । এক. জীবন শুরু এমবিবিএস, এমডি দিয়ে । দুই. এরপর এলএলবি করলেন। সাথে করলেন ইন্টারন্যাশানাল ল-এর ওপর স্নাতকোত্তর । তিন. এরপর বিজনেস ম্যানেজমেন্ট এর ওপর ডিপ্লোমা, সাথে এমবিএ। চার. এরপর জার্নালিজম নিয়ে স্নাতক ।  এতোদূর পড়ার পর আপনার যখন মনে হচ্ছে লোকটা পাগল নাকি, তখন আপনাকে বলতেই হচ্ছে এ তো সবে কলির সন্ধ্যে। এখনো গোটা রাত বাকি। এই ভদ্রলোকের শুধু স্নাতকোত্তর ডিগ্রিই আছে দশটা বিষয়ের ওপর! স্নাতকোত্তরের বিষয়ে তালিকাটা একবার দেখুন, এক. পাবলিক আ্যডমিনিস্ট্রেশন, দুই. সোশিওলজি, তিন. ইকোনমিক্স, চার. সংস্কৃত(ডি.লিট), পাঁচ. হিস্ট্রী, ছয়. ইংরেজি, সাত. ফিলোসফি, আট. পলিটিক্যাল সায়েন্স, নয়. এনসিয়েন্ট ইন্ডিয়ান হিস্ট্রী, কালচার এন্ড আর্কেওলজি, দশ. সাইকোলজি। ওপরের যতোগুলো বিষয় দেখছেন সব কটিতেই প্রথম শ্রেণির সঙ্গে স্নাতকোত্তর এবং ২৮টি স্বর্ণপদক বিজয়ী। সব মিলিয়ে ১৯৭৩ থেকে ১৯৯০ সাল পর্যন্ত প্রতি গ্রীষ্মে ও প্রতি শীতেই তিনি কোনো না কোনো স্নাতকোত্তরের বিষয়ে পরীক্ষা দিয়ে গেছেন। মাথা ঝিমঝিম করছে তো! তা মাথার আর দোষ কি বলুন? তবে মাথা ঘুরে পড়ে যাবার আগে আরএকটি শুধু শুনে যান।  এতোসব পড়তে পড়তে তার যখন একঘেয়েমি লাগছিলো, ঠিক করলেন এবার একটু স্বাদ বদলানো যাক। স্বাদ বদলাতে আমি আপনি বেড়াতে যাই, আর তিনি ‘আই.পি.এস(আইপিএস)’ পরীক্ষায় বসলেন আর পাশ করলেন। সেটা ১৯৭৮ সাল। কিন্তু পোষালো না চাকরিটা। চাকরিটা ছেড়ে দিয়ে বসলেন ‘আই.এ.এস পরীক্ষায়। ১৯৮০-এ ‘আই.এ.এস হলেন ।

নটে গাছটা তাহলে মুড়ালো শেষ অবধি। আজ্ঞে না মুুড়ায়নি এখনো । চারমাসের মধ্যে ‘আই.এ.এস’-এর চাকরিটাও ছেড়ে দিলেন মহারাষ্ট্রের বিধান সভা ভোটে লড়বেন বলে। ১৯৮০-তে তিনি যখন বিধায়ক নির্বাচিত হলেন তখন তার বয়স সবে ২৫। তিনি হলেন ভারতের সবচেয়ে কমবয়সী বিধায়ক । সবই হল যখন তখন মন্ত্রী হওয়াটাই বা আর বাকী থাকে কেন? সেটাও হলেন এবং একটা কিংবা দুটো দপ্তরের নয়, একেবারে ১৪ টা দপ্তরের। ১৯৯২ সাল নাগাদ রাজ্যসভার সদস্য নির্বাচিত হলেন। ওনার এই ‘সামান্য’ কয়েকটি গুণ ছাড়াও তিনি অসাধারণ চিত্রশিল্পী, পেশাদার ফটোগ্রাফার, মঞ্চাভিনেতা, সখের বেতার চালক ও জ্যোতিষশাস্ত্রে বিশেষ পারদর্শী ছিলেন। সম্মিলিত জাতিপুঞ্জ ও ইউনেস্কোতে ভারতের প্রতিনিধিত্ব করেছেন । ব্যক্তিগত সংগ্রহে ৫২০০০ বই রয়েছে তার। ‘লিমকা বুক অফ রেকর্ডস’ তাকে ‘ভারতবর্ষে সবথেকে শিক্ষিত ব্যক্তির শিরোপা দিয়েছে। ১৯৮৩-তে তিনি ‘বিশ্বের অসামান্য দশজন তরুণ’ হিসেবে নির্বাচিত হন। ২০০৪ সালে সড়ক দুর্ঘটনায় তার মৃত্যু হয়। বয়স হয়েছিলো মাত্র ৪৯। তার মর্মান্তিক মৃত্যুতে একটি জ্বলন্ত নক্ষত্র নিভে যায়। আর শিক্ষা দিয়ে যায়, যার যতো জ্ঞান তার অহংকার ততো কম ।

 

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত