প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

বেঞ্চে বসতে হবে না এমপিদের!

আসাদুজ্জামান সম্রাট : জাতীয় সংসদ ভবনের নবম তলায় সরকারি দলের সভাকক্ষটি সংস্কারের উদ্যোগ বন্ধ করে দিলেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। সরকারি দলের সভাকক্ষে আসন সংখ্যা বৃদ্ধির জন্য সেখাকার চেয়ারগুলো তুলে বেঞ্চ বসানোর সিদ্ধান্ত জানিয়েছিলেন স্পিকার। সে অনুযায়ী নকশা তৈরির কাজ শুরু করেছিল স্থাপত্য অধিদপ্তর। বিষয়টি প্রধানমন্ত্রীর কানে যাওয়ার পর তা বন্ধ করে দিয়েছেন। একই সঙ্গে সংসদীয় দলের সভাগুলো সংসদের শপথ কক্ষে অনুষ্ঠানের নির্দেশ দিয়েছেন। ফলে বেঞ্চে বসে সংসদীয় দলের সভা করতে হবে না এমপিদের।

জাতীয় সংসদ ভবনের নবম তলায় অবস্থিত সরকারি দলের সভাকক্ষটিতে আসন রয়েছে ২১৫টি। কিন্তু বর্তমানে আওয়ামী লীগের সদস্য সংখ্যা ২৫৭জন। ১টি উপ-নির্বাচনে আরো এক’জন সংসদ সদস্য নির্বাচিত হলে আসন সংখ্যা দাড়াবে ২৫৮জন। সংরক্ষিত আসনের আরও ৪৩টি যুক্ত হলে আসন হবে ৩০১জন। এতো বেশি সংখ্যক সদস্যদের বসার ব্যবস্থা করতেই এ নির্মাণ পরিকল্পনা হাতে নিয়েছিল সংসদ সচিবালয়।

সংসদ সচিবালয় জানিয়েছে, সরকারি দলের সভাকক্ষে সদস্যদের বসার জন্য রয়েছে চেয়ারের ব্যবস্থা। লুই আই কানের মুল নকশায় সেটাই ছিল। কিন্তু অল্প পরিসরে বেশি সংখ্যক সদস্যকে বসার সুবিধা দিতে সেখানের চেয়ারগুলো অপসারণ করে বেঞ্চের ব্যবস্থার কথা ভেবেছিল সংসদ সচিবালয়। স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরীও সাংবাদিকদের বলেছিলেন, সরকারি দলের সভাকক্ষে যাতে সবাই বসতে পারে সেজন্যই বেঞ্চ দেওয়া হবে।

সরকারি দলের ওই সভাকক্ষটিতে মোট চেয়ার আছে ১৮৩টি। এর বাইরে অস্থায়ীভাবে দেওয়া হয় ৩২টি চেয়ার। মোট ২১৫ জন এমপি’র সেখানে বসার সুযোগ ছিল। নতুন ব্যবস্থাপনায় সংসদ সদস্যদের বসার জন্য হাতলওয়ালা চেয়ারের পরিবর্তে বেঞ্চ বসানোর নির্দেশ দেয়া হয়েছিল। এতেই লঙ্ঘিত হচ্ছে লুই আই কানের স্থাপত্য নকশা।

সংসদের রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্বে নিয়োজিত গণপূর্ত অধিদপ্তরের নির্বাহী প্রকৌশলী মোহাম্মদ ফজলুল হক বলেছেন, স্থাপত্য অধিদপ্তর নকশা তৈরি করছে। চেয়ার দিয়ে সেখানে ২৩৮জনকে বসানো সম্ভব হবে। স্থাপত্য অধিদপ্তরের নকশা’র পরে তা প্রধানমন্ত্রীকে দেখানো হবে। তিনি অনুমোদন দিলেই কাজ শুরু হবে। তবে এখনই বলা যাবে না, নকশা বহির্ভুত নির্মাণ হচ্ছে কি-না।

বিষয়টি গত বুধবার সংসদ শুরুর আগেই প্রধানমন্ত্রীর কানে পৌছায়। এরপরপরই তিনি নকশা বহির্ভুত সংস্কার বন্ধের নির্দেশ দেন। প্রধানমন্ত্রী বলেন, সংসদের শপথ কক্ষে সংসদীয় দলের সভা হতে পারে। সে অনুযায়ী ৩০ জানুয়ারি সংসদ শুরুর আগে আওয়ামী লীগের সংসদীয় দলের সভা অনুষ্ঠিত হয় শপথ কক্ষে। ভবিষ্যতে সবগুলো সংসদীয় দলের বৈঠকই সংসদের শপথ কক্ষে অনুষ্ঠিত হবে।

নির্বাহী প্রকৌশলী মোহাম্মদ ফজলুল হক বলেছেন, সংসদের শপথ কক্ষে আপাতত: কোনো সংস্কার হচ্ছে না। লুই আই কানের নকশা বহির্ভুত যে কোনো সংস্কার বন্ধের নির্দেশ দিয়েছেন তিনি। এ জন্য আওয়ামী লীগের সংসদীয় দলের সভাও অনুষ্ঠিত হয়েছে শপথ কক্ষে।

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বাধিক পঠিত