প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

কুমিল্লার রূদ্ধশ্বাস জয়, অপেক্ষা বাড়লো ঢাকার

রাকিব উদ্দীন : বাঁচা মরার লড়াইয়ে বিপিএলের ৩৯তম ম্যাচে কুমিল্লা ভিক্টোরিয়ান্সের বিপক্ষে খেলেছিলো সাকিবের ঢাকা। মিরপুর শের-ই বাংলা স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিতব্য এই ম্যাচে টসে জিতে ​​​​​ফিল্ড নিয়েছেন ডাইনামাইটস অধিনায়ক সাকিব। আগে ব্যাট করতে নেমে ব্যাটিং ধ্বসে পড়ে ১৯.৫ ওভারে সবকটি উইকেট হারিয়ে ১২৭ রান তোলে কুমিল্লা। জবাবে ১২৬ রান করেই ইনিংস শেষ হয় সাকিবদের। শেষ ওভারের শ্বাসরূদ্ধকর সময়ে মাত্র ১ রানে জয় পায় কুমিল্লা।

দ্বিতীয় ইনিংসে জয়ের লক্ষ্যে ব্যাট করতে নেমে ২৯ রানেই ৪ উইকেট হারায় ঢাকা। মিজানুর রহমান (১৬), উপুল থারাঙ্গা (০), রনি তালুকদার (১) ও সাকিব (৭) আউট হয়ে ফেরেন।

এরপর সুনীল নারাইনকে সঙ্গে করে দলের হাল ধরার চেষ্টা করেন কাইরন পোলার্ড। তবে দলীয় ৭১ রানে উইকেটে হানা দেন শহীদ আফ্রিদি। তার বলে ওয়াহাব রিয়াজের হাতে ক্যাচ দিয়ে ২২ রানে ফেরেন নারাইন। এরপর পোলার্ডকে ফেরান মোহাম্মদ সাইফউদ্দিন। দলীয় ৯০ রানে তামিম ইকবালের হাতে ক্যাচ দিয়ে ৩৪ রানে ফেরেন উইন্ডিজ এই অলরাউন্ডার।

এরপর দলের রান যোগ হওয়ার আগে সাইফউদ্দিনের বলে লুইসের হাতে ক্যাচ দিয়ে শূন্য হাতে ফেরেন নুরুল হাসান সোহান। তবে এরপর শুভাগত হোমকে সঙ্গে করে ব্যাটে ঝড় তোলেন আন্দ্রে রাসেল। আফ্রিদির ওভারে পরপর ২টি ছক্কা হাঁকান উইন্ডিজ এই অলরাউন্ডার। তবে দলীয় ১১২ রানে ওয়াহাব রিয়াজের বলে ক্যাচ দিয়ে শুভাগত ফেরেন ৪ রানে।

শেষ ওভারে জয়ের জন্য ঢাকার দরকার ছিল ১৩ রান, হাতে ছিল ২টি উইকেট। কুমিল্লার হয়ে বোলিং করতে আসেন সাইফউদ্দিন। প্রথম বলে রুবেলকে এলবিতে ফেরার শূন্য রানে। দ্বিতীয় বলে ১ রানে নিয়ে স্ট্রাইকে রাসেলকে পাঠান শাহাদাত হোসেন। তৃতীয় বলে কোনো রান পেলেন না রাসেল। চতুর্থ বলেও পেলেন না কোনো রান। তাতে জয়টা যে কঠিন হয়ে গেছে, সেটা বোঝাই যাচ্ছিল। তবে ওভারের পঞ্চম বলে ছক্কা হাঁকালেন রাসেল। তাতে শেষ বলে দরকার ছিল একটি ছয়। কিছুটা সময় নিয়ে শেষ বল করলেন সাইফউদ্দিন। শেষ বলে ইয়র্কার বল আর ব্যাটে লাগাতে পারেননি রাসেল। তাতেই জয়ের দেখা পায় কুমিল্লা।

কুমিল্লার হয়ে ৪ ওভারে ১টি মেডেনসহ ২২ রান খরচায় সর্বোচ্চ ৪টি উইকেট নেন সাইফউদ্দিন। এছাড়াও মেহেদী হাসান ২টি উইকেট নেন। আর ১টি করে উইকেট নেন ওয়াহাব রিয়াজ, মোশাররফ হোসেন ও শহীদ আফ্রিদি।

প্রথম ইনিংসে টস হেরে ব্যাট করতে নেমে শুরুটা ভালোই করেছিল কুমিল্লা। দুই ওপেনার তামিম ও এভিন লুইস মিলে গড়েন ৩৮ রানের জুটি। তবে এই জুটি ভেঙে দেন সুনীল নারাইন। তার করা বলে বোল্ড হয়ে ব্যক্তিগত ৮ রানে ফেরেন এভিন লুইস। এরপর দলীয় ৪৫ রানে এনামুল হককে শূন্য হাতে ফেরান রুবেল হোসেন। তার করা বলে নুরুল হাসান সোহানের হাতে ক্যাচ দিয়ে ফেরেন ডানহাতি এই ব্যাটসম্যান। এরপর দলীয় ৫২ রানে তামিমকে ফেরান শুভাগত হোম। তার বলে রুবেলের হাতে ক্যাচ দিয়ে ফেরার আগে ২০ বলে ৪ বাউন্ডারি ও ২ ছক্কায় ইনিংস সর্বোচ্চ ৩৮ রান করেন তামিম। তাতেই ধ্বস নামে কুমিল্লার ব্যাটিং লাইনআপে। এরপর অধিনায়ক ইমরুল কায়েস ৭, শামসুর রহমান ২ রানে ফেরেন। পরের উইকেটে থিসারা পেরেরাকে সঙ্গে করে দলের হাল ধরার চেষ্টা করলেও দলীয় ৮৩ রানে ব্যক্তিগত ১৮ রানে ফেরেন শহীদ আফ্রিদি। এরপর দুই রানের ব্যবধানে ফেরেন সাইফউদ্দিন (২)। আর দলীয় ৮৭ রানে ফেরেন পেরেরা (৯)।

এরপর মেহেদী হাসানকে সঙ্গে করে দলের হাল ধরার চেষ্টা করেন ওয়াহাব রিয়াজ। তবে দলীয় ১০৮ রানে তাকে ফেরান রুবেল হোসেন। ১১ বলে ২ ছক্কায় ১৬ রানের ইনিংস খেলে থারাঙ্গার হাতে ক্যাচ দিয়ে ফেরেন তিনি। শেষ উইকেটে মেহেদী হাসান ২০ রানে আউট হলেও মোশাররফ হোসেন ৪ রানে অপরাজিত থাকেন।

উল্লেখ্য, এর আগের ম্যাচে চিটাগাং ভাইকিংসের বিপক্ষে ১১ রানে পরাজিত হওয়ার পর প্লে অফে যাওয়ার সমীকরণটি কিছুটা কঠিন হয়ে দাঁড়ায় সাকিবদের। শেষ চারে যেতে হলে আজকেরটি সহ হাতে থাকা আরেকটি ম্যাচেও জয় পেতে হবে তাদের। ডাইনামাইটসদের ঠিক আগের অবস্থানে ১২ ম্যাচে ৬ জয় নিয়ে চতুর্থতে আছে মেহেদি হাসান মিরাজের রাজশাহী কিংস। আজ জয় পেলে মিরাজদের সমান পয়েন্ট অর্জন করবে সাকিবরা। আর শেষ ম্যাচে পরাজিত হলে সেক্ষেত্রে রান রেটের বিচারে যারা এগিয়ে থাকবে তারা শীর্ষ চারে জায়গা করে নিবে।

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বাধিক পঠিত