প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

চিকিৎসক আকাশের স্ত্রী মিতু আটক

অনলাইন ডেস্ক: চট্টগ্রামে আত্মহননকারী তরুণ চিকিৎসক ডা. মোস্তফা মোরশেদ আকাশের (৩২) স্ত্রী ডা. তানজিলা হক চৌধুরী মিতুকে আটক করেছে পুলিশ।

বৃহস্পতিবার মধ্যরাতে চট্টগ্রাম মহানগরীর নন্দনকাননের এক আত্মীয়ের বাসা থেকে তাকে আটক করে বলে জানান চট্টগ্রাম মহানগর পুলিশের কমিশনার মো. মাহাবুবর রহমান। তথ্য- মানবজমিন

তিনি জানান, নগর পুলিশের কাউন্টার টেররিজম ইউনিটের একটি দল মিতুকে আটক করেছে। তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। পরে সিএমপির সদরদপ্তরে সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে এ বিষয়ে বিস্তারিত জানানো হবে।

এর আগে বৃহস্পতিবার ভোর ছয়টা ২০ মিনিটে নগরীর চান্দগাঁও আবাসিকের বি-ব্লকের ২ নম্বর সড়কের ২০ নম্বর বাসা থেকে ডা. মোস্তফা মোরশেদ আকাশের মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।

ময়নাতদন্ত শেষে রাতে তার লাশ স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করেছে বলে জানান চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ জহিরুল হক ভুইয়া।

তিনি বলেন, বৃহস্পতিবার সাড়ে ৬টার দিকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের চিকিৎসক ডা. মোস্তফা মোরশেদ আকাশকে জরুরি বিভাগে আনা হয়। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসকরা তাকে মৃত ঘোষণা করেন। ওই সময় চিকিৎসকরা ইনজেকশনে বিষ প্রয়োগ করে তিনি আত্মহত্যা করেন বলে ধারণা করেন।পরে ময়নাতদন্তের রিপোর্টেও একই কথা উল্লেখ করা হয়।

ময়নাতদন্ত রিপোর্টের তথ্য উল্লেখ করে চট্টগ্রাম মহানগরীর চান্দগাঁও থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবুল কাসেম বলেন, ডা. আকাশ ইনজেকশনের মাধ্যমে শরীরে বিষ প্রয়োগ করে আত্মহত্যা করেছেন। তার শরীরের কোথাও বড় ধরণের আঘাতের চিহ্ন নেই। তবে বাম হাতে ইনজেকশনের সুইয়ের কয়েকটি দাগ রয়েছে।

ওসি বলেন, আমরা প্রাথমিকভাবে জানতে পেরেছি, স্ত্রীর সাথে ঝগড়া করার পর ডা. আকাশ আত্মহত্যা করেন। এর আগে তিনি ফেসবুকে স্ত্রীর বিরুদ্ধে পরকীয়ার অভিযোগ এনে স্ট্যাটাস দেন। পরপুরুষের সাথে স্ত্রীর সেক্সুয়্যাল কিছু ছবিও রয়েছে তার ফেসবুক টাইমলাইনে। আমরা সকল তথ্য সংগ্রহ করেছি। নগর পুলিশের কাউন্টার টেররিজম ইউনিট ডা. আকাশের স্ত্রী ডা. মিতুকে আটক করেছে। মিতুর ঘনিষ্ট কয়েকজনকে আটকের চেষ্টা চলছে। তবে এ বিষয়ে এখনো কোন মামলা করেনি ডা. আকাশের পরিবার।

ডা. আকাশের মা জোবাইদা আক্তার জানান, বুধবার রাতে স্ত্রীর সাথে ঝগড়া হয় আকাশের। রাত চারটার কিছু আগে মিতু তার বাবাকে ফোন দিলে তিনি গাড়ি নিয়ে এসে মিতুকে নিয়ে যান। এরপর আকাশ মনমরা হয়ে বাসার সোফায় বসে থাকেন। এর কিছুক্ষণ পর মোবাইল চালাতে চালাতে ওয়াশরুমে যান আকাশ। পরে তাকে পরিবারের সদস্যরা একাধিকবার ডাকাডাকি করেন। এতে কোন সাড়া না পেয়ে দরজা ভেঙে বাথরুমে তাকে পড়ে থাকতে দেখেন তারা। এসময় পাশেই কয়েকটি ইনজেকশনের সিরিঞ্জও পড়ে ছিল।

জোবাইদা বলেন, পরকীয়ায় জড়িত স্ত্রীর সঙ্গে তার প্রায় ঝগড়া হতো। স্ত্রীর মা-বাবাসহ সবাই আমার ছেলেকে মানসিকভাবে যন্ত্রণা দিয়ে আত্মহত্যার দিকে ঠেলে দিয়েছে। আকাশ আত্মহত্যা করেনি। তাকে হত্যা করা হয়েছে। ছেলে হত্যার বিচার চাই আমি।

ডা. আকাশের ফেসবুক টাইমলাইনে দেখা যায়, আত্মহননের কয়েকমুহুর্ত আগে স্ট্যাটাস, ছবি ও ভিডিও দিয়ে স্ত্রীর সঙ্গে সম্পর্কের অবনতির ঘটনাবলি তুলে ধরেন। তার সর্বশেষ স্ট্যাটাস ছিল ভাল থেক আমার ভালবাসা তোমার প্রেমিকদের নিয়ে।

সর্বাধিক পঠিত