প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

রক্ষনাবেক্ষনের অভাবে বিআরটিসি’র ৪৯ ভলভো বাস ভাঙ্গারি হিসেবে বিক্রির প্রক্রিয়া শুরু

হ্যাপি আক্তার : কেনার ছয় বছর পরই অকেজো হতে শুরু করে বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষ-বিআরটিসি’র ৪৯টি ভলভো বাস। সুইডেনের তৈরি এসব বাস এখন হিসাবে নিলামে বিক্রির প্রক্রিয়া চলছে। ইউরোপীয় ব্যান্ডের এসব উন্নত বাস ২০-২৫ বছর রাস্তায় সচল থাকার কথা থাকলেও রক্ষনাবেক্ষনের অভাবে এ পরিনতি, বিষয়টি স্বীকার করছে বিআরটিসি কর্তৃপক্ষও। সচল বাসকে অচল করতে অবহেলার দায় এড়াতে পারে না বিআরটিসি, বলছেন পরিবহন বিশ্লেষকরা। ইন্ডিপেন্ডেন্ট টেলিভিশন।

সচল অবস্থায় প্রতিটি বিআরটিসি বাস থেকে দৈনিক আয় ছিলো প্রায় ২০ হাজার টাকা। সে হিসেবে প্রতি মাসে প্রায় ৩ কোটি টাকার রাজস্ব হারাচ্ছে বিআরটিসি।

৬৬ কোটি টাকায় কেনা বাসগুলো বছরের পর বছর খোলা আকাশের নীচে পড়ে থাকায় এখন ভাঙ্গারি হিসাবে বিক্রি ছাড়া বিকল্প নেই। এটি হবার নয়, বলছেন, বিআরটিসির সাবেক পরিচালক এস এম সালেহ উদ্দীন। তিনি বলেন, যেকোন প্রতিষ্ঠান যখন গাড়ি দেয় তখন তাদের সঙ্গে একটা চুক্তি থাকে, যেনো প্রয়োজন মতো পার্টস আনতে পারে। ভলবো চালানোর জন্য সে রকম পরিবেশই তৈরি করা হয়ে ছিলো। তারপরও এগুলো কেনো বসে গেলো এটা উদ্বিগ্নের বিষয়।

নির্মাতা প্রতিষ্ঠানের তথ্য, ভলভো বাসের সাধারণ মেয়াদ ১২ বছর, ঠিক মত রক্ষনাবেক্ষন হলে চলে ২০ থেকে ২৫ বছর যাকে বলা হচ্ছে অর্থনৈতিক মেয়াদ। অথচ আমাদের বিআরটিসি বাস উদ্বোধনের মাত্র ছয় বছরের মাথায়, ২০০৭ সাল থেকে ভাগাড়ে আশ্রয় নিতে শুরু করে।

২০০৯ থেকে ২০১১ সালে বেশিরভাগ বাস রাস্তা থেকে উঠে যায়। সবশেষ ২০১৪ সালে ৫০টির মধ্যে ৪৯ টি ভাগাড়ে চলে যায়। বাকী একটি বাস ১৯ বছর ধরে চলছে হাইকোর্টের স্টাফ পরিবহনে।

দামি এসব বাস রক্ষনাবেক্ষনে গাফেলতি ছিলো বলছেন,বিআরটিসির চেয়ারম্যান ফরিদ আহমদ ভূঁইয়া। তিনি বলেন, প্রপার মেইন্টেনেন্স ও স্পেয়ার পার্টসের অভাবে এ বাসগুলা ক্রমান্বয়ে বসা শুরু করে ২০১৪ সালে ৪৯ টা বাস বসে গেছে। একটা বাস যেটা চলছিলো সেটাও অন্য বাস থেকে পার্টস নিয়ে কোনো রকম চালু রাখা হয়েছে। এখন এগুলো যে পুরনো অবস্থায় আছে এগুলো আর উঠানো সম্ভব না। এখন মন্ত্রণালয় থেকে নিলামে বিক্রি করার অনুমোদন আমরা পেয়েছি, সেই কাজ চলছে। একটা বাস যখন বসে থাকে তখন তার পার্টস, ইঞ্জিন নষ্ট হতে থাকে। এই গাড়ির যে উন্নত টেকনোলজি তা ঠিকভাবে মেইনটেইন করা হয় নাই।

এদিকে সচল বাসকে অচল করতে অবহেলার দায় এড়াতে পারে না বিআরটিসি উল্লেখ করে বুয়েটর অধ্যাপক শামসুল হক। তিনি বলেন, জনগণের টাকায় কেনা এসব সম্পদ অবহেলায় নষ্ট হবে এর উত্তর তো কাউকে না কাউকে দিতে হবে। সম্পাদনা : জামাল

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত