প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

নিজেদের অবস্থান নিয়ে বিব্রত রাশেদ খান মেনন সুলতান-মোকাব্বিরকে নিয়ে বিপাকে গণফোরাম

প্রভাষ আমিন : ১. সংসদে নিজেদের অবস্থান নিয়ে দ্বিধান্বিত ১৪ দলের শরিকরা। শরিক দলগুলোর মধ্য ওয়ার্কার্স পার্টি ৩টি, জাসদ ২টি, বাংলাদেশ জাসদ ১টি,জেপি ১টি এবং ত্বরিকত ফেডারেশন ১টি আসনে জিতেছে। জেপি ছাড়া আর বাকি সবাই নির্বাচন করেছে নৌকা প্রতীকে। ১৪ দল অনেকদিন ধরেই আওয়ামী লীগের জোটসঙ্গী, তারা আওয়ামী লীগের আদর্শিক সঙ্গীও। বিভিন্ন দফায় তারা সরকারেও ছিলো। কিন্তু এবার নির্বাচনের পর তারা পড়েছে বিপাকে। মন্ত্রিসভায় ১৪ দলের শরিকদের কারো ঠাই হয়নি। আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের তাদের বিরোধী দলের আসনে বসার পরামর্শ দিয়েছেন। কিন্তু সমস্যা হলো, নির্বাচনের পর ১৪ দলের কোনো বৈঠক হয়নি। সংসদে তাদের ভূমিকা নিয়ে কোনো আলোচনা হয়নি। উন্নয়নের কথা বলে নৌকা মার্কায় ভোট চেয়ে এখন তারা কোন মুখে সরকারের বিরোধিতা করবে? এই দ্বিধা, এই সঙ্কটের কথা তারা লুকাননি। বুধবার একাদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনে প্রথম সুযোগেই ওয়ার্কার্স পার্টির রাশেদ খান মেনন বলেছেন, ‘একাদশ জাতীয় সংসদ নিয়ে আমরা আনন্দিত। তবে এই আনন্দের সঙ্গে সঙ্গে আমরা একটু বিব্রতও বটে। আজকে ঢোকার মুখেও (সংসদে প্রবেশের সময়) আমাকে প্রশ্নের সম্মুখীন হতে হয়েছে। জানতে চাওয়া হয়েছে, আপনাদের সংসদে অবস্থান কী হবে?’ তিনি বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী তাঁর দলের বৈঠকের মধ্যে একটি মন্তব্য করেছেন। আমি মনে করি প্রধানমন্ত্রীর মন্তব্যটি অত্যন্ত যৌক্তিক। তিনি বলেছেন,‘এই সংসদে সরকারি দল যেমনি মুক্তিযুদ্ধের সপক্ষের হবে, তেমনি বিরোধী দলও মুক্তিযুদ্ধের সপক্ষের হবে।’ কিন্তু বিষয়টিকে কেন্দ্র করে শেষ পর্যন্ত যেটা দাঁড়িয়ে গেছে…। আমাদের বলা হচ্ছে আপনারা কেন বিরোধী দলে গিয়ে বসছেন না। বিষয়টি নিয়ে তো আমাদের কেউ জিজ্ঞাসা করবে, প্রশ্ন করবে বা আলোচনা করবে কিন্তু তা হয়নি। মনে হয় এই সিদ্ধান্ত যেন আমাদের ওপর…। মনে হচ্ছে সিদ্ধান্ত মেনে চলতে হবে।’

যতই বিব্রত হন, রাশেদ খান মেননদের এখন বিরোধী দলেই বসতে হবে। ইচ্ছার বিরুদ্ধে হলেও সরকারের সমালোচনা করতে হবে।

২. ১৪ দলের শরিকরা যেমন সংসদে নিজেদের অবস্থান নিয়ে বিব্রত। তেমনি ঐক্যফ্রন্ট বিব্রতকর অবস্থায় পড়েছে গণফোরামের দুই নির্বাচিত সাংসদকে নিয়ে। নির্বাচনের পর গণফোরাম নিজেদের বর্ধিত সভায় দুই সাংসদের শপথের পক্ষে অবস্থান নিলেও পরে বিএনপির চাপে পিছিয়ে আসে। তবে দল পিছিয়ে এলেও দুই সাংসদ সুলতান মোহাম্মদ মনসুর আহমেদ এবং মোকাব্বির খান জনগণের রায়ের প্রতি সম্মান দেখিয়ে শপথ নিতে ও সংসদে যোগ দিতে চান। তাই ২৬ বছর পর প্রথমবারের মতো পাওয়া সংসদের দুই প্রতিনিধিকে নিয়ে বিপাকে পড়েছে গণফোরাম। দুই সাংসদকে শপথ নেয়ার অনুমতি দিলে ভেঙ্গে যেতে পারে ঐক্যফ্রন্ট। আর না দিলে হারাতে হতে পারে দুই সাংসদকে। অবস্থা এমন, দলের অনুমতি না পেলেও হয়তো সুলতান-মোকাব্বির শপথ নিয়ে নেবেন। এখন কী করবে গণফোরাম?

লেখক: হেড অব নিউজ, এটিএন নিউজ

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বাধিক পঠিত