প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

শুধু বংশ বৃদ্ধির জন্য বিয়ে নয়

পিয়াস ইসলাম : চারপাশে একটু চোখ রাখলেই দেখতে পাবেন আমাদের দেশে এখন আনুষ্ঠানিকভাবে বিয়েটাই খুব বেশি হচ্ছে। হয়তো সম্পর্ক ভেঙে যাচ্ছে তারপর বাবা-মা পছন্দ করে বিয়ে দিচ্ছে কিংবা সম্পর্ক থাকা অবস্থায় ভালো ছেলে বা মেয়ে পেয়ে সেই সম্পর্ককে ভুলে গিয়ে পারিবারিকভাবে বিয়ে করছে কেউ কেউ। সূত্র : কাঠ পেন্সিল ডটকম

অ্যারেঞ্জড ম্যারেজ জিনিসটা কিন্তু বেশ মজার এবং অ্যাডভেঞ্চারাস তবে এই মজার অ্যাডভেঞ্চারাস জিনিসটার ভেতরে কিছু অতিরিক্ত অ্যাডভেঞ্চার মাঝে মাঝে ঢুকে যায়, এটা একটু সমস্যা। ঠিক বুঝছেন না, তাই না? কোনো কোনো মেয়েকে অনেক সময় ফ্যামিলির কথা চিন্তা করে প্রেম বিসর্জন দিয়ে অ্যারেঞ্জড ম্যারেজে মত দিতে হয়, কারো কারো অ্যাফেয়ার থাকে না… তারা ফ্যামিলির সিদ্ধান্ত মেনেই বিয়ে করে, মতান্তরে কেউ কেউ আবার গোল্ড ডিগার। তারা হবু স্বামীর ছয় ফিগারের বেতন কিংবা বাড়ি-গাড়ি দেখেও প্রেমিককে ডাম্প করে বিয়ে করতে পারে, এসব তর্কাতর্কির বিষয় থাকুক। এসব নিয়ে বেশি কথা বলতে গেলে আমাদের এই লেখার মূল ব্যাপারটাই হারিয়ে যাবে। ছদ্মনামে একটা সত্য গল্প বলি। গল্পটা একদম সত্য। কিছুদিন আগে আমার পরিচিত এক মেয়ে, যার নাম ধরলাম রিতা, বিয়ে হয় তার বাবা-মায়ের পছন্দে। মেয়েটির সায়েম নামের এক ছেলের সাথে সম্পর্ক ছিলো। কিন্তু বিধিবাম! এই ছেলের সাথে বাপ-মা বিয়ে দেবে না, কারণ ছেলের তেমন কিছু নেই, খুব ছিমছাম একটা বায়িং হাউজে জব করে। কিন্তু রিতার মামা অনেক ভালো এক ছেলে এনেছে যার বাবার বাড়ি আছে ঢাকায়, প্লাস ছেলে ৬ ডিজিটের স্যালারি পায়।

রিতাও খুব সোজা একটা অঙ্কে পা দিয়ে দেয়। সায়েমের জন্য অপেক্ষা করে সময় নষ্ট না করে বাবা-মায়ের কথায় রাজি হয়ে যায়। ছেলে তো ভালোই, খারাপ নয়। ঠিকই মনকে মানিয়ে নিতে পারবো। তারপর বিয়েটা হয়ে গেলো। অথবা আমরা এখানে ধরে নিতে পারি যে, মেয়েটির কোনো রিলেশন ছিলো না, কারণ ‘রিলেশন’ এখানে ম্যাটার নয়।
মেয়েটির সাথে বিয়ের রাতেই নববিবাহিত স্বামী শারীরিক সম্পর্ক স্থাপনের চেষ্টা করে এবং সেটা করতে দিতে বাধ্য হয় রিতা। স্বামী ‘ভদ্রলোক’ এতোটাই ‘ডেসপারেট’ ছিলেন, তিনি সেক্সের সময় মেয়েটির যোনির বেশ কিছু নার্ভ ছিড়ে ফেলেন, প্রচÐ রক্তক্ষরণের কারণে মেয়েটিকে সেদিন রাতে হসপিটালাইজড করতে হয় এবং বেশ কয়েক ব্যাগ রক্তের প্রয়োজন হয়েছিলো সেদিন। স্বামী ‘ভদ্রলোক’ বেশ হাসিমুখে হাসপাতালের লবি’তে ঘুরঘুর করছিলেন যেন তিনি প্রমাণ করতে পেরেছেন তিনি একজন পুরুষ। শুনেছি মেয়েটিও ইদানীং ‘সুখে’ আছে।

যা হোক, সেই স্বামী ভদ্রলোক কিন্তু গ্রামের কোনো চাষাভুষা নন। তিনি শহরের স্বনামধন্য স্কুল-কলেজে পড়েছেন এবং নামি বিশ্ববিদ্যালয়ের গ্রাজুয়েট। বিয়ের রাতে শারীরিক সম্পর্ক করা বা করতে চাওয়া দোষের মধ্যে পড়ে না। উভয়ের সম্মতিতে যখন বিয়ে হচ্ছে, সেখানে এটা স্বাভাবিক হওয়ার কথা। মেয়ে এবং ছেলে উভয়ের শরীরেই হরমন আছে আর সেই হরমন কাজ করবেই সেটাই ন্যাচারাল। কিন্তু সেই সাথে ব্রেইনের একটা উন্নত ভাগ আছে যার নাম মন, সেটা ভুলে গেলেও চলবে না। আমি ভাবি, বিয়ে ব্যাপারটা অসাধারণ একদিন হুট করে একটা মেয়ে আমার বিছানায় পাশের বালিশটায় চুল মেলে দিচ্ছে, আয়নার সামনে বসে দু’হাতে কানের দুল খুলে রাখছে, আলতো হাতে টিপ খুলে আয়নায় লাগিয়ে রাখছে, হুট করেই আমাকে কেউ ধাক্কা দেবে, কেউ একজন থাকবে যে এসে অগোছালো ঘরটাকে ভালোবাসায় গুছিয়ে দিবে। প্রতিটা জিনিসই অবাক হয়ে দেখার মতো। এতোগুলো রাত নিঃসঙ্গ কাটিয়ে দেয়া রুমটাতে নতুন অতিথি কতো কিছু আছে তাকে বলার, দেখানোর।

বিয়ের প্রথম রাতটা হতে পারে জীবনের সেরা রাত, হতে পারে দু’জন মানুষের সারাজীবনের ভ্রমণের এক সুন্দর প্রস্তুতি। সে আমার স্ত্রী, তার প্রতি আমার শারীরিক আকর্ষণ থাকবেই। আমি চাইবো সে আমার কাছাকাছি আসুক, এজন্য সর্বপ্রথম যে কাজটি আমি করবো, সেটা হলো ছোটখাটো ব্যাপারগুলোতে তাকে ইমপ্রেস করা, একটা কমফোর্ট জোন ক্রিয়েট করা। সে বিয়ে করে এসেছে, সে নিতান্তই বাচ্চা নয়। সে জানে ‘সেক্স’ এখানে মুখ্য একটা বিষয়। কমফোর্ট জোনটা সৃষ্টি হলে স্বামী-স্ত্রী কাছে ঠিকই আসবে সিস্টেমেটিকালি এটা কোনো রকেট সায়েন্স নয় বলে আমার বিশ্বাস।
আশপাশে আমার মতো কিংবা আমার বয়সী অনেকেই আছে, যারা শাহরুখ দেখেছে, নির্মলেন্দু গুণ পড়েছে, রোমান্স জানে, বুঝে। তবুও কেন বিয়ের রাতে মেয়েটিকে ভালোবেসে চুমু খেয়ে কাছে টেনে দুই নিঃশ্বাসকে এক করে এলোমেলো চুলগুলোতে আঙ্গুল জড়িয়ে ‘এ নাইট টু রিমেম্বর’ বানানোর বদলে ‘কেউ কেউ’ তার দু’হাত চেপে তার ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ে মেয়েটির জন্য ‘এ নাইট টু ফরগেট’ বানাতে চায়? আমি সত্যিই জানি না।

আমি চাই না বন্ধুদের আড্ডায় কোনো একদিন আমার কোনো বন্ধু এসে দাঁত বের করে বলুক, ‘দোস্ত, বিয়ের পর গত দু’দিনে সকাল-দুপুর-সন্ধ্যা-রাত মিলিয়ে চৌদ্দবার। এমন ভাবে ***, উঠেই দাঁড়াতে পারছে না…।’ কিংবা খুব নোংরাভাবে বলুক- ‘গোসল করাতে করাতে ঠাÐা লাগিয়ে ফেলছি’। আল্লাহ্ পৃথিবীর সবগুলো ছেলেকে এভাবে ভাবতে দিন। বিয়ে মানেই কী শারীরিক সম্পর্কের একটা লাইসেন্স নেয়া নাকি বংশ বৃদ্ধি করার জন্য একটা মেশিন কিনে নেয়া? আমার কাছে বিয়ে মানে পৃথিবীর সেরা বন্ধুকে নির্বাচন করা। যে আমি হয়তো কোনোদিন কাঁদবো না কারণ লোকে কী ভাববে কিন্তু আমার বউ বা সহধর্মিণী তার কাছে আমি খুব কষ্টে কাঁদতে দ্বিধাও করবো। আমার কাছে স্ত্রী মানে আমার সবচেয়ে কাছের বন্ধু।আমাকে যদি কেউ জিজ্ঞেস করে তোমার বেস্ট ফ্রেন্ড কে? আমি বলি, ‘যদি ভাগ্যে বউ থাকে তাহলে সেই হবে বেস্ট ফ্রেন্ড’-তবে সবাই আমার ভালো বন্ধু। যদিও আমি জানি না আমার সেই বেস্ট ফ্রেন্ডের কাছে আমি কোনোদিন বেস্ট ফ্রেন্ড হতে পারবো কিনা। না হলেও সমস্যা নেই, আমার বেস্ট ফ্রেন্ড সে, এতেই আমার হবে। পৃথিবীর কোনো গল্প শেষ হয় না, আমরা যখন ভাবি গল্প শেষ ঠিক সেখান থেকেই তৈরি হয় নতুন গল্পের। তাদের মধ্যে নায়ক থাকে, নায়িকা থাকে। আমরা সবাই আমদের নিজেদের গল্পের মূল চরিত্র, আর সেই গল্পকে সাথে নিয়ে যেতে আমাদের জীবনে আসে একজন যাকে নিয়ে হুট করেই হারিয়ে যেতে ইচ্ছে করে কোনো অজানা রাস্তায়। যার সাথে শীতের সকালে গ্রামের কোনো রাস্তায় হাঁটতে বের হলে আর কোলাহলের শহরে ফিরতে ইচ্ছে করে না। ভালো থাকুক তারা, ভালোবাসতে জানে যারা। ফেসবুক থেকে

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বাধিক পঠিত