প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

জাতীয় সংসদে কার্যত কোনো বিরোধীদল নেই বললেন বাম জোটের চার শীর্ষ নেতা

রফিক আহমেদ : বাম গণতান্ত্রিক জোটের শীর্ষ চার শীর্ষ নেতা বলেছেন, একাদশ জাতীয় সংসদে কার্যত কোনো বিরোধীদল নেই। সরকারি পক্ষের একাংশকে বিরোধীদল সাজিয়ে যে তামাশা করা হচ্ছে- তা কেবল হাসিঠাট্টারই জন্ম দিচ্ছে। সরকার মানুষকে যেভাবে বোকা মনে করছে- তার জন্য একদিন তাদেরকে অনুশোচনা করতে হবে। বৃহস্পতিবার বাম জোটের নেতাদের সঙ্গে যোগাযোগ করলে তারা এসব কথা বলেন।

বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি- সিপিবির সভাপতি মুজাহিদুল ইসলাম সেলিম বলেন, একাদশ জাতীয় নির্বাচনের ভোট ডাকাতির ব্যাপারে দেশবাসী ক্ষোভ প্রকাশ করেছে। দেশের সকল জনগণের ক্ষোভ হিসেবে আমরা কালো পতাকা মিছিল করেছি। জনগণ এ নির্বাচন মেনে নেয়নি, নেবে না। আমরা একই সঙ্গে মানুষের ভোট ও ভাতের দাবিতে সংগ্রাম চালিয়ে যাবো।

বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দল- বাসদ সাধারণ সম্পাদক খালেকুজ্জামান বলেন, শামরিক বাংলাদেশে সামরিক স্বৈরতন্ত্র ও তার বিপরীতে অসামরিক স্বৈরতান্ত্রিক শাসন চলে আসার কারণে সংসদ কখনো কার্যকারিতা কিংবা জনগণের প্রাপ্তি প্রত্যাশার কেন্দ্র হয়ে উঠেনি। দিনে দিনে সংসদ রাজনৈতিকবিদরা প্রায় বিলুপ্ত প্রজাতির পথে নিয়ে গেছে। আর এ সংসদ ব্যবসায়ীদের ক্লাবের মর্যাদা লাভ করেছে। আগের সংসদগুলো বাংলাদেশের জমিনের সাথে যতটুকু খুঁটি বাঁধা ছিল এবারের সংসদে তাও নেই। এটা অনেকটা হাওয়াই সংসদ হিসেবে চেপে বসেছে। ফলে এবারের সংসদে সরকারি দল এবং বিরোধীদলের যে নাটক মঞ্চস্থ হবে তা উপভোগ করা ছাড়া জনগণের আর তেমন কিছুই চাওয়া পাওয়া থাকবে না।

বাংলাদেশের বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল হক বলেন, এই সংসদে ট্যাকনিকেল বৈঠক থাকলে ও এর রাজনৈতিক ও নৈতিক কোনো বৈধতা নেই। ফলে এ সংসদ দেশের ব্যাপক সংখ্যাঘরিষ্ঠ জনগণের প্রতিনিধিত্ব করে না। এ বিচারে জনগণের দিক থেকে সংসদের কাছে জনগণের বিশেষ কোন চাহিদা নেই। বরং জনগণের ভোটাধিকার হরণ করে তাদেরকে যেভাবে অসম্মান ও অমর্যদা করা হয়েছে, তা বাংলাদেশের ইতিহাসে তার দ্বিতীয় নজির নেই। জাতীয় সংসদে এখন কার্য়ত কোনো বিরোধী দল নেই। সরকারি পক্ষের একাংশকে বিরোধীদল সাজিয়ে যে তামাশা করা হচ্ছে তা কেবল হাসি ঠাট্টারই জন্ম দিচ্ছে। সরকার মানুষকে যেভাবে বোকা মনে করছে তার জন্য একদিন এদেরকে অনুশোচনা করতে হবে।

গণসংহতি আন্দোলনের প্রধান সমন্বয়ক জোনায়েদ সাকি বলেন, ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের উপ নির্বাচন আমরা প্রতিবাদ হিসেবে বয়কট করেছি। বর্তমান সংসদ ভেঙ্গে দিয়ে নিরপেক্ষ তদারকি সরকারের অধীনে নির্বাচন চাই। স্থানীয় সরকারের অধীনে নির্বাচনে যাওয়ার ব্যাপারে আমাদের সিদ্ধান্ত পরবর্তী পর্যায়ে জানানো হবে।

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বাধিক পঠিত