প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

ডিআইজি’র উদ্যোগে সাভারের বেদে পল্লীর মত হিজড়ারাও আলোর পথে

ইসমাঈল হুসাইন ইমু : উত্তরণ ফাউন্ডেশনের প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান ডিআইজি হাবিবুর রহমানের উদ্যোগে বেদে পল্লীর মানুষের পর এবার তিনি তৃতীয় লিঙ্গের পিছিয়ে পড়া মানুষদের জন্য নানামূখী উদ্যোগ নিচ্ছেন। তার উদ্যোগে এখন অনেকেই এগিয়ে আসছেন। হিজড়ারা যাতে সমাজে মানুষের মত মানুষ হিসেবে প্রতিষ্ঠা লাভ করে বুক উচিয়ে বেচে থাকতে পারেন- সেই লক্ষ্যে তৃতীয় লিঙ্গের ২ সদস্যকে ইতিমধ্যে উত্তরণ ফাউন্ডেশন ভারতে পাঠিয়েছে।

ডিআইজি হাবিবুর রহমান বলেন, সমাজের সামগ্রিক উন্নয়নের জন্য পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠীকেও সমানতালে এগিয়ে নিতে হবে। তাদের নানাভাবে কর্মমুখী করে গড়ে তুলতে হবে। হিজড়া সম্প্রদায় আমাদের মতই রক্ত-মাংসের মানুষ হয়েও তারা প্রকৃতপক্ষে মানুষের অধিকার থেকে বঞ্চিত। জীবনধারনের সঠিক দিকনির্দেশনা না পাওয়য় শুধুমাত্র বেঁচে থাকার তাগিদে তারা বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে পড়ছে। আমাদের বিরাগভাজনের শিকার হচ্ছে। এজন্য তাদেরকে আলোর পথ দেখাতে হবে, যথাযথ কর্ম-সংস্থানের ব্যবস্থা করতে হবে। ইতোমধ্যে উত্তরণ ফাউন্ডেশনের পক্ষ থেকে আমরা উত্তরায় আপন হিজড়ার নেতৃত্বে একটি ফ্যাক্টরী ও টেইলার্স করে দিয়েছি যাখানে ২৫ জন হিজড়া নিয়মিত কাজ করছে- যারা প্রত্যেকেই এখন নিজের পায়ে দাড়াতে শুরু করেছে।

এছাড়া আশুলিয়া, সাভার ও ব্রাহ্মণবাড়িয়াতে ৩টি পার্লার করে দিয়েছি যেখানে অনন্যা, শাম্মী, সোহাগী ও মনিষা হিজড়ার নেতৃত্বে ১৫ জন সদস্য কাজ করছে। আমরা উত্তরায় কচি হিজড়ার নেতৃত্বে একটি ডেইরী ফার্ম করে দিয়েছি সেটাও বেশ ভাল করছে। এর বাইরেও আমরা মানিকগঞ্জ ও রাজবাড়ীতে খুব শিঘ্রই দুটি পার্লার চালু করার চিন্তা করছি। আমরা বাংলাদেশের বিভিন্ন প্রান্তের হিজড়াদের সাথে একটি সু-সম্পর্ক তৈরি করেছি এবং প্রতিনিয়ত তাদের কর্মমূখী হবার আগ্রহের বিষয়টি আমাদের অনপ্রাণিত করছে। বিভিন্ন শ্রেণী- পেশার মানুষের সহযোগিতায় এবং আমাদের সীমিত ব্যবস্থাপনায় যতদূর পারি চেষ্টা করছি। আমাদের গৃহীত এই উদ্যোগগুলো সমাজের জন্য তথা রাষ্ট্রে জন্য একটি উদাহরণ হতে পারে কিন্তু সকলে যার যার অবস্থান থেকে এগিয়ে না আসলে এই জনগোষ্ঠীকে পুরোপুরি পুনর্বাসন করা সম্ভব নয়। তিনি আরো বলেন, দেশের সকল নাগরিকের সমান অধিকার রয়েছে। সংবিধানে সকলের জন্য সে অধিকার রেখে গেছেন জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। তার কন্যা মাননীয় প্রধানমন্ত্রীও সেই ব্যবস্থা অব্যাহত রাখতে কাজ করে চলেছেন। আপনাদের সকলের সহায়তা পেলে উত্তরণ ফাউন্ডেশনও মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর ভিশন বাস্তবায়নে অগ্রণী ভূমিকা পালন করবে বলে আশা রাখি।

বৃহস্পতিবার পুলিশ সদর দফতরে এ প্রতিবেদকের সঙ্গে আলাপকালে অনন্যা হিজড়া বলেন, হাবিব স্যার আমাদের কাছে দেবতার মত। এর আগে বাংলাদেশের কেউ তার মত করে আমাদের জীবনযাত্রার মানোন্নয়নে এগিয়ে আসেনি। আমরা সমাজ থেকে পরিবার থেকে দেশ থেকে বিচ্ছিন্ন এক জনগোষ্ঠী ছিলাম। আমাদের কাজ করার কোনো সুযোগ ছিলনা। হাবিব স্যারের নানামূখী উদ্যোগের কারনে আমাদের এখন আর চাঁদাবাজি ছিনতাই করতে হয় না। চেয়ে চিন্তে খেতে হয় ন। আমরা এখন নিজেরা কাজ করে খেতে পারছি। একই সাথে অন্যান হিজড়াদেরকেও কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করতে পারছি।

অনন্যা আরো বলেন, হাবিব স্যার ইতিমধ্যে আমাদের ২ জন হিজড়াকে উন্নত প্রশিক্ষনের জন্য ভারতে পাঠিয়েছেন। পর্যায়ক্রমে আরো পাঠাবেন বলে আশ^স্ত করেছেন। উনার জন্য আমরা প্রান উজার করে দোয়া করি। উনাকে আল্লাহ আরো অনেক বড় করুন। মর্যাদা দিন।

প্রসঙ্গত, ডিআইজি হাবিবুর রহমান তার উত্তরণ ফাউন্ডেশনের মাধ্যমে ঢাকাস্থ সাভার ও মুন্সীগঞ্জের বেদে সম্প্রদায়ের জন্য সেলাই প্রশিক্ষণ, বুটিক, কম্পিউটার ট্রেনিং, স্কুল, ফ্যাশন হাউস ও আবাসন প্রকল্পসহ নানামূখী কার্য্যক্রম গ্রহণ করেছেন যা ইতোমধ্যে পুরো বেদে সম্প্রদায়কে প্রায় সাড়ে চারশ বছরের গ্ল্যানিময় জীবন থেকে মুক্তি দিতে চলেছে। ইতিমধ্যে তিনি বেশ কয়েকজন বেদের চাকরী দিয়েছেন। তিনি আরো কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করবেন বলে বেদে সম্প্রদায় আশা প্রকাশ করেছে।

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বাধিক পঠিত