প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

২০১৯ বিশ্বকাপের পর এশিয়ার যে তারকা ক্রিকেটাররা অবসরে যাবেন

আক্তারুজ্জামান : ২০১৯ ক্রিকেট বিশ্বকাপের আর মাত্র চার মাস বাকি। বিশ্বকাপকে সামনে রেখে প্রত্যেকটি দলই নিজেদের পরিকল্পনা সাজিয়ে নিতে ব্যস্ত। বিশ্বকাপ উপলক্ষে রীতিমত উৎসব শুরু হয়েছে ইংল্যান্ড আর ওয়েলসের স্টেডিয়ামগুলোর আশপাশে। ক্রিকেটের সর্ববৃহৎ এই আসরে এবার অংশগ্রহণ করবে মোট ১০টি দল।

অস্ট্রেলিয়া ও নিউজিল্যান্ডে অনুষ্ঠিত ২০১৫ বিশ্বকাপে ক্রিকেট থেকে অবসর নিয়েছিলেন ব্রেন্ডন ম্যাককালাম, কুমার সাঙ্গাকারা, মাইকেল ক্লার্ক, শহীদ আফ্রিদিসহ আরও অনেক তারকা ক্রিকেটার। এবারের বিশ্বকাপেও ক্রিকেট থেকে অবসর নিতে পারেন বেশ কয়েকজন তারকা ক্রিকেটার। ২০১৯ বিশ্বকাপই ক্যারিয়ারের শেষ বিশ্বকাপ হবে, এমন পাঁচজন এশিয়ান তারকা ক্রিকেটারদের নিয়েই আমাদের আজকের আয়োজন।

১. মাশরাফি বিন মর্তুজা (বাংলাদেশ)
২০১৫ বিশ্বকাপের পর বদলে যাওয়া দলগুলোর মধ্যে একটি বাংলাদেশ। মাশরাফির নেতৃত্বে দলটি আসন্ন বিশ্বকাপে অংশ নিচ্ছে র‌্যাঙ্কিংয়ের সাত নম্বর দল হিসেবে। সাম্প্রতিক সময়ে বাংলাদেশ অনেকগুলো ওয়ানডে সিরিজে সাফল্যের দেখা পেয়েছে তার অধীনেই। মাশরাফির অধিনায়কত্বেই টাইগাররা পাকিস্তান, ভারত ও সাউথ আফ্রিকার মতো বাঘা দলগুলোর বিপক্ষে সিরিজ জিতেছে ।

এ বছরের বিশ্বকাপের পর মাঠে আর দেখা যাবে না ম্যাশের এই চেহারা।

‘নড়াইল এক্সপ্রেস’ খ্যাত এই বোলার ক্যারিয়ারের বেশিরভাগ সময়ই পার করেছেন চিকিৎসকের ছুরির নিচে। হাঁটুর চোটে পুরো ক্যারিয়ারে অস্ত্রোপচার করেছেন মোট ১১ বার। ২০২টি ওয়ানডে ম্যাচ খেলে প্রতিপক্ষের ২৫৮টি উইকেট শিকার করেছেন মাশরাফি। চোটে জর্জরিত এই ফাস্ট বোলার ক্যারিয়ার সুদীর্ঘ করতে পারেননি নিজের প্রিয় ফরম্যাট টেস্টে। ৩৬টি টেস্ট ম্যাচ খেলে নিয়েছেন ৭৮ উইকেট।

৫৪টি টি টোয়েন্টিতে বল হাতে মাশরাফির শিকার করেছেন ৪২টি উইকেট। পাশাপাশি দলের প্রয়োজনে ব্যাট হাতেও অবদান রেখেছেন ৩৫ বছর বয়সী এই ক্রিকেটার। বয়সের কারণে ২০১৯ বিশ্বকাপের পর লাল সবুজ জার্সিতে মাশরাফিকে দেখা যাওয়ার সম্ভাবনা নেই বললেই চলে। বাংলাদেশের এযাবতকালের সেরা এই অধিনায়ক ২০১৯ বিশ্বকাপে দলকে কতটা সাফল্যের মুখ দেখাতে পারেন, সেটাই এখন দেখার বিষয়।

২. মোহাম্মদ হাফিজ (পাকিস্তান)
পাকিস্তানের সর্বকালের সেরা অলরাউন্ডারদের একজন হলেন মোহাম্মদ হাফিজ। পাকিস্তানের সবুজ জার্সিতে ২০৩টি ওয়ানডে ম্যাচে ব্যাট হাতে করেছেন ৬১৫৩ রান। ৫৫টি টেস্টে ৩৭.৬৫ গড়ে তার ব্যাট থেকে এসেছে ৩৬৫২ রান। ৮৯টি টি টোয়েন্টি ম্যাচ খেলে ২৪.৪৬ গড়ে ১৯০৮ রান সংগ্রহ করেছেন এই অলরাউন্ডার। বল হাতে ওয়ানডেতে ১৩৭, টেস্টে ৫৩ এবং টি টোয়েন্টিতে প্রতিপক্ষের ৫৪টি উইকেট শিকার করেছেন হাফিজ।

হাফিজের এই চিরাচরিত উদযাপন ২০১৯ বিশ্বকাপেই শেষ হবে।

বর্তমানে ৩৮ বছর বয়সী এই ক্রিকেটার টেস্ট থেকে অবসর নিয়েছেন ২০১৮ সালে। ওয়ানডেতেও শীঘ্রই অবসর নেয়ার পরিকল্পনা আছে হাফিজের। তবে ২০১৯ বিশ্বকাপ খেলার জন্যই ওয়ানডে থেকে এখনও অবসর নেননি বিভিন্ন ইস্যুতে বিতর্কিত এই অলরাউন্ডার। আসন্ন বিশ্বকাপের মঞ্চেই নিজের অবসরের ঘোষণা দিতে পারেন মোহাম্মদ হাফিজ।

৩. লাসিথ মালিঙ্গা (শ্রীলঙ্কা)
৩৫ বছর বয়সী লাসিথ মালিঙ্গা ২০১৯ বিশ্বকাপেই অবসরের ঘোষণা দিতে পারেন। শ্রীলঙ্কান এই ফাস্ট বোলার ক্যারিয়ারের শুরু থেকেই আলোচনার টেবিলে ছিলেন তার বোলিং অ্যাকশনের জন্য। অবশ্য তার চুলের অনন্য স্টাইলের জন্যেও অধিকাংশ সময়ই দর্শকদের আগ্রহের মূলবিন্দুতে থাকেন মালিঙ্গা। তবে তিনি নিজেকে বরাবরই চিনিয়ে এসেছেন তার বোলিং সামর্থ্য দিয়ে। শ্রীলঙ্কার হয়ে সর্বশেষ পাঁচ ম্যাচে ১১ উইকেট শিকার করেছেন এই গতি তারকা।

বাহারী চুল আর বৈচিত্র্যময় বোলিং অ্যাকশনের এই মালিঙ্গা ক্রিকেটকে বিদায় বলবেন এ বছরের বিশ্বকাপ শেষে।

এখন পর্যন্ত ২১৩টি ওয়ানডে ম্যাচ খেলে বল হাতে শিকার করেছেন ৩১৮টি উইকেট। এছাড়া ৩০টি টেস্টে ১০১টি এবং ৭০টি টি টোয়েন্টিতে ৯৪টি উইকেট নিয়েছেন এই বোলার। বিশ্বের বিভিন্ন ফ্র্যাঞ্চাইজি দলে খেলেছেন মালিঙ্গা। ২০১৯ বিশ্বকাপে মালিঙ্গা অবসর নিলে তার অভাব দীর্ঘদিন ভোগাতে পারে শ্রীলঙ্কাকে।

৪. শোয়েব মালিক (পাকিস্তান)
পাকিস্তানের শিয়ালকোটে জন্মগ্রহণ করা শোয়েব মালিক দুর্দান্ত ব্যাটিং পারফরম্যান্স দিয়ে প্রায় দুই দশক ধরে পাকিস্তানের আস্থার প্রতিদান দিয়ে যাচ্ছেন। পাকিস্তানের জার্সি গায়ে জড়িয়ে খেলেছেন ১০৮টি টি-টোয়েন্টি ম্যাচ। পাকিস্তানের হয়ে সর্বোচ্চ সংখ্যক টি-টোয়েন্টি ম্যাচ খেলার রেকর্ডও এই ব্যাটিং অলরাউন্ডারের দখলে।

কখনো ব্যাট হাতে কখনো বা বল হাতে দল জেতানোর নায়ক হতেন মালিক। তিনি ৫০ ওভারের ক্রিকেট ছাড়বেন এ বছরেই।

স্বল্পদৈর্ঘ্যরে ক্রিকেটে মনোযোগ দেয়ার জন্য ২০১৫ সালের নভেম্বরে টেস্ট ক্রিকেট থেকে অবসর নিয়েছেন এই পাকিস্তানি ব্যাটসম্যান। আসন্ন বিশ্বকাপে ওয়ানডে থেকেও অবসর নিতে পারেন। ৩৫ টেস্টের ক্যারিয়ারে মালিক ব্যাট হাতে ১৮৯৮ রানের সাথে বল হাতে পেয়েছেন ৩২ উইকেট। ২৭৪টি ওয়ানডে ম্যাচ খেলে ৭২৮৪ রান করার পাশাপাশি নিয়েছেন প্রতিপক্ষের ১৫৬টি উইকেট।

৫. মহেন্দ্র সিং ধোনি (ভারত)
সাবেক ভারতীয় অধিনায়ক মহেন্দ্র সিং ধোনির ওয়ানডেতে অভিষেক হয়েছিলো ২০০৪ সালে। ভারতের ক্রিকেট ইতিহাসের অন্যতম সেরা এই অধিনায়ক অবসর নিতে পারেন ২০১৯ বিশ্বকাপেই। অনেকের মতে, ধোনিই সর্বকালের সেরা উইকেটরক্ষক ব্যাটসম্যান। রেকর্ডসংখ্যক ৩৩২টি ম্যাচে ভারতকে নেতৃত্ব দিয়েছেন ৩৭ বছর বয়সী এই ব্যাটসম্যান।

ভারতের সর্বকালের সেরা অধিনায়ক তিনি। উইকেটের পেছনে থেকে যে ক্যারিশমা দেখিয়েছেন তাতে পুরো ক্রিকেটবিশ্ব অবাক হয়েছিল।

৯০ টেস্টের ক্যারিয়ারে ধোনি ৩৮.০৯ গড়ে করেছেন ৪৮৭৬ রান। এছাড়াও ওয়ানডেতে ৫০.৩৯ গড়ে ৩৩৪ ম্যাচে করেছেন ১০,২৭৯ রান। রাঁচিতে জন্মগ্রহণ করা এই ক্রিকেটার টেস্ট থেকে অবসর নেন ২০১৪ সালে। আসন্ন বিশ্বকাপে ধোনির অবসর বহুদিন কাঁদাবে ভারতীয় সমর্থকদের।

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত