প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

বই মেলায় ধর্মীয় উস্কানিমূলক কোনো বই প্রকাশ করা যাবে না: ডিএমপি কমিশনার

সুজন কৈরী : অমর একুশে বই মেলায় ধর্মীয় উস্কানিমূলক কোনো বই প্রকাশ ও প্রদর্শন করা যাবে না। এ ধরণের বই বিক্রি করলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়ার কথা জানিয়েছেন ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি) কমিশনার মো. আছাদুজ্জামান মিয়া।

বই মেলা প্রাঙ্গণের নিরাপত্তা ব্যবস্থা পরিদর্শনে গিয়ে বৃস্পতিবার বাংলা একাডেমিতে এক সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা বলেন তিনি। এ সময় ডিএমপির ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা তার সঙ্গে ছিলেন। আগামীকাল ১ ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু হচ্ছে অমর একুশে বই মেলা। যা চলবে ফেব্রুয়ারি মাস ব্যাপী।

ডিএমপি কমিশনার বলেন, ধর্মীয় ও সাম্প্রদায়িক উস্কানি থাকবে এমন বই বিক্রি নিষিদ্ধ রয়েছে। কেউ যাতে এ ধরনের বই বিক্রি করতে না পারে সেজন্য নজরদারি হিসেবে বাংলা একাডেমি সার্ভিলেন্স টিম মাঠে থাকবে। এছাড়াও পুলিশও নজরদারি করবে।

কমিশনার বলেন, বইমেলা উপলক্ষে লেখক ও ব্লগাররা চাইলে বিশেষ নিরাপত্তা দেয়া হবে। কোনো লেখক, প্রকাশক, ব্লগার যদি মনে করে তার ব্যক্তিগত নিরাপত্তা প্রয়োজন তাহলে সে পুলিশকে জানাবে। পুলিশ তাদের আলাদাভাবে নিরাপত্তার ব্যবস্থা করবে। বই মেলা ঘিরে জঙ্গি হামলার কোনো হুমকি নেই। কারণ সংঘবদ্ধভাবে জঙ্গি তৎপরতা চালানোর সক্ষমতা তাদের নেই। তবে বিচ্ছিন্নভাবে যেকোনো অপতৎপরতা মোকাবিলায় সর্বোচ্চ নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। সিটিটিসিসহ অন্যান্য গোয়েন্দারা মেলার নিরাপত্তায় তৎপর থাকবে।

ডিএমপি কমিশনার বলেন, প্রতিবারের মতো এবারো সুদৃঢ় নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে যা যা করণীয় সকলের সমন্বয়ে তা করা হবে। নিবিড় পর্যবেক্ষণের মধ্য দিয়ে মেলায় আগত দর্শনার্থী, লেখক ও প্রকাশকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আমরা দৃঢ় প্রতিজ্ঞ। টিএসসি থেকে দোয়েল চত্বর পর্যন্ত প্রতিটা ইঞ্চি সিসিটিভি ক্যামেরার আওতায় নিয়ে আসা হয়েছে। এছাড়া পুরো এলাকা সিসিটিভির আওতায় থাকবে এবং মেলায় স্থাপিত কন্ট্রোল রুম থেকে সার্বক্ষণিক মনিটরিং করা হবে।

তিনি জানান, বাংলা একাডেমিতে দুটি প্রবেশ ও একটি বের হবার পথ এবং সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে তিনটি করে প্রবেশ ও বের হওয়ার পথ থাকবে। মেলায় ইভটিজিংসহ যে কোনো অনাকাঙ্খিত পরিস্থিতি এড়াতে নারী ও পুরুষের জন্য আলাদা প্রবেশ পথ থাকবে। প্রতিটি প্রবেশ পথেই আর্চওয়ে ও মেটাল ডিটেক্টরের মাধ্যমে তল্লাশি করে সবাইকে প্রবেশ করানো হবে। এছাড়া হাতেও তল্লাশি করা হবে, এজন্য প্রবেশপথে একটু বিলম্ব হলেও সবাইকে ধৈর্য্য ধরে পুলিশকে সহযোগিতা করতে হবে। মেলার বাইরে বাঁশের বেড়া দিয়ে পুলিশের একটি আউটার কর্ডন থাকবে যেন কোনো অপ্রত্যাশিত ব্যক্তি এসে নিরাপত্তার বিঘ্ন ঘটাতে না পারে।

মেলায় পকেটমার, ছিনতাইকারী রোধে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও সাদা পোশাকের সদস্যরা কাজ করবে জানিয়ে আছাদুজ্জামান মিয়া বলেন, মেলা প্রাঙ্গণে থাকবে পুলিশের ওয়াচ টাওয়ার এবং পর্যাপ্ত আলোর ব্যবস্থা। যেকোনো পরিস্থিতি মোকাবেলায় প্রস্তুত থাকবে পুলিশের বিশেষায়িত বাহিনী সোয়াট এবং বোম্ব ডিসপোজাল ইউনিট। টিএসসি থেকে দোয়েল চত্বর পর্যন্ত যান চলাচল বন্ধসহ পুরো এলাকায় কোনো ভাসমান দোকান ও হকার থাকবে না। ছিনতাই-পকেটমার রোধে পুলিশের ফুট পেট্রোল ও মোবাইল পেট্রোল টিম কাজ করবে। যে কোনো তথ্য সংগ্রহে সাদা পোশাকে পর্যাপ্ত গোয়েন্দা পুলিশ তৎপর থাকবে।

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বাধিক পঠিত