প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

ইকবাল হাবিব বললেন, নদীকে ‘জীবন্ত সত্ত্বা’ ঘোষণায় গুরুত্বপূর্ণ নদীগুলো সুরক্ষা পাবে

মারুফুল আলম : বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলন (বাপা)-র যুগ্ম সম্পাদক ইকবাল হাবিব বলেছেন, অতীতে আদালতের অনেক রায় পেয়েও আমরা নদীর পাড়, নদীদূষণ এবং নদীদখল কিছুতেই ঠেকাতে পারছিলাম না। এবার নদীকে আদালতের ‘জীবন্ত সত্ত্বা ঘোষণায় গুরুত্বপূর্ণ নদীগুলো সুরক্ষা পাবে। বিবিসি বাংলাকে দেয়া সাক্ষাৎকারে তিনি আরো বলেন, মানুষকে বা একটি প্রাণকে যেভাবে আইনগত দিক থেকে প্রটেক্ট করা হয়, নদীগুলোকে রক্ষায় সেই একই ধারণা তৈরি হলে আমাদের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ নদীগুলো রক্ষা করা যাবে। এই রায়ের মূল উদ্দেশ্য সেই ধারণা থেকেই।

তিনি বলেন, এটিও মনে রাখা দরকার, নদী সুরক্ষায় অতীতের আইনগুলোর অপঘাত যেভাবে বরদাশত করেছি, এই আইনও কার্যকর করার ক্ষেত্রে অপঘাত আসে এবং সেই অপঘাত বরদাশত করি, তাহলে কোনো লাভ হবে না। পৃথিবীর বেশকিছু দেশে নদীকে মানবিক বা প্রাণতুল্য অধিকারের ধারণার মধ্য দিয়ে নদীর সুরক্ষা নিশ্চিত করা হয়।
হাইকোর্টের একটি বেঞ্চ ঢাকার পাশ দিয়ে প্রবাহিত তুরাগ নদীকে জীবন্ত সত্ত্বা বলে ঘোষণা করেছেন। আইনজীবীরা বলছেন, এর মানে হলো, একজন মানুষের মতোই এই নদীর ক্ষেত্রেও আইনী অধিকার স্বীকৃত হলো। এর আগে গঙ্গা নদীকে জীবন্ত সত্ত্বা বলে ঘোষণা করেছিলো ভারতীয় আদালত।

বাপা’র ইকবাল হাবিব বলেন, নদী রক্ষায় আগের রায়গুলোর কোনো ফল হয়নি বলেই ভারতের মতো বাংলাদেশেও নতুন এই চেষ্টা। প্রাণীকুল, মানুষ ও মানবিক বিষয়গুলোর গুরুত্ব নদী বা বস্তুগত জিনিসের চেয়ে বেশি, সেই জায়াগায় আইনগত প্রটেকশন বাড়ানোর স্বার্থেই এই রায়টি ঘোষণা করা হয়। প্রতিবেশি রাষ্ট্র ভারতেও এরকম রায়ের পরে তাদের মধ্যে চিন্তার পরিশোধন দেখা যায়। তারই একটি পুনরাবৃত্তি এখানেও হতে পারে।

বাংলাদেশেও ভারতের মতো একইরকম পরিবর্তন সম্ভব বলে মনে করেন কী না এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, একই রকমের ধারণা যেহেতু প্রতিবেশী রাষ্ট্রে হয়েছে, এখানেও হওয়ার সম্ভাবনা প্রবল। এমন একটি সময়ে বিষয়টি হয়েছে, যখন সরকারও এই বিষয়ে সুদৃঢ় মনোভাব নিয়ে এগোচ্ছে। নদীর বিপক্ষে যাদের অবস্থান তাদের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান পরিলক্ষিত হচ্ছে।
সামগ্রিক অর্থেই এক ধরণের সমর্থনযোগ্য পরিবেশ বর্তমানে বিরাজ করায় নদীরক্ষায় এই রায় সহায়ক ভূমিকা পালন করবে বলে বিশ্বাস করেন এই পরিবেশবাদী।

সর্বাধিক পঠিত