প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

মাথায় কতো প্রশ্ন আসে দিচ্ছে না কেউ জবাব তার…

মোজাম্মেল হোসেন মঞ্জু  : দুর্নীতি দমন কমিশনের চেয়ারম্যান ইকবাল মাহমুদ ২৯ জানুয়ারি ২০১৯ সাংবাদিকদের কাছে সখেদে বলেছেন, ‘দুদকের কাজ কী তা যদি কেউ শেখায় তাহলে তো সমস্যা। আমাদের আইন আছে, তফসিলভুক্ত যে অপরাধ আছে, সে বিষয়ে আমরা কাজ করবো।’…

সন্দেহ কী? কমিশনের কাজ আইন অনুযায়ী কমিশনই করবেন। তাদের চেয়ে ভালো কে বুঝবে? বর্তমান কমিশন আগের কমিশন ও ব্যুরোর চেয়ে অনেক সক্রিয়। দুদকের আইন, তফসিল, বিধিমালা ভালো করে পড়ে দেখবো ঠিক করেছি। তবে আইন ও তফসিলে যা-ই থাক, অগ্রাধিকার বিষয়টাও উপেক্ষা করার নয়। মাথায় কিছু প্রশ্ন কিলবিল করছে। যেমন : ১. দুর্নীতি এবং দায়িত্বে অবহেলা বা নিয়মানুবর্তিতার অভাব কী সমার্থক? কর্মস্থলে অনুপস্থিতি বা বিলম্বে উপস্থিতি কী দুর্নীতি না অনিয়ম বা শৃঙ্খলা ভঙ্গ? সরকারি হাসপাতালে ৪০শতাংশ ডাক্তার অনুপস্থিত থাকলে, নার্সরা রোগী সেবার কাজ না করলে হাসপাতালের পরিচালক, সুপার ও সিভিল সার্জনরা জবাবদিহি হবেন না কেন? দুদক টিমকে কেন জেলার হাসপাতাল ও স্বাস্থ্যকেন্দ্রে ঘুরে ঘুরে ডাক্তারদের রোল কল করতে হবে?

২. স্বয়ং দুদক চেয়ারম্যানকে মফস্বলের সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে গিয়ে শিক্ষকদের রোল কল করতে হলো? প্রধান শিক্ষক, উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা, অধিদপ্তর, মন্ত্রণালয় সব গুবলেট?
৩. সরকারি স্বাস্থ্য খাতে বড় বড় দুর্নীতি প্রধানত মেডিকেল সরঞ্জাম, মেশিনপত্র ও ঔষধ ক্রয়ে। সারাবছর গণমাধ্যমে কেনাকাটা ও ঠিকাদারি সিন্ডিকেটেড দুর্নীতির খবর থাকে। ২০১৭ সালে এ বিষয়ে দুদক বিশেষ অনুসন্ধান চালিয়ে প্রতিবেদন দিয়েছিলো। ক’টা দুর্নীতিবাজ ধরেছে দুদক? এখন হঠাৎ রোল কলে নেমে চিকিৎসা পেশাজীবীদের গণভাবে কাঠগড়ায় দাঁড় করানো কেন?

৪. পাকিস্তান ও বাংলাদেশে বরাবর দেখেছি সামরিক স্বৈরাচারীরা ক্ষমতা দখল করে প্রথমেই ‘দুর্নীতির বিরুদ্ধে জিহাদ ঘোষণা’ করতেন। একটা লক্ষ্য ছিলো উৎখাতকৃত রাজনৈতিক সরকারকে দুর্নীতির জন্য দায়ী করা এবং অপর লক্ষ্য সস্তা জনপ্রিয়তা। তবে প্রতিবার সামরিক শাসনামলে দুর্নীতি বেড়ে গেছে। ২০০৯-১৪ মেয়াদ দুই-তৃতীয়াংশের বেশি সংখ্যাগরিষ্ঠতা ও ২০১৪-১৯ মেয়াদ প্রকৃত বিরোধী দলবিহীন তথা টানা দশ বছর একচ্ছত্র ক্ষমতা নিয়ে দেশ চালানোর পর তৃতীয় দফায় ততোধিক নিরঙ্কুশ ক্ষমতার অধিকারী আওয়ামী লীগ সরকার ‘দুর্নীতির প্রতি জিরো টলারেন্স’ তাদের অগ্রাধিকার ঘোষণা করেছে। দুর্নীতির জন্য পূর্ববর্তী সরকার বা কোনো প্রতিপক্ষ রাজনৈতিক শক্তিকে দায়ী করার সুযোগ নেই এ সরকারের। ফলে আমরা আশা করতে পারি কী যে, জিরো টলারেন্স নীতি সত্যিই বাস্তবায়িত হয়ে দুর্নীতির টুঁটি চেপে ধরবে? ফেসবুক থেকে

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত