প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

আজ থেকে “পদ্মা ব্যাংক” নামে চালু হচ্ছে ফারমার্স ব্যাংক

রমজান আলী: ঋণ কেলেঙ্কারিসহ নানা অনিয়মের অভিযোগে সমালোচিত ফারমার্স ব্যাংকের নাম পরিবর্তন করে ‘পদ্মা ব্যাংক’ করার অনুমতি চেয়ে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কাছে আবেদন করেছিল বর্তমান পরিচালনা পরিষদ। তাই বাংলাদেশ ব্যাংক ব্যাংকটির নতুন এই নামের অনুমোদন দিয়েছে।

বুধবার কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ব্যাংকিং প্রবিধি ও নীতি বিভাগ থেকে জারি করা ‘দি ফারমার্স ব্যাংক লিমিটেড’ এর নাম পরিবর্তন করে পদ্মা ব্যাংক লিমিটেড নামকরণ’ শীর্ষক এক সার্কুলারে বলা হয়েছে, ২০১৯ সালের ২৯ জানুয়ারি মঙ্গলবার হতে তফসিলি ব্যাংকসমূহের তালিকায় ‘দি ফারমার্স ব্যাংক লিমিটেড এর নাম ‘পদ্মা ব্যাংক লিমিটেড’ হিসেবে পরিবর্তন করা হয়েছে। সার্কুলারটি সব ব্যাংকের প্রধান নির্বাহীদের কাছে পাঠানো হয়েছে।

রাজনৈতিক বিবেচনায় ২০১২ সালে অনুমোদন পাওয়া ৯টি ব্যাংকের মধ্যে ফারমার্স ব্যাংকটি একটি। পরিচালনা পরিষদের সদস্যদের যোগসাজশে আমানতকারীদের অর্থ লোপাটে অস্তিত্বের সংকটে পড়ে ব্যাংকটি। তাই গত ২৭ নভেম্বর ব্যাংকটির পরিষদ থেকে পদত্যাগে বাধ্য হন সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মহীউদ্দীন খান আলমগীর। একই দিন ব্যাংকটির অডিট কমিটির চেয়ারম্যান মাহবুবুল হক চিশতীকেও সরিয়ে দেওয়া হয়। এরপর ব্যাংকের এমডি একেএম শামীমকে অপসারণ করে বাংলাদেশ ব্যাংক। পরে পরিচালনায় নতুন নেতৃত্ব আনা হলেও আমানতকারীদের টাকা ফেরত দিতে পারছে না ব্যাংকটি। আগের দেনা পরিশোধেই সরকারি ব্যাংকের টাকা শেষ হয়ে যাচ্ছে। এ কারণে আর্থিক সংকট কাটছে না ব্যাংকটির।

সংকটে পড়া ফারমার্স ব্যাংক ২০১৭ সালে ৫৩ কোটি টাকা নিট লোকসান করেছে। বছর শেষে ব্যাংকটির আমানত কমে হয়েছে ৪ হাজার ৬৭৩ কোটি টাকা। অথচ ব্যাংকটির ঋণ ৫ হাজার ১৩০ কোটি টাকা।

তবে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের পরিদর্শনে নতুন করে ব্যাংকটির আরও যেসব আর্থিক অনিয়ম বেরিয়ে আসছে, তা হিসাবে নিলে লোকসান বাড়বে কয়েক গুণ। বিতরণ করা ঋণের অর্ধেকের বেশি ফেরত না আসার আশঙ্কা কেন্দ্রীয় ব্যাংকের। গত বছরের শেষের দিকে ফারমার্স ব্যাংকে সরাসরি হস্তক্ষেপ করে বাংলাদেশ ব্যাংক। বড় লেনদেনে অনিয়মের তদন্ত করতে গিয়ে জঘন্য অপরাধটি খুঁজে পেয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। এ কারণে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের প্রতিবেদনে আলমগীর ও চিশতীর নৈতিক স্খলন ঘটেছে বলে উল্লে করা হয়েছে।

এদিকে আমানতকারীদের টাক ফেরত দিতে না পারার বড় ধরনের প্রভাব পড়েছে পুরো ব্যাংক খাতে। আমানতকারীদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। অন্য ব্যাংক থেকে আমানত তোলার প্রবণতা বাড়ায় ব্যাংক খাতে তারল্যসংকট দেখা দিয়েছে। বেড়ে গেছে সুদের হার। পাশাপাশি ব্যাংকগুলোর ঋণ কার্যক্রমেও একধরনের স্থবিরতা নেমে এসেছে।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের মার্চ শেষে ফারমার্স ব্যাংকের আমানত ছিল ৪ হাজার ৮৫৭ কোটি টাকা। একই সময়ে ব্যাংকটি ঋণ দিয়েছে ৫ হাজার ২৮ কোটি টাকা। আমানতের চেয়ে ১৭১ কোটি টাকা বেশি ঋণ বিতরণ করেছে। ব্যাংকটিতে এখন খেলাপি ঋণ ৯৬৭ কোটি টাকা, যা ব্যাংকটির বিতরণ করা ঋণের প্রায় ১৯ শতাংশ। বিপর্যস্ত ব্যাংকটি ২০১৭ সালে ৫৩ কোটি টাকা লোকসান দিয়েছে।

ব্যাংকটিকে বাচানোর জন্য সরকারিভাবে উদ্যোগ নেয়া হলে, রাষ্ট্রায়ত্ত পাঁচ ব্যাংক থেকে ৭১৫ কোটি টাকার মূলধন দিয়ে অর্থ জাগান দেয়।

জানা গেছে, চলতি বছরের মে মাসে ফারমার্স ব্যাংকে ৭১৫ কোটি টাকা মূলধন জোগান দিয়েছে রাষ্ট্রায়ত্ত এ পাঁচ প্রতিষ্ঠান। নতুন করে জোগান দেওয়া মূলধন যুক্ত হয়ে ফারমার্স ব্যাংকের পরিশোধিত মূলধনের পরিমাণ দাঁড়ায় এক হাজার ১১৬ কোটি টাকা।

এ প্রসঙ্গে ফারমার্স ব্যাংকে ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. এহসান খসরু বলেন, নতুন পরিকল্পনা অনুয়ায়ী পদ্মা ব্যাংক চলবে। গ্রাহক ও আমরা কেউ ফারমার্স ব্যাংকে অনুসরণ করতে চায় না। তাই যে নানা অনিয়মের অভিযোগে রয়েছে সেগুলোকে পুনরুদ্ধার করা হবে। পদ্মা ব্যাংক গ্রাহকের আস্থা অর্জন করার চেষ্টা করবে।

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত