প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

মানিলন্ডারিংয়ের অভিযোগে ক্রিসেন্ট গ্রুপের ৩ প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে মামলা, এমএ আজিজ গ্রেফতার

স্বপ্না চক্রবর্তী : মানিলন্ডারিংয়ের অভিযোগে ক্রিসেন্ট গ্রুপের ৩ প্রতিষ্ঠানের মামলা করেছে শুল্ক গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তর। আটক করা হয়েছে মামলার অন্যতম আসামী প্রতিষ্ঠানটির কর্ণধার আব্দুল আজিজকেও। বুধবার শুল্ক গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তর সূত্রে জানা যায়, ক্রিসেন্ট লেদার প্রোডাক্টস লিঃ, রিমেক্স ফুটওয়্যার লিঃ ও ক্রিসেন্ট ট্যানারিজ লিঃ এর নামে পর্যায়ক্রমে ৪২২.৪৬ কোটি টাকা, ৪৮১.২৬ কোটি টাকা ও ১৫.৮৪ কোটি টাকা অর্থাৎ সর্বমোট ৯১৯.৫৬ কোটি টাকার সমপরিমাণ বৈদেশিক মুদ্রা মানিলন্ডারিংয়ের মাধ্যমে বিদেশে পাচার করার অভিযোগে এ মামলা করে।

এত বড় পরিমাণ মানিলন্ডারিংয়ের অভিযোগে শুল্ক গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তর মানিলন্ডারিং প্রতিরোধ আইন, ২০১২ (সংশোধিত ২০১৫) অনুযায়ী রিমেক্স ফুটওয়্যার লিঃ এর চেয়ারম্যান আব্দুল আজিজ ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক লিটুল জাহান (মিরা) এবং অন্য দুটি প্রতিষ্ঠান ক্রিসেন্ট লেদার প্রোডাক্টস লিঃ ও ক্রিসেন্ট ট্যানারিজ লিঃ এর চেয়ারম্যান এম.এ. কাদের এবং ব্যবস্থাপনা পরিচালক সুলতানা বেগম (মনি) ও জনতা ব্যাংক লি: এর সংশ্লিষ্ট ১৩ জন কর্মকর্তাকে আসামী করে গতকাল বুধবার চকবাজার মডেল থানায় পৃথক ৩টি মামলা দায়ের করলে অন্যতম আসামী আব্দুল আজিজকে রাজধানীর কাকরাইল শুল্ক গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তর থেকে আটক করা হয়।

মামলার বিবরণে জানা যায়, ক্রিসেন্ট লেদার প্রোডাক্টস লিমিটেড এর কাছে জনতা ব্যাংকের ইমামগঞ্জ কর্পোরেট শাখা কর্তৃক রপ্তানি বিল ক্রয় করা হয়েছে কিন্তু ৪ (চার) মাসের মধ্যে প্রত্যাবাসিত হয়নি এরূপ বিলের সংখ্যা ২১৫টি; জড়িত অর্থের পরিমাণ ৪২৮.৫৩ কোটি টাকা। পরবর্তী ৭ (সাত) মাসে অর্থাৎ ৩১ অক্টোবর, ২০১৮ পর্যন্ত ২১৫টি বিলের মধ্যে মাত্র ৩ (তিন) টি বিলের বিপরীতে ৫.৯৭ কোটি টাকা প্রত্যাবাসিত হয়েছে। ফলে ২১২টি বিলের বিপরীতে ৪২২.৪৬ কোটি টাকা অপ্রত্যাবাসিত রয়েছে। ব্যাংকটি অভিযোগ করে, ক্রিসেন্ট লেদার প্রোডাক্টস লিঃ এর মালিকরা পারষ্পরিক যোগসাজসে ৪২২.৪৬ কোটি টাকার সমপরিমাণ বৈদেশিক মুদ্রা বিদেশে পাচার করেছে।

এদিকে একই অভিযোগ পাওয়া যায় রিমেক্স ফুটওয়্যারের নামেও। প্রতিষ্ঠানটি জনতা ব্যাংকের একই শাখা থেকে রপ্তানি বিল কিনে। কিন্তু ৪ (চার) মাসের মধ্যে প্রত্যাবাসিত হয়নি এরূপ বিলের সংখ্যা ২৪২টি। জড়িত বিলের পরিমাণ ৪৮৫.৩৭ কোটি টাকা। পরবর্তী ৭ (সাত) মাসে অর্থাৎ ৩১ অক্টোবর, ২০১৮ পর্যন্ত ২১৫টি বিলের মধ্যে মাত্র ২ (দুই)টি বিলের বিপরীতে ৪.১১ কোটি টাকা প্রত্যাবাসিত হয়েছে। ফলে এই প্রতিষ্ঠানটির ৪৮১.২৬ কোটি টাকার সমপরিমাণ বৈদেশিক মুদ্রা বিদেশে পাচার করেছে বলে অভিযোগ করে ব্যাংক কর্তৃপক্ষ। একই অভিযোগ ক্রিসেন্ট ট্যানারিজের নামেও প্রমাণ পাওয়ায় এই মামলা দায়ের করা হয়।

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বাধিক পঠিত