প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

কমলগঞ্জ স্বাস্থ্যকেন্দ্রে চিকিৎসক সংকট,ব্যাহত হচ্ছে স্বাস্থ্যসেবা

সাদিকুর রহমান সামু, (কমলগঞ্জ) মৌলভীবাজার : স্বাস্থ্যসেবা মানুষের হাতের নাগালে পৌঁছে দেয়ার লক্ষ্যে বর্তমান সরকার নিরলস চেষ্টা চালিয়ে গেলেও মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কেন্দ্রে চিকিৎসক সংকটের কারনে ব্যাহত হচ্ছে স্বাস্থ্যসেবা। এই উপজেলায় প্রায় ৩লক্ষ মানুষের বসবাস। উপজেলার একমাত্র স্বাস্থ্য কেন্দ্রটি ৫০ বছর পর ৩১ শয্যা থেকে ৫০ শয্যায় উন্নিত হয়েছে গত বছর। সরকার ৫০শয্যায় উন্নিত করলেও পর্যাপ্ত ডাক্তার নিযোগ দেয়নি। আর ডাক্তার সংকটের কারণে ডি,এম,এফ (উপ-সহকারী মেডিকেল অফিসার) দিয়ে স্বাস্থ্য সেবা থেকে শুরু করে ফার্মাসিষ্টের দ্বায়িত্ব পালন করানো হচ্ছে।

কমলগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স সূত্রে জানা যায়, কমলগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সটি গত বছরের ১০মার্চ ৩১ শয্যা থেকে ৫০ শয্যার কার্যক্রম শুরু করলেও এমবিবিএস ডাক্তার, স্টাফ, প্রয়োজনীয় আসবাবপত্র, এক্সরে, জেনারেটর, অপারেশনের যন্ত্রপাতি, অক্সিজেন সংকটের কারণে উপজেলার মানুষেরা চিকিৎসা সেবা পাচ্ছে না। হাসপাতালটিতে বিভিন্নপদে ২৪ জন এমবিবিএস ডাক্তার থাকার কথা থাকলেও ২০জন চিকিৎসকের পদ শূণ্য রয়েছে।

এছাড়া ১১ উপস্বাস্থ্য কেন্দ্রে মেডিক্যাল অফিসার, ২জন নার্স, ১জন পরিসংখ্যান, ৪জন ফার্মাসিস্ট, ১জন উপ-সহকারী মেডিক্যাল অফিসার, ১ জন এম.টি ল্যাবরেটরী, ১ জন এম.টি রেডিও, ১ জন সহকারী নার্স, ২ জন স্বাস্থ্য পরিদর্শক, ১জন সহ-স্বাস্থ্য পরিদর্শক,১জন অফিস সহায়ক, ১ জন কুকের শূণ্যপদ রয়েছে। কমলগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সটি ৫০ শয্যায় উন্নিত হওয়ার দীর্ঘ ১০ মাস অতিবাহিত হলেও ২০ টি পদে কোন নিয়োগ দেওয়ায় চরম বিপাকে পড়েছেন হতদরিদ্র মানুষ। হাসপাতালে ৪ জন ডাক্তার থাকায় ডিএমএফ ডাক্তার দ্বারা পরিচালিত হচ্ছে অন্ত:বিভাগ ও বহি:বিভাগ।
এতে করে চিকিৎসার সংকটের কারনে এখানকার মানুষরা স্বাস্থ্য ঝুঁকিতে রয়েছে।

তাছাড়া ফার্মাসিষ্ট না থাকায় ফার্মাসিষ্টের কাজ চালাচ্ছেন হাসপাতালের পিয়ন ও ডিএমএফ ডাক্তার। সরকারি সব সুযোগ-সুবিধা থাকার পরেও ডাক্তার সংকটের কারণে ব্যাহত হচ্ছে স্বাস্থ্যসেবা। উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ডাক্তার সংকটের কারণে দীর্ঘদিন ধরে পর্যাপ্ত স্বাস্থ্যসেবা না থাকায় মূল্যবান যন্ত্রপাতিগুলো নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। এ বিষয়ে আলাপকালে কমলগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা: মোহাম্মদ ইয়াহইয়া বলেন, অবকাঠামো ও আবাসিক ব্যবস্থা সম্পূর্ণ প্রযোজনীয় যন্ত্রপাতি ও উপকরণ সরবরাহ কার্যক্রম চলমান, ডাক্তার স্বল্পতা বিদ্যমান। ২৪ জন ডাক্তারের মধ্যে ৪ জন কর্মরত রয়েছেন। শূণ্যপদে জনবল নিয়োগের প্রক্রিয়া চলমান।

নভেম্বর ২০১৮ এর ৪০তম বিসিএসএর মাধ্যমে চিকিৎসক নিয়োগ সম্পূর্ণ হবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন। নার্স এবং অন্যান্য স্বাস্থ্যকর্মী পর্যাপ্ত সংখ্যক রয়েছে। ২টি এম্বোলেন্স সচল আছে। এক্সরে মেশিনটি অচল অবস্থায় পরে আছে। নতুন এক্সরে মেশিনের জন্য সুপারিশ করা হয়েছে। শীঘ্রই পাওয়া যাবে বলে আশা করা যাচ্ছে। মাতৃস্বাস্থ্য,শিশু স্বাস্থ্য ও অন্যান্য সংক্রামক রোগের ব্যবস্থাপনা বিদ্যমান। নিরাপদ ডেলিভারী সংখ্যা সন্তোষ জনক,আরো বাড়ানোর চেষ্টা চলছে। বহি:বিভাগে প্রতিদিন গড়ে ৩০০-৪০০ রোগী চিকিৎসা গ্রহণ করে।

৩১ শয্যা থেকে ৫০ শয্যায় উন্নীত হওয়ার পর থেকে সরকার নির্ধারীত সীমিত সার্ভিস চার্জ গ্রহণ করা হয়। চিকিৎসক স্বল্পতার কারণে চিকিৎসা ব্যবস্থা ব্যাহত হচ্ছে। উদ্ধর্তন কর্তৃপক্ষকে এ বিষয়ে অবগত করা হয়েছে। মাঠ পর্যায়ে ২৫টি কমিনিউটি ক্লিনিক ও ৩টি উপস্বাস্থ্য কেন্দ্রের মাধ্যমে স্বাস্থ্যসেবা পরিচালিত হচ্ছে।

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বাধিক পঠিত