প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় মস্তিষ্কের জটিল রোগে আক্রান্ত ইশরাককে বাঁচাতে মায়ের আকুতি

তৌহিদুর রহমান নিটল, ব্রাহ্মণবাড়িয়া : চোখের সামনে যন্ত্রণায় ছটফট করছে নাড়ী ছেড়া ধন। আর গর্ভধারনী তার সামনে বসে কাঁদছেন। কান্নাই এখন যেন তার একমাত্র সম্বল। ব্রাহ্মণবাড়িয়া শহরের কাজিপাড়ার মোবারক হোসেন-আমেনা দম্পতির প্রথম সন্তান ইশরাক। জন্মের পর থেকেই সে ভুগছে মস্তিষ্কের জটিল রোগে। চিকিৎসা ব্যয়ে সহায় সম্পত্তি সব শেষ হলেও সন্তানের শারিরিক অবস্থার কোন উন্নতি হয়নি। নিঃস্ব পরিবারটির পক্ষে এখন আর চিকিৎসা চালানো সম্ভব না হওয়ায় গত তিন সাপ্তাহ ধরে ইশরাকের সঙ্গী হয়েছে ঘরের বিছানা। অসহায় মায়ের আর্তনাদ, চান প্রধানমন্ত্রীর কাছে তার ছেলের প্রাণভিক্ষা।

মায়ের কোলেও ঠিকমত বসতে পারছেনা শিশু ইশরাক। মুখে খাবার নেয়ার শক্তি না থাকায় তাকে খাবার দেয়া হচ্ছে কৃত্রিম উপায়ে। মাঝে মধ্যে আংশিক চোখ খুলে তাকাতে পারলেও অধিকাংশ সময়ই থাকে অচেতন অবস্থায়। চোখের সামনেই সন্তানের যন্ত্রণায় ছটফট করা দেখেও পাষাণের মত তাকে ফেলে রেখেছেন এক মা। কিইবা আর করার আছে এ মায়ের? অসহায়ত্ব তাকে আকড়ে ধরেছে। এ চিত্র ব্রাহ্মণবাড়িয়া শহরের কাজী পাড়ার দরগা মহল্লার বাসিন্দা সৈয়দ মোবারক হোসেনের বাসার।

১২ বছর আগে মোবারক-আমেনা দম্পতির ঘর আলো করে আসে এ শিশু । জন্মের ১ বছর বয়সেই চিকিৎসক জানায় তার মস্তিষ্কে পানি রয়েছে। একাধিকবার অপারেশনের মাধ্যমে মস্তিষ্কের পানি অপসারণ করা হলেও তা স্থায়ী সমাধান হয়নি। ২০১২ সালে সবশেষ অপারেশনে মস্তিস্কের টিউমারের ৪০ ভাগ অপসারণ করা গেলেও ৬০ ভাগ থেকে যায়। এরপর বেশ কয়েকবছর সুস্থ থাকলেও গত ৩ সপ্তাহ আগে থেকে সে মূমূর্ষ অবস্থায় রয়েছে। ভিটে মাটি ও জমি-জমা বিক্রী করে ছেলের চিকিৎসার খরচ মিটিয়ে দীর্ঘদিন চিকিৎসা করে পরিবারটি প্রায় নিঃস্ব। চিকিৎসা খরচ মেটাতে ও অসুস্থ সন্তানকে সারিয়ে তুলার আশায় পিতা মোবারক হোসেন দেড় বছর আগে পাড়ি দেন সৌদি আরবে। কিন্তু আকামা (কাজের অনুমতিপত্র) না থাকায় সেখানে সে কর্মহীন অবস্থায় দিন কাটাচ্ছে। তাই নতুন করে তাকে আর চিকিৎসা করাতে পারছেনা পরিবারটি। শিশুটিকে বাঁচিয়ে তুলতে প্রধানমন্ত্রীর সহযোগিতা কামনা করেছেন পরিবারটি।

শিশু ইশরাকের চিকিৎসক স্যার সলিমুল্লা মেডিকেল কলেজ ও মিটফোর্ড হাসপাতাল সহকারী অধ্যাপক ডাঃ সনৎ কুমার সাহা এই প্রতিবেদককে বলেন, এদিকে দ্রুত উন্নত চিকিৎসা করলে এখনো শিশুটির জীবন বাঁচানো সম্ভব ।

৬বছর আগে তার ব্রেইন টিউমারটি অপারেশন করা হয়ে ছিল, আবার নতুন করে টিউমারটি হয়, আমি যখন তাকে চিকিৎসা দিয়ে ছিলাম তখন কিছুটা উন্নতি হয়। বর্তমানে তার অবস্থা খারাপ তবে দ্রুত ঢাকায় নিয়ে ভাল কোন ইনিস্টিটিউটে তার অপারেশনের ব্যবস্থ করতে হবে বলে তিনি জানান।

সকলের সহযোগিতাই বাঁচাতে পারে শিশু ইশরাকের প্রাণ। সমাজের বিক্তবান ও দানশিল ব্যক্তিদের সহয়তা কামনা করেছেন তার পরিবার । শিশুটিকে সহায়তা পাঠানোর ঠিকানা হিসাবনম্বর- সাজিয়া রহমান, ২১২১৫১০০৪৫৭১২ ডাচ বাংলা ব্যাংক।

সর্বাধিক পঠিত